মেজাজ হারিয়ে নিজের দলের কর্মীকেই সপাটে চড় মারলেন মমতা

 

কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাড়ির সামনে ভিড় সামলাতে গিয়ে একাধিক তৃণমূল কর্মীর গায়ে চড়-থাপ্পড় মেরেছেন দলটির নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার (৮ জুলাই) হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তার বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গত রোববার বারুইপুরে এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেদিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যেতে চেয়েছিলেন মমতা। তবে সন্ধ্যা থেকেই কালীঘাটের বাসভবন পুলিশি নজরদারিতে ঘিরে ফেলার অভিযোগ ওঠে তার দলের পক্ষ থেকে।

বুধবার হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে পথে নামেন কালীঘাট তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মিছিল চলাকালে হাজরা চত্বরে বিজেপির একটি মিছিলের মুখোমুখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজরার কাছে অন্য একটি মিছিল প্রবেশ করলে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি বেধে যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, এ ঘটনার নেপথ্যে বিজেপি জড়িত এবং এভাবে মিছিলে অনুপ্রবেশ আদালত অবমাননার শামিল।

সংঘর্ষের জেরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় বেশ কয়েকজন কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দলীয় কর্মীরা মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজেই ভিড় নিয়ন্ত্রণে নামেন মমতা এবং হাত দিয়ে সবাইকে সরে যেতে ইশারা করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ফোনের ক্যামেরা হাতে থাকা অনেকে জায়গা ছাড়তে না চাইলে ভিড়ের চাপে আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিশৃঙ্খলা আরও তীব্র হয়, আর তখনই মেজাজ হারান মমতা।

প্রথমে মাইক হাতে ভিড় সামলানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। একপর্যায়ে কমলা রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তির গালে চড় মারতে দেখা যায় তাকে, যিনি সূত্রের দাবি অনুযায়ী একজন তৃণমূল কর্মী। এরপর আরও কয়েকজন কর্মীর পিঠেও থাপ্পড় মারেন তিনি। এই আচরণের সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট না হলেও ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থেকেই এমনটা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন মমতা। বারুইপুরে প্রতিবাদকারীদের ‘দাঙ্গাকারী’ আখ্যা দেওয়ারও প্রতিবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের অনুমতি নিয়েই এই মিছিল হচ্ছে। কিন্তু বিজেপির লোকজন সকালে আমার বাড়িতে এসে চিৎকার করে ভয় দেখিয়েছে।’ পুলিশি নজরদারি ও চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েও প্রশাসন তাদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। মিছিলে হ্যান্ডমাইক ব্যবহারের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.