যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান

 

যুদ্ধ বন্ধের জন্য স্থায়ী চুক্তিতে যেতে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে সমঝোতা স্মারকে সই করেন ট্রাম্প। পরে প্রাসাদ ছাড়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা সই হয়েছে। আমি ভার্সাইতে মাত্রই এটাতে সই করেছি।’

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭-এর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ট্রাম্প ফ্রান্স সফরে রয়েছেন।

ট্রাম্পের সমঝোতা স্মারকে সই করার একটি ছোট্ট ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভার্সাইয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তিতে সই করেছেন।’

ইরানের পক্ষ থেকেও বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দেশটির প্রেসিডেন্টের সমঝোতা স্মারকে সই করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনাকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের সই করার মধ্য দিয়ে সমঝোতা স্মারকের খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে— এখন এ চুক্তির বাস্তবায়ন যাচাই করার সময় এসেছে।’

ইসমাইল বাঘাই জানান, সমঝোতা স্মারকটি ইলেকট্রনিকভাবে সই হয়েছে। অর্থাৎ দুই দেশের প্রেসিডেন্ট দূরবর্তী দুটি অবস্থানে থেকে এ সমঝোতায় সই করেছেন। তিনি বলেন, এটা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিকতার পরিকল্পনা নেই ইরানের।

এর আগে সুইজারল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, স্থানীয় সময় শুক্রবার দেশটির লুসার্ন হ্রদের পাহাড়ি এলাকায় একটি বিলাসবহুল হোটেলে চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠান হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ উপস্থিত থাকবেন। তবে এক দিন আগেই এতে সই করার কথা জানাল দুই দেশ।

ইসমাইল বাঘাই ইরনাকে বলেন, ‘যখন কোনো নথিতে দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সই করেন, তখন সেটি লঙ্ঘনের মূল্য স্বাভাবিকভাবে অনেক চড়া হয়। অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা চেয়েছিলাম, বিষয়টি এভাবেই হোক।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এ সমঝোতা স্মারকের মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্সে পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘এখন এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

এর আগে বুধবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের নথি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ১৪ দফার এ নথি পড়ে শোনান।

সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে আলোচনার সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে বলে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়েছে এতে।

এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.