তারেক রহমানের বিদেশ সফর ও ভারত সম্পর্ক : কী বলছে দ্য হিন্দু

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বিদেশ সফর ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। কারণ ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার সম্পর্কের নিজস্ব এক ভিন্ন গুরুত্ব, গভীরতা ও বাস্তবতা রয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’কে দেশটির একটি উচ্চপদস্থ সরকারি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন। আর এই সফর শেষ করে দেশে ফেরার পরই জুলাই মাসে তাঁর ভারত সফরের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে বিএনপি সূত্রগুলো ‘দ্য হিন্দু’কে নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে যে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠে সম্পর্ককে আবার ইতিবাচক ও গঠনমূলক পথে ফিরিয়ে আনতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে ভারত। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বার্তাতেও সেই ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী যে আপত্তি তুলেছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় সূত্র।

ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাইকমিশনারের বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ত্রিবেদী দুই দেশের ভূখণ্ডগত এক হয়ে যাওয়ার কথা বলেননি; বরং সংলাপের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার ঐতিহাসিক ঐক্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও জোরদার করার কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দ্য হিন্দুকে স্পষ্ট করেছে যে, ভারতের আমন্ত্রণ অনুযায়ী চীন সফর শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর চূড়ান্ত হতে পারে।

নয়াদিল্লির মতে, বাংলাদেশের সাথে ভারতের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার যে ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, তা অন্য কোনো দেশ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরকে ভারতের সাথে সম্পর্কের প্রতিযোগী বা প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখছে না মোদি প্রশাসন।

(তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.