সংস্কৃতির সব প্রকাশ যেন নির্বিঘ্ন হয় : ছায়ানট সভাপতি

কোনো অপশক্তিই ভয় দেখিয়ে বাঙালির চিরায়ত গান ও সংস্কৃতিকে থামিয়ে রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বলেছেন, ‘সংস্কৃতির সব প্রকাশ যেন নির্বিঘ্ন হয়। বাঙালি যেন শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করে। শুনতে চান সমাজের অভয়বাণী-সবাই যেন নির্ভয়ে গাইতে পারে।’

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানী রমনার বটমূলে ‘বর্ষবরণ-১৪৩৩’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলা সংস্কৃতিতে কিছু ভয়াবহ স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন ছায়ানট সভাপতি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতি তথা জাতিসত্তা উন্মোচনের এক বিশেষ দিন। বিগত ছয় দশকের মতো এই দিনে আমরা সব গ্লানি, জরা মুছে ফিরে দেখি ফেলে আসা বছরকে। গত বছরেও রমনায় নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়েছে নববর্ষের অনুষ্ঠান।’

তিনি বলেন,১৬ ডিসেম্বর উন্মুক্ত মঞ্চে হলো বিজয় দিবসের আয়োজন। এর দুইদিন পরই গভীর রাতে ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনে ভাঙা হারমোনিয়াম-তবলা-তানপুরা এবং নালন্দার ছিন্নবিচ্ছিন্ন শিশুপুস্তকের দুঃসহ স্মৃতি। সেই রাতেই অগ্নিসংযোগ করা হয় দুই শীর্ষ সংবাদপত্র ভবনে। পরদিন আক্রান্ত উদীচী। এই সহিংস ঘটনাবলির কদিন আগেই অপদস্থ হয়েছেন বাউলশিল্পীরা। স্মরণে জেগে ওঠে এই বটমূলে ২০০১ সালের ভয়াবহ অঘটন।

সারওয়ার আলী বলেন, যে সংগীত বাঙালির আনন্দ-বেদনা-মিলন-বিরহ-সংকটের সঙ্গী; মুক্তিযুদ্ধ থেকে সব অধিকার অর্জনের অবলম্বন; সব ধর্ম-জাতির মানুষকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে; কোনো অপশক্তি ভয় দেখিয়ে সেই সংগীত থেকে শান্তিপ্রিয় মানুষকে নিরস্ত করতে চায়। তারা আবহমান বাংলা গানকে তার সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার থেকে শিকড় বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যত।

সমাজে বেড়েছে অসহিষ্ণুতা। বেড়েছে আপন মতপ্রকাশে দলবদ্ধ নিগ্রহের শঙ্কা। মার্কিন-ইসরায়েলি নিগ্রহে আজ পারস্য সভ্যতাও ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন বলে উল্লেখ করেন ছায়ানট সভাপতি।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে সবাই কামনা করে বিশ্বশান্তি। শুনতে চাই, সমাজের অভয়বাণী- যেন সংবাদকর্মীরা নির্ভয়ে প্রকৃত মতপ্রকাশ করতে পারেন; সবাই যেন নির্ভয়ে গাইতে পারি; যেন সংস্কৃতির সব প্রকাশ নির্বিঘ্ন হয়- বাঙালি শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করে।’

‘এমন এক মাতৃভূমির স্বপ্ন দেখি: ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির/ জ্ঞান যেথা মুক্ত, গৃহের প্রাচীর’, যোগ করেন সারওয়ার আলী।

আজ সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজন শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ৮টা ২৫ মিনিটে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.