বিশ্ব ঐতিহ্য দিবসে ছায়ানটের নববর্ষবরণ অনুষ্ঠান ‘নবীন আশা জাগল যে রে আজ’

গত ১৮ এপ্রিল বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস উপলক্ষে রামমোহন লাইব্রেরির রায়া দেবনাথ মেমোরিয়াল হলে অনুষ্ঠিত হলো ছায়ানট (কলকাতা)-এর বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নবীন আশা জাগল যে রে আজ’। বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছায়ানটের সদস্যরা মিলিত হন প্রাণের টানে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ৬০ জন শিল্পী।

অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ছায়ানট (কলকাতা)-এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। সূচনাতেই তিনি বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে অন্তরে ধারণ করে শুধুমাত্র একটি বিশেষ দিন নয়, সারা বছর জুড়েই বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ছায়ানট এগিয়ে যাবে

 

অনুষ্ঠানে কবিতা ও সঙ্গীতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুকুমার রায়সহ সমকালীন কবিদের কবিতা বাচিকশিল্পীরা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি সোহালিয়া সিং ও ঐশানী মজুমদারের পরিবেশনা বিশেষভাবে দর্শকদের আকর্ষণ করে।

তারুণ্যের জয়গান প্রসঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্যও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়, যেখানে তিনি তরুণদের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা ব্যক্ত করেছেন।

একক কবিতায় অংশগ্রহণ করেন রাজশ্রী বসু, ইন্দ্রাণী চৌধুরী, রুনা মুখার্জী, অনিন্দিতা ঘোষ, ঐন্দ্রী বসু, আশিস বরণ মল্লিক, মিতালী মুখার্জী, রাজকুমার মুখোপাধ্যায়, অরূপ কুন্ডু, মৃন্ময়ী দে মুখার্জী, শিপ্রা কুমার, জয়িতা দত্ত, সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবরূপ পাল, স্নেহা ঘোষ, কুমকুম সাহা, সবিতা ঘোষ ও তৃপ্তি ভট্টাচার্য।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন অণ্বেষা ঘোষ, ড. বৈশাখী দাস, কুহু সেনগুপ্ত, পাপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি আইচ, কাকলি দেব ও শান্তা দাস। দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় কলাবতী সঙ্গীত বিদ্যালয়, সুমিতা মিউজিক একাডেমী, কোমল গান্ধার ও গান্ধর্বী।

পাপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় গান্ধর্বীর শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘সফল করো হে প্রভু আজি সভা’ ও ‘হেসে নাও এ দুদিন বৈ তো নয়’। কাকলী চন্দরের পরিচালনায় কলাবতী সঙ্গীত বিদ্যালয়ের শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘এসো হে বৈশাখ’, ‘প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে’, ‘আকাশ জুড়ে শুনিনু’ এবং ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা’। নন্দিনী নন্দীর পরিচালনায় কোমল গান্ধার দলের পরিবেশনায় শোনা যায় ‘প্রাণ চায় চক্ষু না চায়’ ও ‘পুরানো দিন পুরানো মন’। সুমিতা মিউজিক একাডেমীর শিল্পীরা দেবশ্রী দে সরকারের পরিচালনায় পরিবেশন করেন ‘দুচোখে হঠাৎ করে কালবৈশাখী’ ও ‘ওই উজ্জ্বল দিন’।

দিগন্তিকা দলের পক্ষ থেকে সায়ন্তনী বসু ও চৈতালী চক্রবর্তী কবিতার মাধ্যমে বৈশাখকে তুলে ধরেন। সোমঋতা মল্লিকের সাবলীল সঞ্চালনা পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই প্রেক্ষাগৃহ ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। গানে, কবিতায় এবং সম্মিলিত আবেগে বাংলা নববর্ষকে এভাবেই বরণ করে নেয় ছায়ানট (কলকাতা)।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.