ইরানি দলের ‘সফরসঙ্গী’ মিনাবের স্কুলে নিহত ১৬৮ শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানি স্পিকার বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বের প্রতিনিধি দল। এই ফ্লাইটে এক বিশেষ ঘটনা ঘটেছে। ইরানি প্রতিনিধি দল তাদের বিমানে মিনাবে ইসরায়েলি–মার্কিন হামলায় নিহত ১৬৮ শিক্ষার্থীর ছবি আলাদা আলাদা সিটে রেখে নিয়ে গেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলোচক দলের প্রধান ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে তিনি এই বিষয়ে একটি ছবি শেয়ার করেছেন।

ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, গালিবাফ ছাড়াও ইসলামাবাদে গিয়েছেন ইরানের ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন সদস্য।’ গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে তারা ইসলামবাদে পৌঁছান। ইসলামাবাদের নূর খান বিমানঘাঁটিতে তাদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার।

বাঘের গালিবাফ তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এই ফ্লাইটে আমার সফরসঙ্গীরা।’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘মিনাব ১৬৮।’

এর আগে, ইরানে হামলার শুরুর দিনেই অর্থাৎ, ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের স্কুলটিতে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিনিরা। সেদিন মিনাবের ওই স্কুলে শিশুদের ক্লাস ছিল। সকালে স্কুলে গিয়েছিল তারা। সেই স্কুলেই চালানো হয় হামলা। এতে ১৬৮ শিশু মারা যায়। পরে ৩ মার্চ গণ–জানাজার মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় সেই শিশুদের।

মিনাবের এ ঘটনার নিন্দা জানায় ইউনেসকো এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মানবাধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাইসহ অনেকে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, স্বেচ্ছায় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো রীতিমতো যুদ্ধাপরাধ। সেই মানবাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের যে দম্ভ, তারই অসারতা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে মেয়েদের সারি সারি ছোট কবরগুলো। পৃথিবীজুড়ে হানাহানি, ধ্বংস আর স্বার্থপরতার সঙ্গে যাদের কখনো কোনো যোগসাজশ ছিল না।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.