নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ২৮ ফেব্রুয়ারি: জাতীয় বিজ্ঞান দিবস উপলক্ষে ছায়ানট (কলকাতা)-এর উদ্যোগে ‘নজরুলের বিজ্ঞান-চেতনা’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ-এর সভাগৃহে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজনে নজরুলপ্রেমীদের সামনে ‘বিদ্রোহী’ কবি কাজী নজরুল ইসলাম নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ধরা দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের কর্মসচিব ড. শতাব্দী দাশ। বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও শিক্ষক শ্রী বিকাশ পণ্ডিত তাঁর সুচিন্তিত বক্তব্যে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেন।
ছায়ানটের সভাপতি সোমঋতা মল্লিক তাঁর প্রায় ৪০ মিনিটের বক্তব্যে নজরুলের ‘বিজ্ঞান-চেতনা’র বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব-জগৎ সম্পর্কে গভীর কৌতূহলী নজরুল তাঁর ‘সংকল্প’ কবিতায় লিখেছিলেন—
“পাতাল ফেড়ে নামব নীচে, উঠব আবার আকাশ ফুঁড়ে;
বিশ্ব-জগৎ দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।।’’
সোমঋতা বলেন, বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আজ মুঠোফোনের কল্যাণে মানুষ সত্যিই বিশ্বকে হাতের মুঠোয় দেখতে, জানতে ও চিনতে সক্ষম হয়েছে। ‘কৌতূহল’ শব্দটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, এই কৌতূহলই প্রশ্ন জাগায়, বিশ্লেষণ করতে শেখায়। চারপাশের ঘটনাকে আমরা অনেক সময় উপেক্ষা করলেও নজরুলের জিজ্ঞাসু মন সেগুলিকে গভীরভাবে অনুধাবন করত।

অনুষ্ঠানে পীতম ভট্টাচার্যের পরিচালনায় ‘কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র’-এর শিল্পীরা নজরুলের সাম্যবাদী ও প্রার্থনা কবিতা আবৃত্তি করেন। শিল্পীদের কণ্ঠে ‘সংকল্প’ কবিতাটি উপস্থিত দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু-কে স্মরণ করে কবিতা পাঠ করেন সুমিত্রা সরকার ও তন্দ্রা বিশ্বাস।
এদিন একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উৎপল চৌধুরী, রাজশ্রী বসু, সুরজিৎ সেন, শিউলি ভট্টাচার্য, অনিন্দিতা ঘোষ, মিতালী মুখার্জী, রাজকুমার মুখোপাধ্যায়, রুনা মুখার্জী, স্নেহাঙ্গনা ভট্টাচার্য, সায়ন্তনী বসু, ড. বৈশাখী দাস, অতসী সরকার, চিত্রা সোম বাসু, দীপান্বিতা হক, মানসী দে, মাধবী দে এবং সুচিতা ভট্টাচার্য্য। বিশেষ দিনটির তাৎপর্য স্মরণ রেখে প্রত্যেক বাচিকশিল্পীর কবিতা নির্বাচন ছিল যথাযথ।
শিশুশিল্পী আর্যদ্যুতি ঘোষ ও অর্ঘ্যদ্যুতি ঘোষের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। ইন্দ্রাণী নাগ ও সৌমিত্র শূরের যৌথ আবৃত্তি অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করে। সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সোমঋতা মল্লিক ও পীতম ভট্টাচার্য।
জাতীয় বিজ্ঞান দিবসে নজরুলের বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান উপস্থিত সকলের মনে বিশেষ দাগ রেখে যায়।

