হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। ইরানের ছয়টি গানবোট ট্যাংকারটিকে ইঞ্জিন বন্ধ করে তল্লাশির জন্য নির্দেশ দেয়, তবে মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় ট্যাংকারটি নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, ইরানি নৌযানগুলোতে .৫০ ক্যালিবার মেশিনগান ছিল এবং তারা ট্যাংকারটিকে সতর্কভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছিল। ঘটনার সময় ইরান কোনও অযাচিত আগ্রাসন করেনি, বরং নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো সামরিক হামলা হলে তা পুরো অঞ্চলে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা শান্তিপূর্ণ সমাধানের ইঙ্গিত বহন করে।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইসরায়েলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনার মূল বিষয় ইরান ইস্যু।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মন্তব্য করেছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ আলোচনা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতা সম্ভব হবে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না’। তবে তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি চুক্তি করা সম্ভব, যাতে শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত হয়’।
ইরানের নৌবাহিনী প্রমাণ করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় সক্ষম এবং সংলাপ ও বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে সদা প্রস্তুত। এই সতর্কতা ও সংলাপের প্রস্তাবই ইরানের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল কূটনৈতিক অবস্থানের পরিচায়ক

