বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা জান্নাতের টিকিট দেওয়ার কথা বলছে, তারা মানুষকে ঠকাচ্ছে। এটা শিরকের শামিল। একাত্তরে তাদের ভূমিকা কোথায় ছিল, তা দেশের মানুষ ভালো করেই জানে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে বিএনপি ও জোটের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে সমবেত হওয়ার এই প্রেক্ষাপট তৈরি করতে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। বাক্স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, বিএনপিসহ লাখো সাধারণ মানুষ নির্যাতিত, পঙ্গু ও নিঃস্ব হয়েছেন। ব্যালট ছিনতাই ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এক সময় দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছিল। বিএনপির রাজনীতি কারও দাসত্বের নয়। ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়-সবার আগে বাংলাদেশ’এই নীতিতেই বিএনপি দেশ পরিচালনা করতে চায়।
তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষ জয়ী হলে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হবে। কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে পানির সংকট দূর করা হবে। নদী থেকে খাল কেটে পানি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।
নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী সমাজ দেশের অর্ধেক শক্তি। গ্রামে গ্রামে দরিদ্র পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়ে নারীদের স্বাবলম্বী করা হবে।
বিদেশে বসে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ষড়যন্ত্র ও দেশের ভেতরে নানা চক্রান্ত চলছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, জুলাই-আগস্টে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে পারে, এটা প্রমাণ করেছে।
আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ বিএনপির রাজনীতিতে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭৮ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একাধিকবার এই মাঠে জনসভা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তারেক রহমান একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ ঘিরে সিলেট নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

