সব স্রোত মিশে গেছে এভারকেয়ার হাসপাতালে

গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ — Evercare Hospital (ঢাকা)–তে ভর্তি হন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, শ্বাসনালী ও ফুসফুস সহ অন্তঃ‌অঙ্গ সমস্যা নিয়ে চিকিৎসাসূত্র জানায়, তাঁর শারীরিক জটিলতা রয়েছে — হার্ট, কিডনি, ফুসফুস, ডায়াবেটিস, আর্থরাইটিসসহ নানা সমস্যা।

২৭ নভেম্বর থেকে তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে (CCU) রাখা হয়। চিকিৎসক ও পার্টি সূত্র জানায়, বিদেশি ও দেশি চিকিৎসকদের состав একটি মেডিক্যাল বোর্ড কাজ করছে; প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।সূত খবর দ্রুত ছড়াতে থাকে। পার্টি পক্ষ ও কারিগরি চিকিৎসক ড. এজেডএম জাহিদ হোসেন বারবার অনুরোধ করেছেন, শুধুমাত্র “অফিশিয়াল” চিকিৎসা জানাতে এবং গুজবে বিশ্বাস না করতে।

হাসপাতালের গেটে সাধারণ মানুষ, দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন — অনেকে সন্ধ্যার পর থেকে আসছেন। যদিও বেশির ভাগই শুধু গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন; তার পরেই তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সরকার ধাপে ধাপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে: ১ ডিসেম্বর রাত্রে জরুরি ব্যারিকেড বসানো হয়, গেট দখল। পরের দিন Special Security Force (SSF) হাসপাতালে নিয়োজিত হয়।হাসপাতালের চারর্থ তলার কেবিনে খালেদা জিয়ার লাগানো হয়েছে VVIP নিরাপত্তা, আশপাশের কেবিন খালি করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতি — হাসপাতালে সাধারণ রোগীর পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতা, সমর্থক, নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা একত্রিত হাওয়া — বাংলাদেশের জন্য একেবারেই নতুন।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগে চলছে নানা ধরণের গুজব, কারা রোগের খবরে বেশ ভয় দেখাচ্ছে, কারা নিরাপত্তার মধ্যে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য” দেখছেন তারা  হচ্ছেন তথাকথিত কিছু রাজনিতি বিশ্লেষক । তবে বর্তমান যে তথ্য আমরা পেয়েছি — আসলেই তিনি গুরুতর অসুস্থ , চীন এবং ব্রিটিশ চিকিৎসকদের আগমনেই তা  স্পষ্ট ।

কিন্তু প্রেক্ষাপটই বলছে — খালেদা জিয়ার রোগ তারেক রহমান এবং পার্টির ভবিষ্যত রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের সম্ভাবনা, দলীয় পুনরুদ্ধার, নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য গণভোট বা সংবিধান সংশোধনা — সবই এখন প্রশ্নচিহ্নে।

অতীতে, যখন  আগে গণভোট বা সংবিধানের সংশোধনার দাবি উঠেছিল — তখন বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে ধর্মীয় বা ইসলামপন্থী দলগুলো — কথা বলেছিল। কিন্তু এখন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার মধ্যে, সেই দাবি অজ্ঞাতসারে স্তব্ধ। গুজব আর বাস্তব — দুটোই মিলছে হাসপাতালের গেট, রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক মিডিয়ায়।

এ ধরনের সংবেদনশীল সময়— যখন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, এবং খালেদা জিয়ার  স্বাস্থ্য — সবই একসাথে   রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। সেই সঙ্গে অননুমোদিত গুজব, ষড়যন্ত্রমূলক খবর, রাজনৈতিক চাপ — সবই বাড়ছে।

তবে — সাবধান হওয়া উচিত। নেতিবাচক গুজব, অপপ্রচার, ভয়-ভীতি ছড়ানো — সবই দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, শেষ কথা বলবে সময়।

হাবিব বাবুল
প্রধান সম্পাদক: শুদ্ধস্বর.ডটকম ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.