Oplus_131072

প্যারিসে বিজয় দিবসে ‘পতাকা সম্মিলন’: একাত্তরের চেতনা ধারণে প্রবাসীদের অঙ্গীকার

প্যারিসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘পতাকা সম্মিলন’। বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পথ-দ্য লা ভিলেতে সাব মেরিন সংলগ্ন মুক্তাঙ্গনে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কবি, লেখক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা একাত্তরের গৌরবগাথা স্মরণ করেন। সম্মেলনের আয়োজক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি মঞ্চাভিনেতা সোয়েব মোজাম্মেলের সঞ্চালনায় আয়োজকদের পক্ষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আশিক আহমেদ উল্লাস। তিনি জানান, পতাকা সম্মিলনের মাধ্যমে দেশপ্রেম, ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত রাখাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও লেখক লোকমান আহম্মদ আপন, রেজাউল হায়দার চৌধুরী, সোহেল আহমদ, আবৃত্তিশিল্পী শর্মিষ্ঠা বড়ুয়া, সমাজকর্মী নয়ন এনকে, সোনিয়া জামান, এলান খান চৌধুরী, জুয়েল দাস রায় লেলিন, মাহবুব সাগর ও আবু বকর প্রমুখ। গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সাবুল আহমেদ, ইকবাল মোহাম্মদ জাফর, বাদল পাল, আবু বকর আল আমিন, তাজ উদ্দিন, রাকিবুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম রনি ও আবু তাহের রাজু।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান ও আলোচনায় উঠে আসে একাত্তরের স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের বেদনাবহ গল্প এবং গৌরবের ইতিহাস।

আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, ’৭১ আমাদের গৌরব, আত্মত্যাগ ও সাহসের প্রতীক। আজও নানা মহল থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চলছে, যা স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।’ তাঁরা আরও বলেন, ‘একাত্তরকে ধারণ করে ইতিহাস বিকৃতি রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য ধরে এগোতে হবে।’

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বর্বরতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অস্ত্র তুলে নেয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র—বাংলাদেশ। এই বিজয়ের মূল শক্তি ছিল অসংখ্য শহীদের আত্মদান, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম।


১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বর্বরতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অস্ত্র তুলে নেয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র—বাংলাদেশ। এই বিজয়ের মূল শক্তি ছিল অসংখ্য শহীদের আত্মদান, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসে থেকেও একাত্তরের মূল্যবোধ ধারণ ও নতুন প্রজন্মের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়া আজ সময়ের দাবি। অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়, দেশপ্রেম ও মানবিক চেতনা উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আয়োজন সমাপ্ত হয়।

রাকিবুল ইসলাম, শুদ্ধস্বর ডটকমের ফ্রান্স প্রতিনিধি ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.