কবিতার কবি

ওহে কবি,

তোমায় বড্ডো বিব্রত দেখাচ্ছে !

কবিতা বুঝি তোমার দ্বারে এসে

আর নাড়া দেয়না !

ভাবছো, কল্পনায় ডুব দিয়ে

ধরবে তোমার ইচ্ছের কবিতা ?

 

আমি কবিতা,

তোমার চেনা জানা সেই কবিতা।

এসো, আমার হাত ধরো।

আজ তোমাকে নিয়ে যাবো

এক অজানা অচেনা দ্বীপে।

সেখানে খোলা তাজা হাওয়ায়

বুক ভরে প্রশ্বাস নিতেই দেখবে,

তোমার ভাবনার সমুদ্রে 

দুলে উঠছে অজস্র পংতির ঢেউ,

রক্তে দুলে উঠবে সতত কবিতা।

 

অথবা, তুমি আমি পাখি হয়ে

উড়ে চলবো ওই আকাশপাড়ে।

ডানা মেলতেই দেখবে সেখানে

উড়ে চলা ঝাঁক ঝাঁক বকপাখি।

ত্রিবেণীর দিগন্তে গেঁথেছে ওরা

সারি সারি কবিতার মালা।

দেখবে, নীচের ওই পৃথিবীটা

নিরব শুয়ে আছে মাটির বুকে।

সেখানে আনাগোনা করে 

দিশাহীন দীনহীন পরাধীন মানুষ।

তৃষ্ণার ক্ষুধার নির্মম শিকার ওরা,

অশান্ত পরিশ্রান্ত মানুষ ওরা,

গ্রাম ধাম ছেড়ে নৈরাশ্যের শহরে

ছুটে চলা নিরাপরাধী মানুষ ওরা।

চলো, ওদের কাছে যাই,

ওখানে ওদের মাঝে খুঁজে পাবে 

শোষণ-অনাচার-নিপীড়নে

অবহেলিত হাজার কবিতাসব।

 

শোনো হে কবি,

তোমায় একটি কথা বলি শোনো,

নিদ্রাহারা রাতে ভাবনার পাখিরা 

যখন তোমার মনের আকাশে 

এলোপাথারি ভীড় জমাবে,

তখন তাদের দু’হাতে জড়ো করে 

কবিতার মালা গেঁথে নিয়ো,

ঠিক ওই বকপাখিদের মতো।

 

আমি কবি নই, আমি কবিতা,

আমি তোমার প্রেয়সী,

তোমার নিদ্রাহীন রাতের আকাশে

আমি তোমার সাথের সাথী।

 

রনজু সরকার,

Schwaebisch Hall. Germany,

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.