বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে। কিন্তু নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শঙ্কা, বিভাজন ও দ্বিধা এখন সর্বত্র। সাধারণ মানুষ জানতে চাইছে—নির্বাচন কি আদৌ হবে? আর হলেও, তা কি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হবে? এই অনিশ্চয়তার সময়েই প্রয়োজন রাষ্ট্রনেতা ও রাজনৈতিক দলের মহত্ত্ব—যা দেশকে সংকট থেকে পথ দেখাতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন সবসময়ই উত্তেজনার সময়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি যেন তার চেয়েও গভীর। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার প্রবণতা, ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্বেগ, এবং জনগণের আস্থা হারানোর ভয়—সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাস্তায় উত্তেজনা, সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণার ভাষা, এবং মাঠে-ময়দানে সংঘর্ষের খবর সাধারণ মানুষের মনে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
“জনগণ এখন দ্বিধাগ্রস্ত—তারা চায় নির্বাচন হোক, কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে হোক।”
মহত্ত্বের সময় এখনই
একটি জাতি কতদিন এমন ভয় ও বিভাজনের মধ্যে বসবাস করবে? এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক নেতাদের নিজেদের দল ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ভাবার।
মহত্ত্ব মানে প্রতিপক্ষকে ছোট করা নয়, বরং তাকে সম্মান জানিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেখানো।
বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা গেছে—যখন নেতৃত্ব সংকীর্ণতা ছেড়ে বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেছে, তখনই দেশ এগিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন ঐক্য ছিল শক্তি, আজও তেমনই প্রয়োজন একটি জাতীয় ঐকমত্যের রাজনীতি।
যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা
এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক দলগুলোর—সরকার ও বিরোধী উভয়ের—একটি যৌথ ঘোষণা বা সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার। এতে থাকতে পারে তিনটি সুস্পষ্ট অঙ্গীকারঃ
নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত,
নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক,
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধানে।
এমন একটি উদ্যোগ কেবল রাজনৈতিক সৌজন্য নয়, এটি হবে গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
জনগণের প্রত্যাশা ও নেতৃত্বের দায়িত্ব
বাংলাদেশের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে, তারা সহিংসতা নয়—শান্তি ও স্থিতিশীলতাই চায়। তাদের আশা, রাজনৈতিক নেতারা এবার মহত্ত্ব দেখাবেন, সংকীর্ণ রাজনীতি পেছনে ফেলে জাতিকে এক নতুন আস্থার পথে নিয়ে যাবেন।
“মহত্ত্বে মানুষ দেবতার চেয়েও বড়—আজ সেই মহত্ত্ব দেখানোর সময়।”
শেষকথা
বাংলাদেশ এখন এক সঙ্কটময় ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। ইতিহাস পরে কাকে বিজয়ী বলবে, তা নির্ধারণ করবে আজকের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত।
যদি রাজনৈতিক নেতারা সম্মিলিতভাবে জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারেন—যে নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ—তাহলে সেটাই হবে তাদের প্রকৃত মহত্ত্বের প্রকাশ।
কারণ, রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়—মানুষের জন্য।
এখন সময় এসেছে সেই সত্যটি মনে করার।
হাবিব বাবুল
সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন ।

