বিশ্বজুড়ে আলোচিত Huawei XMAGE Awards ২০২৫-এ “Night” বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের আলোকচিত্রী আজিম খান রনি। বুধবার রাতে প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্রাঁ পালে (Grand Palais)—এ অনুষ্ঠিত জমকালো অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয় এ বছরের পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম।
রনির পুরস্কারজয়ী ছবির শিরোনাম “A Sea of Devotion in Candlelight”। ছবিটি ধারণ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমে, যেখানে রাখের উপবাস উপলক্ষে হাজারো ভক্ত প্রদীপ হাতে প্রার্থনায় অংশ নেন। প্রদীপের আলো, মানুষের সমবেত প্রার্থনা এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশ—সবকিছু মিলিয়ে ছবিটি এক অপূর্ব দৃশ্য রচনা করেছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য—এই ছবি তিনি তুলেছেন একটি Huawei P30 Pro স্মার্টফোন দিয়ে।

বর্ণাঢ্য আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু: Huawei XMAGE Awards ২০২৫
এ বছর XMAGE Awards-এর প্রতিপাদ্য ছিল “The World, You and Me”, যা ব্যক্তি, সমাজ ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের গল্পকে সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১০০টিরও বেশি দেশের আলোকচিত্রী। জমা পড়ে ১০ লক্ষাধিক ছবি—সবকটিই Huawei স্মার্টফোনে ধারণ করা। এর মধ্য থেকে বাছাই করা হয় সেরা সৃষ্টিগুলো।
বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশ্বের নামকরা ফটোগ্রাফাররা অংশ নিলেও নিজের সৃজনশীলতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অনন্য সমন্বয়ে সবার নজর কাড়েন বাংলাদেশি ফটোগ্রাফার আজিম খান রনি।
Huawei XMAGE Awards ঘোষণার আয়োজনের পাশাপাশি চলছিল “প্যারিস ফটো ২০২৫”, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহত্তম আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র মেলা।
এ বছরের মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৩–১৬ নভেম্বর, একই ভেন্যুতে। এতে অংশ নেয় ৩৩টি দেশের ১৭৯টি গ্যালারি এবং ৪৩টি আন্তর্জাতিক প্রকাশক।

মেলাটি পাঁচটি আলাদা সেকশনে সাজানো হয়—Principal, Publishing, Emergence, Digital এবং Voices—যেখানে ক্লাসিক, আধুনিক ও সমসাময়িক ফটোগ্রাফির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ধারা প্রদর্শিত হয়েছে।
বাংলাদেশের সমসাময়িক আলোকচিত্র জগতে আজিম খান রনি এক উজ্জ্বল নাম। ঢাকায় জন্ম হলেও তাঁর শৈশব কেটেছে বগুড়ায়, যেখানে প্রথমবারের মতো তিনি ক্যামেরার প্রতি আকৃষ্ট হন। পরবর্তী সময়ে পেশাদার ফটোগ্রাফির জগতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিতে তিনি ভর্তি হন পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট-এ—দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম স্বনামধন্য আলোকচিত্র শিক্ষাকেন্দ্র। পেশাজীবনের সূচনাও হয় ভিজ্যুয়াল মিডিয়া দিয়ে; তিনি জাতীয় টেলিভিশনে ক্যামেরাপারসন হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, যা তাঁকে বাস্তব জীবনের গতি, আলো, মানুষ ও মুহূর্ত শনাক্ত করার অসাধারণ দক্ষতা দিয়েছে।
রনির ফটোগ্রাফির দর্শনও বেশ আলাদা—তিনি বিশ্বাস করেন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তই সবচেয়ে মূল্যবান; তাই তিনি সেই ক্ষণগুলোকে তাঁর লেন্সের মাধ্যমে স্থির করে “মেমোরিতে” সংরক্ষণে আগ্রহী। স্ট্রিট, ডকুমেন্টারি থেকে শুরু করে ড্রোন ফটোগ্রাফি—সব ক্ষেত্রেই তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং কম্পোজিশন দক্ষতার ছাপ স্পষ্ট।

অসাধারণ সৃজনশীলতা ও ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন সম্মানজনক প্রতিযোগিতায় ৮০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন—যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। এর মধ্যে রয়েছে Sony World Photography Awards ২০২৩–এর বিভাগীয় বিজয়, যা তাঁর আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে আরও বিস্তৃত করেছে। ৩০০ টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ফটোপ্ল্যাটফর্ম গুলো—যেমন 1x, ReFocus Awards, OneEyeland—এ নিয়মিতভাবে তাঁর ছবি প্রদর্শিত হয় এবং প্রশংসা কুড়ায়। এসব প্ল্যাটফর্মে তাঁর উপস্থিতি শুধু তাঁর দক্ষতার মূল্যায়নই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র সম্প্রদায়ে বাংলাদেশের প্রতিভার শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বও তুলে ধরে।
রাকিবুল ইসলাম, শুদ্ধস্বর ডটকমের ফ্রান্স প্রতিনিধি ।

