গত ২৭ নভেম্বর দর্পণ…মুখের খোঁজে এবং কথাশিল্পর যৌথ আয়োজনে ‘কাজ্লা দিদি’-র কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর ১৪৮তম জন্মজয়ন্তী পালিত হল বাগচী বাড়ি, যমশেরপুর,নদীয়ায়। ১৮৭৮ সালে কবির জন্ম পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম যমশেরপুরে। তাঁর সেই কালজয়ী কবিতা ‘দিদি-হারা’ সুধীন দাশগুপ্তর সুরে, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কণ্ঠে বাঙালির হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন লাভ করেছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষন দেন সন্তু প্রামাণিক। উত্তর মঞ্চ সংগঠনের সদস্যরা ‘বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই’ গানটি উদ্বোধনী সঙ্গীত হিসেবে পরিবেশন করেন।

পল্লীকবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য রাখেন নজরুল গবেষক ও ছায়ানট(কলকাতা) – এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। তাঁর হাতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে যতীন্দ্রমোহন বাগচী-র প্রতিকৃতি তুলে দেওয়া হয়। কবিতা, গান, আলোচনা, কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী স্মৃতি-পুরস্কার প্রাপকের নাম ঘোষণা ও বই প্রকাশ – সবকিছু নিয়েই এক আন্তরিক আয়োজন। কবির জন্মস্থানে কবিকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের এ এক পরম সুযোগ। তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে কবিকে স্মরণ করার এক অনবদ্য প্রচেষ্টা আয়োজকদের।
যতীন্দ্রমোহন বাগচী-র সৃষ্টির প্রসঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তরুণ গদ্যশিল্পী সৌরভ হোসেন, পীতম ভট্টাচার্য প্রমুখ। আটটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও যতীন্দ্রমোহন বাগচী লিখেছেন একটি উপন্যাস। তৎকালীন সময়ে সম্পাদনা করেছেন মানসী, মর্মবাণী, যমুনা ইত্যাদি পত্রিকা। রবীন্দ্রভক্ত এই কবি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লিখেছেন ‘রবীন্দ্রনাথ ও যুগসাহিত্য’ নামক একটি মূল্যবান বই। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রয়াত হন। যতীন্দ্রমোহন-স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাসরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা দাস বিশ্বাস, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, সাধনা দাসশর্মা, দেবজ্যোতি কর্মকার প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বন্দন দত্ত। কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর সৃষ্টি সংস্কৃতিমনস্ক বাঙালির মধ্যে এভাবেই বেঁচে থাকুক।

