এ লেখা আজ যখন লেখা হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ সহ্য করেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। দেশে ছয় জনের মৃত্যু এবং শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে, সে আশঙ্কা আছে। দিনটা ছুটির দিন হওয়াতে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কম হলেও, রাজধানীবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছিল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব হলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস। বাংলাদেশ ও আসাম অঞ্চলে ভূমিকম্প ভূ-ইতিহাস বেশ পুরনো। নদীর গতিপথ পাল্টে যাওয়া, ভূখণ্ডের গঠন পরিবর্তিত হওয়ার ইতিহাস আমাদের জানা। কিন্তু আতঙ্ক বেশি এই কারণে যে, ঢাকাসহ বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, উদ্ধারব্যবস্থা দুর্বল, চিকিৎসাব্যবস্থা নাজুক। ফলে ধারণা করা হয়, ভূমিকম্পে যত মানুষের মৃত্যু হবে তার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটবে উদ্ধার করতে না পারা এবং চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে। এই ভূমিকম্প যেন সতর্কবার্তা দিয়ে গেল, ভূমিকম্পকে অবহেলা করার উপায় নেই। ভূমিকম্পে আন্দোলিত হয় ভূমি। রাজনীতি আন্দোলিত করে জনগণকে। বাংলাদেশ বঞ্চনা এবং আন্দোলনের দেশ। বঞ্চিতদের নিচের কাতারে শ্রমিকদের অবস্থান। তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে শ্রম আইন সংশোধিত হয়েছে। ২০০৬ সালে শ্রম আইন ঘোষণার পর থেকেই গণতান্ত্রিক শ্রম আইনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শ্রমিক সংগঠনসমূহ। ২০০৬ সালের শ্রম আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পর্বে প্রণীত ২৫টি আইনকে একত্র করে। ১৯২৬ সালে ট্রেড ইউনিয়ন আইন, ১৯২৯ সালে শিল্প বিরোধ আইন, ১৯৩৬ সালে মজুরি পরিশোধ আইন, ১৯৩৯ সালে মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন, শিশুশ্রম আইন ১৯৩৮ প্রবর্তিত হয়। শ্রম আইন প্রবর্তন করার পর বারবার শ্রম আইন সংশোধিত হয়েছে, নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র যেমন তৈরি হয়েছে, কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে নানা আইনও প্রণীত হয়েছে।
আইন প্রণয়নের সময়কালে পার্থক্য থাকলেও একটা বিষয়ে মিল ছিল এই যে, সব সময়েই আইনের মূল উদ্দেশ্য কীভাবে শিল্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়, উৎপাদন এবং মালিকদের মুনাফা অব্যাহতভাবে বাড়ানো যায়, মালিকের প্রয়োজনে শ্রমিক নিয়োগ অথবা ছাঁটাই করার অধিকার সুরক্ষিত রাখা যায়। কিন্তু শিল্পে অব্যাহত অগ্রগতি বজায় রাখতে হলে শুধু মালিকের কথা ভাবলে তো চলবে না, শ্রমিকের কথাও ভাবতে হবে। কারণ শ্রমিকের শ্রমশক্তি ছাড়া উৎপাদন যেমন হবে না, তেমনি মূল্য সংযোজন হয় শ্রমশক্তির কারণে। এ কথা সত্য যে, কাঁচামাল, উৎপাদনের উপকরণ, মানুষের প্রয়োজন এবং বাজারের চাহিদা যতই থাকুক না কেন, শ্রমিকের হাত ছাড়া উৎপাদন হবে না। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ছাড়া তাদের জীবনমানের উন্নতি হবে না। কর্মক্ষেত্রে তাই প্রধান বিরোধ তৈরি হয় মুনাফার সঙ্গে শ্রমিকের মজুরির। শ্রমিকের মজুরি হলো তার শ্রমশক্তির বিনিময়ে দেওয়া টাকা। শ্রমশক্তির মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, শ্রমিকের চাকরির শর্ত কী হবে, কর্মঘণ্টা কতক্ষণ হবে, ছুটি, ছাঁটাই, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, ভবিষ্যৎ তহবিল ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ই আলোচনা করতে যাওয়া হোক না কেন সবক্ষেত্রে সামনে এসে দাঁড়ায় শ্রম আইন। আইন শুনলেই মনে হয়, কী ভয়ানক জিনিস। কিন্তু শ্রমিকের জীবন জড়িয়ে আছে শ্রম আইনের সঙ্গে। আইনের ব্যাখ্যা আইনজীবীরা দেন। কিন্তু আইনের প্রয়োগ ঘটে শ্রমিকের জীবনে। ফলে শ্রমিক আইন বুঝতে না পারলেও, আইন তাকে পদে পদে বুঝিয়ে দেয় কাজ, মজুরি, নিরাপত্তা সবই আইন দ্বারা নির্ধারিত। একটা দেশের আইন দেখে যেমন বুঝতে পারা যায় সে দেশ কতটা গণতান্ত্রিক, তেমনি শ্রম আইন দ্বারা বোঝা যায়, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকরা কী ধরনের গণতান্ত্রিক পরিবেশে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে। সে কারণেই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনেই শ্রমিকরা যুক্ত হয়, জীবন দেয়, নির্যাতন ভোগ করে। এটা ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন, ৬ দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ পাকিস্তানবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন, ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থান সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। যারা বলেন শ্রমিকরা থাকবেন কর্মক্ষেত্রে, তাদের আবার রাজনীতি কী? তাদের যুক্তিকে অসার প্রমাণিত করে শ্রমিকরা বারবার এসে দাঁড়ায় রাজপথে। কারণ তারা দেখেছে তাদের জন্য আইন প্রণয়ন করে সরকার, মজুরি নির্ধারণ করে সরকার কিন্তু অন্তরালে থাকে মালিকদের মুনাফা নিশ্চিত করার চেষ্টা। কিন্তু শ্রমিকদের এই সচেতনতা কি সবসময় থাকে? মজুরিভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন করার কারণে, বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন মানেই যেন মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন।
চাকরি থেকে ছাঁটাই না করা অর্থাৎ চাকরি রক্ষার আন্দোলন। বন্ধ কারখানা খোলার আন্দোলন এবং বকেয়া মজুরিপ্রাপ্তির আন্দোলন। শ্রমিকদের জীবিকা এবং জীবন দুটোই যে আইন দ্বারা নির্ধারিত, সেটা আলোচনা করার সুযোগই যেন নেই। যে কারণে কাজ, কর্মঘণ্টা, মজুরি শুধু শ্রমিকদের বেঁচে থাকার জন্যই নয় নিজেদের জীবন বিকাশের জন্যও প্রয়োজন। আর ট্রেড ইউনিয়ন প্রয়োজন সংগঠিত হওয়ার জন্য, সচেতন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়ার জন্য এবং দাবি আদায়ের সক্ষমতা অর্জনের জন্য। সমস্ত বিষয় বিবেচনায় রেখে শ্রম আইনকে বিচার করতে হবে যে, আইন শ্রমিক স্বার্থের অনুকূলে না প্রতিকূলে। ২০০৬ সালে শ্রম আইন প্রবর্তনের পর, ২০১৩ এবং ২০১৮ সালে শ্রম আইন সংশোধিত হয়েছে। কিন্তু সেখানেও শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক শ্রম দপ্তরের পর্যবেক্ষণের কারণে ২০২৩ সালে আবার শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর গঠন করা হয়েছিল, শ্রম সংস্কার কমিশন। দীর্ঘ আলোচনা এবং বিতর্কের পর শ্রম আইন সংস্কার করে ২০২৫ সালে যে অধ্যাদেশ জারি করা হলো তাতেও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ স্কপের ৯ দফা ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বা বৈষম্য বিলোপ আকাক্সক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন নেই। এতে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, মাতৃত্বকালীন ও বাৎসরিক ছুটির সমতা, আউট সোর্সিং নিয়োগ বন্ধ কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ স্কপ। শ্রম আইন সংশোধনের ফলে কি কোনো অগ্রগতি হয়নি? হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে। শ্রম আইন সংশোধনী ২০২৫ অধ্যাদেশে বিদ্যমান শ্রম আইনের ৮৯টি ধারা এবং ৩টি তফসিলে দুই শতাধিক বিষয়ে সংশোধনী আনার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে গৃহ শ্রমিক, প্লাটফর্ম-ভিত্তিক কাজে নিয়োজিত শ্রমিক, কৃষি শ্রমিকসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক কয়েকটি খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া কিছুটা করা হয়েছে, শ্রমিকদের চাকরি অবসানে বা লে-অফকালীন সুবিধা কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে, ট্রেড ইউনিয়ন চর্চায় শ্রম দপ্তরের অযাচিত কর্তৃত্ব কিছুমাত্রায় হ্রাস পাবে, ট্রেড ইউনিয়নের আবেদন নথিজাত করে রাখার মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন পাওয়া কঠিন করে তোলা বন্ধ, মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৫ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর সময়সীমা, কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা রোধ, বিশেষত নারীর প্রতি হয়রানি ও নির্যাতনমূলক আচরণ বন্ধ এবং অ্যান্টি ট্রেড ইউনিয়ন ডেসক্রিমিনেশন রোধে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। সংশোধিত আইনে, মহিলা শব্দের পরিবর্তে ‘নারী’ শব্দ প্রতিস্থাপন, ছোট প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন করার বিধান, প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন শ্রমিক থাকলে ভবিষ্য তহবিল বাধ্যতামূলক, মাতৃত্বকালীন ছুটির হিসাবগত জটিলতা সংশোধন করে ১২০ দিন সুনির্দিষ্ট করা, বার্ষিক উৎসব ছুটি ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিন করাসহ বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক থাকলে ট্রেড ইউনিয়ন করতে ২০ জনের সম্মতি লাগবে।
এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৫০০ শ্রমিক থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৪০ জন, ৫০১ থেকে ১ হাজার ৫০০ শ্রমিকের প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন, ১ হাজার ৫০১ থেকে ৩ হাজার শ্রমিকের প্রতিষ্ঠানে ৩০০ জন এবং ৩ হাজার ১ থেকে তার বেশি শ্রমিকের প্রতিষ্ঠানে ৪০০ জনের সম্মতি লাগবে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য। একটি প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পাঁচটির বেশি ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে না। যা এতদিন সর্বোচ্চ তিনটি ছিল। এখন থেকে ন্যূনতম ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে। এটি মাঝারি কারখানাগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন করা সহজ হলেও ছোট কারখানার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে। কোনো কারখানায় ৫০ জন শ্রমিক থাকলে কমপক্ষে ২০ জন, অর্থাৎ ৪০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি লাগবে। কারখানার মোট শ্রমিক সংখ্যা ৩০ হলে ৬০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি লাগবে। যেহেতু দেশের অধিকাংশ কারখানা ছোট, সে কারণে এই সংখ্যার জটিলতায় শ্রমিকের সুরক্ষা বিঘিœত হবে। আরও কিছু ঘাটতি ও জটিলতা রয়ে গেছে। যেমন গৃহশ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা এখনো আইনি সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছেন। ব্যক্তিগত গাড়িচালক, আউট সোর্সিং কর্মী, দৈনিক ভিত্তিক কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা ও দরকষাকষির জন্য সংগঠন করার অধিকার এখনো অর্জিত হয়নি। এতদিন শ্রম আইনে শ্রমিকদের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠনের কথা বলা থাকলেও, এবার তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ১০০ স্থায়ী শ্রমিক থাকলেই মালিকপক্ষকে কর্মীদের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করতে হবে। তবে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রগতিতে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে ভবিষ্য তহবিল করা থেকে অব্যাহতি পাবে মালিকপক্ষ। সে ক্ষেত্রে পেনশন স্কিমে মালিক পক্ষকে ৫০ শতাংশ ও শ্রমিককে ৫০ শতাংশ চাঁদা দিতে হবে।
২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের বহু আগে থেকেই স্কপ ৯ দফা দাবিতে সংগ্রাম করে আসছে। স্কপের ৯ দফার অন্যতম দাবি ছিল ১) সব শ্রমজীবী মানুষের শ্রম অধিকারের আইনি সুরক্ষা, ২) আইন করে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, ৩) নিয়োগের ধরন নির্বিশেষে প্রযোজ্যক্ষেত্রে সব নারী শ্রমিকের জন্য ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি, ৪) স্থায়ী ধরনের কাজে সব ধরনের অস্থায়ী বা আউট সোর্সিং প্রক্রিয়ায় নিয়োগ বন্ধ, ৫) কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারকে আইএলও কনভেনশন ১২১ এর মানদন্ডে ক্ষতিপূরণ প্রদান, ৬) চাকরির বর্তমান কারণে অর্জিত অধিকার কর্তন বন্ধ, ৭) ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের চাকরি হরণের সুযোগ বন্ধ করা, ৮) প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার ইত্যাদি। শ্রম সংস্কার কমিশন উত্থাপিত ২৫ দফাতেও স্কপের ৯ দফা দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রত্যাশা ছিল ত্রিপক্ষীয় সম্মতিতে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী শ্রম আইন সংশোধন হবে। কিন্তু জারিকৃত অধ্যাদেশে তার কোনো প্রতিফলন নেই। বরং ১৮০ নম্বর ধারার ১ (খ) বিলুপ্তির মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়নে অভিজ্ঞদের ভূমিকা রাখার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে যা ট্রেড ইউনিয়নকে দুর্বল করবে, ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্ব নির্বাচনের স্বাধীনতা সংকুচিত করবে। ২০২ নং ধারার (২৪)(খ)(ঙ) এর বিলুপ্তি সিবিএর প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার কে সংকুচিত করেছে, কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথে সংগঠিত দুর্ঘটনা কে ক্ষতিপূরণের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে কর্মকালের সময় নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে যে মানদণ্ড ব্যবহার করা হয় তা অস্বীকার করা হয়েছে। বলা হয়েছে জাতীয় ও সেক্টরভিত্তিক ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করা হবে কিন্তু সেখানে শ্রমিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি। একদিকে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন সহজ করা অন্যদিকে অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া বাস্তবে সংগঠিত খাতে ট্রেড ইউনিয়ন রক্ষাকে কঠিন করে তুলবে। ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে কৌশলগত কিছু অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু তা ইউনিয়নের গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করেনি। ভূমিকম্প হয় প্রাকৃতিক কারণে, আর আন্দোলন হয় বৈষম্যের কারণে। জ্ঞানবিজ্ঞানের অগ্রগতি মানুষের জীবনকে যেন সহজ করে সেটাই শ্রমজীবীদের ন্যূনতম চাওয়া। তাই প্রাকৃতিক ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষার পাশাপাশি বঞ্চনা ও অধিকারহীনতার হাত থেকে মুক্তির কাজ জরুরি। মানুষ যেন স্বাধীন হতে পারে, বেঁচে থাকে মর্যাদা নিয়ে।
রাজনৈতিক সংগঠক ও কলাম লেখক
r

