রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন আলী রীয়াজ

জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেই দায় শেষ নয়, সংস্কার বাস্তবায়নও লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ।

রোববার (৫ অক্টোবর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকের আগে এই মন্তব্য করেন তিনি।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আজকে চতুর্থ সভা। প্রক্রিয়ায় অনুঘটকের কাজ করছি। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে ছয়টি প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কমিশন একাধিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রস্তাবনা দেবে। রাজনৈতিক দলগুলো একমত হলে সুপারিশ করা হবে সরকারের কাছে।’

তিনি বলেন, ‘বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ছয়টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা বলেছিলাম, এই ছয়টি প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে যদি এটাকে একটি জায়গায় আনা যায়। উপস্থিত ৩০টি রাজনৈতিক দল যদি একটি প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সানন্দে সেই প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারবো। আমরা বলবো, একটি প্রস্তাব আছে, এটা বাস্তবায়নের পথ এভাবে আপনারা (অন্তবর্তীকালীন সরকার) বিবেচনা করতে পারেন।’

কমিশনের সহ-সভাপতি বলেন, ‘শেষ বিচারে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সরকার এবং দলগুলোর। ঐকমত্য তৈরি হলে দ্রুততার সঙ্গে তা সম্ভব হবে।’

সকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার স্বাক্ষরিত রাজনৈতিক দলিল করতে তাগিদ দিয়েছেন ড. ইউনূস। কারা স্বাক্ষর করবেন, তাদের নামসহ থাকবে।’

আলী রীয়াজ বলেন, ‘আজকে আপনাদের কাছে আমরা এসেছি একটিমাত্র কারণে। সেটি হচ্ছে আপনাদের পক্ষ থেকে যদি আরও সুনির্দিষ্ট সুস্পষ্ট এবং স্বল্প প্রস্তাব থাকে বাস্তবায়নের তাহলে আমাদের পক্ষে সেটাকে সমন্বিত করে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন উপায় উপস্থাপন করব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, অবশ্যই ১৫ অক্টোবরের আগে এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।’

১৫ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদের স্বাক্ষর সমাপ্ত করতে চান জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, সবার ব্যস্ততা রয়েছে। তাই ১৫ অক্টোবরের আগেই শেষ করতে চাই।’ রাজনৈতিক দলগুলো একমত হলে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আর বসার প্রয়োজন হবে না বলেও জানান ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের দায় অর্পিত হয়েছে। শুধু সনদ স্বাক্ষর করাই দায় শেষ নয়। এই সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জাতীয় ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দারের সঞ্চালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. আইয়ুব মিয়া।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.