জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে অনলাইনভিত্তিক সাহিত্য সংগঠন আমাদের গল্পঘর প্রথমবারের মতো সরাসরি সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। গতকাল অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে বিপুল সংখ্যক সাহিত্যপ্রেমী প্রবাসী অংশগ্রহণ করেন। বহুদিন ধরে অনলাইনে যুক্ত থাকা গল্পঘরের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা প্রথমবার মুখোমুখি মিলিত হয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন।

জাতীয় সঙ্গীত ও সমবেত সঙ্গীত দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় , এতে অংশ নেন সৈয়দা উদ্দিন শানু (পুঁথিপাঠ) সৃজিতা (নাচ) দিব্য (গান) ৫ তৈয়বা (নাচ) কণা ইসলাম (গান) আতিকুর রহমান সবুজ (গান) নিম্মি কাদের (গান) মিনহাজ দীপন (গান) রিয়েল আনোয়ার (গান)কাকন রহমান (আবৃত্তি) ইলিয়াস আহমেদ (গান) তাসলিমা আজম বাঁশি (আবৃত্তি) মান্নান খান বাবুল (গান) হাফিজুর রহমান আলম ভ (আবৃত্তি) নিম্মি কাদের (গান) খান লিটন (আবৃত্তি) আনামুল মোহাম্মদ (গান) সৈয়দা উদ্দিন শানু (আবৃত্তি) মিনহাজ দীপন ( দিলশাদ জাহান খান আবৃত্তি করেন । অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফাতেমা রহমান রুমা ।
বন্ধু সংগঠন গুলোকে সংবর্ধনা : রবি সন্ধ্যা পাঠচক্র শুদ্ধ বাংলা সাহিত্য চর্চাকে বুকে ধারণ করে ১৯৯৭ সালে জার্মানি প্রবাসী কিছু সাহিত্য ও সংস্কৃতিক মনা মানুষকে সাথে নিয়ে প্রথম “রবি সন্ধ্যা পাঠচক্র” যাত্রা শুরু করেন। প্রথম কয়েক বছর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়সহ অনেক নামী ও প্রখ্যাত সাহিত্য ও সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কে নিয়ে তারা সক্রিয় থাকলেও মাঝে কিছুদিন বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে নিরব থেকেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে রবি সন্ধ্যা পাঠচক্র আবারো তাদের কার্যক্রম শুরু করেছেন। আমরা তাদের এই প্রয়াস কে জানাই আন্তরিক সাধুবাদ।
বাংলা – জার্মান সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলা – জার্মান সাংস্কৃতিক সংগঠন ৮ জন নারীকে নিয়ে গঠিত হয়, যার বর্তমান স্থায়ী সদস্য সংখ্যা ২৫জন। ফ্রান্কফূর্টের একমাত্র রেজিস্ট্রেশনকৃত নারী সংগঠন এটি, যারা বাংলা শিল্প সংস্কৃতির সাথে প্রবাসী জন্মগ্রহণকারী আগামী প্রজন্ম কে পরিচয় করাতে সচেষ্ট ভূমিকা চালিয়ে যাচ্ছে। ৩, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সংগঠন (Bangladesh Kultur Verein) বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ( Bangladesh KulturVerein) ২০১৭ সালে গঠিত হয় । তাদের উদ্দেশ্য হলো বাংলা সংস্কৃতি কে জার্মানিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহ অন্যান্য সংগঠন বা ব্যক্তি যারা বাংলা সংস্কৃতির নিয়ে কাজ করছেন বা করতে আগ্রহী তাদের সাহায্য করা।
কচিকাঁচার বর্ণমালা অনলাইন স্কুল জার্মানীতে বসবাসরত বাংলাদেশী শিশুদের বাংলা ভাষা শেখানোর অভিপ্রায়ে স্টুটগার্টে বসরাসরত কয়েকজন বন্ধু মিলে ২০২১ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা করা হয় “কচিকাঁচার বর্ণমালা অনলাইন স্কুল” (
www.kochikachar-bornomala.de). বর্তমানে জার্মানীর বিভিন্ন শহরের মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী অতি আগ্রহের সাথে বাংলাদেশ শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী নিয়মিতভাবে অনলাইনে বাংলা ভাষা শিখছে এই স্কুলে।
সুরের মূর্ছনা অনলাইন সঙ্গীতালয়, জার্মানী এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও সঙ্গীত প্রশিক্ষক মিনহাজ দীপন জার্মানীতে বাংলাদেশীদের সঙ্গীত শিক্ষাদান শুরু করে মূলত ২০১২ সাল থেকে। পরবর্তীতে করোনাকালীন সময়ে বেশ কিছু বাংলাদেশী শিশু-কিশোরদের সঙ্গীতের উপর আগ্রহ ও সম্ভাবনা লক্ষ্য করে ২০২২ সালের ৪ জুন প্রতিষ্ঠা করে অনলাইন ভিত্তিক সঙ্গীত শিক্ষার সংগঠন “সুরের মূর্ছনা অনলাইন সঙ্গীতালয়”। জার্মানীতে বসবাসরত এ পর্যন্ত ২৫ জনের উপরে বাংলাদেশী শিশু-কিশোরদের সঙ্গীত ও বাংলা গান শিখিয়েছে এবং বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষার্থী অনলাইনে উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও বৈচিত্রময় বাংলা সঙ্গীতের তালিম নিচ্ছে।
কবি সম্মাননাঃ কবি কাকন রহমান : জন্ম শরিয়তপুর ছোট্ট গ্রাম, কলুকাঠি ১৯৮৪ সালে। বেড়ে ওঠা আর লেখা-পড়া মাদারিপুর জেলার পুরান বাজার। ২০০১ সালে বিয়ে হয়ে মিজানুর রহমান জার্মান প্রবাসীর সাথে। ২০০২ সাল থেকে জার্মান বসবাস। স্বামী আর তিন সন্তানের জননী তিনি। ছোটবেলা থেকেই নির্জন আর নীরব সময়ের ভালবাসার সঙ্গী ছিল তার লেখা। দূর প্রবাসে এসেও, যেন বাংলা ভাষা আর লেখার প্রেম যেন মন কে জড়িয়ে আছে। ২. কবি দেওয়ান নিপু স্বামী ও ২ সন্তান নিয়ে জার্মানির বন শহরে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছেন। ঘর এবং কর্মক্ষেত্র ছাড়াও কবিতা লেখা তার শখ। তিনি আমাদের গল্পঘরের একজন সম্মানিত কবি।
আয়োজকরা অতিথিদের জন্য পরিবেশন করেন নানারকম দেশীয় খাবার। পিঠা থেকে শুরু করে নানা মুখরোচক পদ আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝে এক টুকরো দেশের স্বাদ তুলে ধরেন আয়োজকরা।আমাদের গল্পঘরের পক্ষ থেকে আয়োজনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন দিলশাদ জাহান খান, তাসলিমা আজম বাঁশি, মিনহাজ দীপন ও সাজেদা বেগম রুমা।
আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গল্পঘর অনলাইনে সাহিত্যচর্চার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে। এই প্রথমবার তারা সরাসরি অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেন এবং এতে বিপুল সাড়া পেয়ে তারা উৎসাহিত।
উপস্থিত প্রবাসী সাহিত্যপ্রেমীরা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, প্রবাস জীবনে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার পাশাপাশি ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
গল্পঘরের সদস্যরা জানান, ভবিষ্যতে জার্মানির অন্যান্য শহরেও তারা এমন আরও মিলনমেলার আয়োজন করতে আগ্রহী।
Related