তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিএনপিকে ‌ধন্যবাদ জানালেন সারজিস

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু করার দাবিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাটে মশাল প্রজ্জ্বলন করা হয়। ইনসেট: এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু করার দাবিতে আবারো উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চল। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা পোস্টে সারজিস এই মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন চেয়েছেন। তার মনোভাবকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

 

‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচই’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রংপুর বিভাগের পাঁচটি জেলার (লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা) ১১টি পয়েন্টে মশাল প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির পালন করা হয়। আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি সরকারকে নভেম্বর মাসের মধ্যেই মহাপরিকল্পনার কাজ বাস্তবায়ন শুরু করার অনুরোধ জানান। এই কর্মসূচিতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।

সারজিস আলম তার পোস্টে বিএনপিকে ধন্যবাদ জানানোর মধ্য দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ইস্যুটিকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দিলেন। তিনি তার পোস্টে লেখেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন চাই। বিএনপিকে ধন্যবাদ এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য।”

 

আসাদুল হাবিব দুলু জানান, জাতীয় নির্বাচনের তিন মাস আগেই তিস্তা মেগা প্রকল্পের কাজ করতে হবে। যদি সময়মতো কাজ শুরু না হয়, তাহলে তিনি রংপুরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে রংপুর বিভাগ অচল এবং স্তব্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

 

 

দুলু জোর দিয়ে বলেন, “তিস্তা শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে হবে।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে এবং সরকারের ধীরগতির কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা আছে।

বিএনপির এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিপক্ষে যারা দাঁড়াবে, তারা জাতীয় শত্রুতে পরিণত হবেন।”

 

প্রবাহিত ১৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তিস্তা নদী রক্ষায় চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার ভবিষ্যৎ ঠিক করা না হলে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আসাদুল হাবিব দুলু।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.