মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার শুল্ক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতকে। জানিয়েছেন, ভারত রাশিয়ার থেকে ক্রমাগত তেল কেনার কারণেই এই আক্রোশ। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ভীতিকে যে ভারত বা রাশিয়া, কেউই পাত্তা দিচ্ছে না, তা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে গেল সোমবার। চীনে দুই দেশের বৈঠক। ট্রাম্পের শুল্ক অমান্য করে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে স্বাগত জানালেন মোদি এবং পুতিন।
এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন। তিনি বলেন, ভারত ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা কেবল উভয় দেশের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর তেমনটাই। একই সুর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের গলাতেও। জানা গিয়েছে, এদিন পুতিনও বলেন, এই বৈঠক ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, দুই দেশের সম্পর্ককে ‘খুব ভালো’ বলে অভিহিত করেছেন।
জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন পুতিনকে বলেন, ১৪০ কোটি ভারতীয় এই বছরের শেষের দিকে তাঁর ভারত সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। রাশিয়া এবং ইউক্রেনযে দ্রুত তাদের যুদ্ধের অবসান ঘটাবে বলেও আশা মোদির, পুতিনকে তিনি সেকথা জানিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
মোদি-পুতিন বৈঠক পরবর্তী আরও একটি বিষয় এই মুহূর্তে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এসসিও অর্থাৎ সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকের পর মোদি এবং পুতিনকে একটি গাড়িতে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। ওই ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। ইতিমধ্যেই মোদি নিজেই ওই ছবি শেয়ারও করেছেন। তাতে লিখেছেন, ‘এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের অনুষ্ঠানের পর, প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং আমি একসঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্থানে ভ্রমণ করেছি। তাঁর সঙ্গে কথোপকথন সর্বদা অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ।’
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, পুতিন এসসিও সম্মেলন স্থল থেকে রিটজ-কার্লটন হোটেলে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেই একই গাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন। একসঙ্গে যাওয়ার জন্য তিনি মোদির জন্য মিনিট দশ অপেক্ষা করেন বলেও জানা গিয়েছে।
দু’ জনের কী কথোপকথন হয়, সেই বিষয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন মোদি। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রাষ্ট্রপতি পুতিনের সঙ্গে চমৎকার একটি বৈঠক হয়েছে। বাণিজ্য, সার, মহাকাশ, নিরাপত্তা এবং সংস্কৃতি সহ সকল ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা ইউক্রেনের সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান সহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়নের বিষয়ে মতামত বিনিময় করেছি। আমাদের বিশেষ এবং সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে রয়ে গেছে।’

