আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শেখ হাসিনার একাধিক ফোনালাপ প্রকাশ করেছে কীভাবে ফাঁস হলো এসব অডিও ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়ের খেলাই তাঁকে নিজের ফাঁদে ফেলেছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ফোনকলের অডিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হাজির হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
এ অডিওগুলো কীভাবে রেকর্ড হলো, কোথা থেকে ফাঁস হলো—প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় নজরদারির যে যন্ত্র তিনি নিজেই গড়ে তুলেছিলেন, এখন সেটিই তাঁর পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । অডিওর উৎস ও নজরদারির ফাঁদ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, শেখ হাসিনার নির্দেশে গঠিত টেলিযোগাযোগ নজরদারি সংস্থা এনটিএমসি তাঁর ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও আত্মীয়দের কল নজরদারির আওতায় রেখেছিল। ফলে, যেসব কল তাঁর কাছে এসেছিল, সেগুলো রেকর্ড হয়েছে এবং আজ আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনায় উঠে এসেছে। অডিও শোনার পর দেখা গেছে, প্রায় কোনো কলই শেখ হাসিনা নিজে শুরু করেননি—বরং তাঁকে করা কলগুলোর আলাপ প্রকাশিত হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত: উল্টো ফল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান দমনে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। এর ফলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার সব আলাপ মোবাইল ফোনেই সীমিত থাকে—যা রেকর্ড হয়ে যায়।
সমালোচকরা বলছেন, যদি হোয়াটসঅ্যাপ বা এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করা যেত, এই কলগুলো ধরা পড়া কঠিন হতো। কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। অভিযোগ: সহিংসতার নির্দেশ প্রকাশিত অডিও থেকে অভিযোগ উঠেছে, অভ্যুত্থান মোকাবিলায় শুধু প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নয়, আগুন দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর নির্দেশও দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এর ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আরও জোরদার হয়েছে। আইনের ফাঁদে নিজেই ধরা ২০১০ সালে শেখ হাসিনা সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে অডিও–ভিডিও সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল। আজ সেই আইনই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ যেন “অন্যের জন্য খোঁড়া গর্তে নিজেই পতন”। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করছে যে রাষ্ট্রীয় নজরদারি, স্বৈরতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং গণঅসন্তোষ দমনের পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত নেতার বিরুদ্ধেই ফিরে আসে। শেখ হাসিনার অডিওফাঁস তাই শুধু একটি বিচারিক প্রমাণ নয়, ভবিষ্যতের শাসক শ্রেণির জন্যও এক সতর্কবার্তা।
হাবিব বাবুল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং শুদ্ধস্বর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ।

