‘ইহুদি বিদ্বেষী মন্তব্য’ ও ‘হিটলারের প্রশংসা’ করায় অস্ট্রেলিয়ায় আজহারীর ভিসা বাতিল

ইহুদি বিদ্বেষী মন্তব্য ও অ্যাডলফ হিটলারকে প্রশংসা করায় বাংলাদেশি ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এমনটিই জানিয়েছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, প্রথমে এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক একটি সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, প্রায় এক কোটির বেশি অনলাইন অনুসারী থাকা মিজানুর রহমান আজহারী এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমা প্রবাসী সম্প্রদায়ের মাঝে নিয়মিত বক্তৃতা দিয়ে থাকেন।

বাংলাদেশি এই বক্তা ‘লিগসি অব ফেইথ’ শিরোনামের একটি ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইস্টার উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া সফর করছিলেন। তার সফরসূচিতে ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি এবং ক্যানবেরা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে নির্বাসনের জন্য অপেক্ষায় রাখা হয়েছে।

ডেইলি মেইল জানায়, এর আগে যুক্তরাজ্যে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশেও উগ্র ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগে তাকে জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।

বুধবার অস্ট্রেলিয়ার একজন লিবারেল সিনেটর জানান, আজহারীর আগমনের বিষয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন সংসদ সদস্যদের আগেই সতর্ক করেছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া এক বক্তব্যে আজহারী ইহুদিবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তুলে ধরেন, হলোকাস্টের প্রশংসা করেন, ইহুদিদের অমানবিকভাবে উপস্থাপন করেন এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান।

তিনি হিটলারকে ইহুদিদের জন্য ‘ঈশ্বরের শাস্তি’ বলে উল্লেখ করেন, ইহুদিদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন এবং ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ বলে মন্তব্য করেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, বিশ্বের নানা সমস্যার জন্য—যার মধ্যে এইডসও রয়েছে—ইহুদিরাই দায়ী এবং তারাই এই রোগ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি তার বক্তব্যে হিটলারের ইহুদিদের ওপর নির্যাতন নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে সোমবার রাতে ব্রিসবেনে তার সফর শুরু হয় এবং পরবর্তী কর্মসূচি মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরায় হওয়ার কথা ছিল।

সিনেটর আরও বলেন, এমন একজন ব্যক্তিকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উগ্রবাদ ও ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

তিনি যুক্তরাজ্যের উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে ২০২১ সালে আজহারীর প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছিল হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ ছড়ানোর আশঙ্কায়।

বাংলাদেশেও তার বিরুদ্ধে উগ্র মতাদর্শ প্রচার এবং জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে তিনি জানান। তার বক্তব্যগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সিনেটরের মতে, আজহারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে নয়, বরং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের প্রমাণ রয়েছে। এর মধ্যে ইহুদিবিরোধিতা, হিন্দুধর্মের অবমাননা এবং বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত।

এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি সমালোচনা করেন।

বাংলাদেশে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের একটি সংগঠনও অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। তারা সতর্ক করে যে, আজহারীর বক্তব্য ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং উগ্র মতাদর্শকে বৈধতা দিতে পারে।

এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.