কোন খাবারে রক্তচাপ থাকবে নিয়ন্ত্রণে, মন হবে ফুরফুরে

কেউ অসুস্থ হলে আমরা প্রথমেই ভাবি, তার রক্তচাপ বেড়ে গেল কি না। এই রক্তচাপ দিয়ে মূলত বোঝানো হয় ব্লাড প্রেশার অর্থাৎ দেহের ভেতরে প্রবাহিত রক্তের চাপ। ধমনীগুলোতে রক্তের চাপ বেশি থাকলে সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার বলে।

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশারকে নীরব ঘাতক বলা হয়। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগে থাকেন। শুধু বয়স্ক নন, যেকোনো বয়সের মানুষেরই হাই ব্লাড প্রেশার থাকতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভাসের ঘাটতির কারণে যে কারোরই এটি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্টফেল, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কাও থাকে।

হৃদপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত প্রবাহের চাপ অনেক বেশি থাকলে সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার বলে।

মাথাব্যথা,মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় এরকম কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি। কিন্তু যদি কারো রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিলিমিটার মার্কারি বা তারচেয়ে বেশি হয় এক্ষেত্রে বুঝতে হবে তার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে। বয়সভেদে এই মাত্রা কিছু কম অথবা বেশি হতে পারে।

প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রচুর শাকসবজি যেমন পালংশাক, ফুলকপি, শসা, লাউ, মটরশুঁটি, কলমি শাক, বাঁধাকপি, টমেটো, কুমড়া, বেগুন ইত্যাদি রাখতে হবে। শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে। পটাশিয়ামযুক্ত খাবার খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কলা, ডাবের জল, টমেটো ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে। এক কাপ দুধ খাওয়া যেতে পারে প্রতিদিন। তৈলাক্ত মাছ পরিহার করে অন্য ছোট মাছ খেতে হবে। এছাড়া ফলমূল যেমন আমলকি, নাশপতি, পেঁপে, বেদানা, পেয়ারা এগুলোর মধ্যে যেকোনো এক ধরনের ফল প্রতিদিন গ্রহণ করা যেতে পারে।

 

প্রথমত খাবারে লবণের পরিমাণ কমাতে হবে। কাঁচা লবণ একেবারেই খাওয়া যাবে না। এমনকি রান্না করা খাবারেও লবণের পরিমাণ কমাতে হবে।
চর্বি বা ফ্যাট জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। যেমন মাংস, মাখন, পেস্ট্রি, কেক ইত্যাদি। অতিরিক্ত কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না।প্যাকেটজাত খাবার বাদ দিতে হবে।ভাত খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে।

যদি এই নিয়মগুলি মেনে চলেন তাহলে সেখান থেকে আপনার রক্তের চাপ অনেকটা কম থাকবে। যদি এটি কম থাকে তাহলে সেখানে আপনি সারাদিনের কাজগুলি অতি সহজেই করতে পারবেন। তবে সেখানে আপনাকে মেনে চলতে হবে এই নিয়মগুলি।

নিজেকে সুস্থ রাখার কাজটি সবার আগে আপনাকে করতে হবে। সেখানে যদি অহেতুক বাইরের খাবার বেশি খান তাহলে সেখানে আপনার রক্তচাপ বাড়তে পারে। আর যদি এই নিয়ম মেনে চলেন তাহলে সেখানে নিজেকে সুস্থ রাখতে পারবেন।

আসলে যখনই আপনি উচ্চ রক্তচাপ অনুভব করবেন তখনই আপনার দেহে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দেবে। সেখানে আপনি নিজেকে বাঁচাতে হলে প্রথম থেকেই নিজের খাবারের তালিকা পরিবর্তন করতে হবে। তবে যদি সেটি না করেন তাহলে সেখানে আপনাকে অনেকটা পথ ভুগতে হতে পারে। যদি নিজেকে সুস্থ রাখতে চান তাহলে সেখানে খাবারে নিয়ন্ত্রণ আনতেই হবে।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.