“জলের শ্যাওলা”- ফিল্মের নামটা কিছুতেই মনে করতে পারছি না। তবে ফিল্মের গল্পটি আজও মনে গেঁথে আছে। কারণ বহুবিধ তাই প্রথমেই ছোট্ট করে সেই গল্পটি বলবো তবে গল্পটি বলার পূর্বে একটু পাথরযুগ বিষয়টি অল্প করে তুলে আনছি। সম্ভবত ২০০০ সনে ফিল্মটি দেখেছিলাম।
Million Millions Years B.C. হবে. নিয়ানডার্থাল (Neanderthal) নামের একটি প্রজাতির ইতিহাস পাওয়া যায়, যারা প্লাইস্টোসিন যুগে বসবাস করতো। মূলত তারাই হোমো গণের অন্তর্ভুক্ত। এজন্যই সেই প্রজাতির দ্বিপদী নাম Homo neanderthalensis বা Homo sapiens neanderthalensis। সেই প্রজাতির প্রথম আবাসস্থল ছিল ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্য ও পশ্চিম অঞ্চলগুলোতে। তেমনটাই ইতিহাসে মিলে। আরও পূর্বের ইতিহাসে গেলে প্রাক-নিয়ানডার্থাল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের খোঁজ মিলে। যা Homo heidelbergensis প্রজাতির বৈশিষ্ট্য শ্রেণী অন্তর্ভুক্ত (সংক্ষেপে)।
হলিউডের সেই ফিল্মের গল্পে আসি:
বানর প্রজাতির মানুষ। গাছে গাছে, পাহাড়ে জঙ্গলে বসবাস। ঘণ বন জঙ্গল আর বড় বড় গাছ। বিভিন্ন অদ্ভুত প্রজাতির প্রাণীর দেখা মিলে ফিল্মে। বানরের সাথে কখনো কখনো যুদ্ধ হয় আবার না পেরে উঠে জায়গার বদল হয়। এভাবেই ফিল্মটি চলতে থাকে অতঃপর এভাবেই পাহাড়ের কোন এক কোণে বসে একাকি একটি স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানর একটি পাথরের উপর আরেকটি পাথর দিয়ে আঘাত করছে। অনেকটা আনমনা হয়েই। তবে হঠাৎই দুই পাথরের আঘাতে নজরে আসে স্ফুলিঙ্গ যা মূলত আগুনের ফুল্কি স্বরূপ। বানরটি ভীষণ ভয়ে কেঁপে উঠে। এবার সে পাথরে পাথরে আঘাত না করে দুটি পাথরের ঘষাঘষি করছে। হঠাৎই ধোঁয়ার মতন দেখে পাথর দুটো ফেলে দিয়ে দূরে এবং বহু দূরে সরে আসে এবং ভয় ও শঙ্কা থেকে দেখতে থাকে অনেকটা লুকায়ীত থেকে, কি হচ্ছে? একদিকে শঙ্কা, অন্যদিকে উৎসাহ মিলে একাকার। অতঃপর যা দেখলো আগুনের কুণ্ডলী পাকিয়ে পাশের লতা পাতায় মিশে শুধুই হালকা হালকা ধোঁয়া উঠছে। তখন বানরটি খুবই সাহসের সাথে সামনে আসে ধীরে ধীরে এবং এক পর্যায়ে লতা পাতা সহ আগুনের কুণ্ডলী নিজের হাতেই তুলে নেয়। তখনও কুণ্ডলী থেকে বেশ ধোঁয়া উঠছে এবং নিজের শরীরে একপ্রকার হালকা তাপ অনুভব হয়, সাথে ধোঁয়ার গরমে বেশ আরাম বোধও করছে।
আমি যেভাবে লিখলাম আর ফিল্ম মেকিং এই দুইয়ে পার্থক্য বিশাল। অস্বাভাবিক সুন্দর ছিল সেই ফিল্ম মেকিং। ওটা লিখে বুঝানো কখনোই সম্ভব নয়। আমরা সাধারণ জ্ঞানে জানি পাথরে পাথরে ঘর্ষণেই আগুনের উৎপত্তি তবে ফিল্মের মেকিংটা ছিল অসাধারণ। যা হোক,স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানটির সকল কর্মকাণ্ড দূর থেকে একটি পুরুষ প্রজাতির বানর লুকিয়ে লুকিয়ে সব দেখছিল এবং ভয়ে নিজেকে একটু বেশিই লুকায়ীত রেখেছিল। তবে হঠাৎই যখন দেখে স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানরের হাতে কণ্ডলীটি তখন অনেকটা সাহস খুঁজে পায় এবং ধীরে ধীরে কাছে আসে।
তবুও মনে ভয় ও শঙ্কা। বেশ সাবধানতার সাথেই দূরত্ব বজায় রেখেই স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানরটির কাছে যাবার চেষ্টা করে এবং বুঝার চেষ্টাও করে আসলে হচ্ছেটা কি? স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানরটি বেশ রহস্য দিয়ে বিস্তারিত সব ব্যাখ্যা করে এবং কাছে এসে হাতে নিতে বলে কুণ্ডলীটি এবং শরীরের আরাম পাবার কথাও বুঝায়। বেশ চমৎকার হাসি দিয়েই বুঝায় ভয়ের কিছু নেই। এই দেখ আমার হাতে এটা। ফিল্মের এই অংশ স্ত্রীলিঙ্গ বানরটির হৃদয়ের একপ্রকার ভালবাসা, দয়া- মায়ার আবেদন প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়। অতঃপর পুরুষ বানরটি কাছেও আসে, তাপ পায়, আরাম পায় এবং অবশেষে নিজের হাতেও তুলে নেয় আগুনের কুণ্ডলীটি।
ফিল্মের এই অংশে পুরুষ বানরটি বেশ সাহসীভাবের হয়ে উঠে। কুণ্ডলীটি বাম হাত থেকে ডান হাতে আবার ডান থেকে বাম হাতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে। দুই হাতে উঁচু করে ধরে আবার মাটিতে রাখে। বেশ একপ্রকার সাহস প্রকাশিত হতে থাকে। এদিকে স্ত্রীলিঙ্গের বানরটি আবার হাতে নিতে চাইলেই পুরুষ বানরটি লাথি মেরে স্ত্রীলিঙ্গ বানরটিকে পাহাড়ের টিলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। এতক্ষণে অনেক বানর দূর এসে জমা হয়ে কাণ্ডকারখানা দেখছে। দূরে যে সকল বানরগুলো এসে জট বেধেছে, সবাই প্রথমে কুণ্ডলীটি পুরুষ বানরের হাতেই দেখেছে। এতক্ষণ যে সব কাহিনী দুই বানরের মাঝে হয়েছে তার কিছুই কেউ দেখেনি।
এবার বীর বাহাদুর পুরুষ বানরটির কাছে লাথি হজম করেও স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানরটি আবার পাশে এসে দাঁড়ায়। মূলত স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানরটি কুণ্ডলীটি ফেরত চাওয়ার চেষ্টা করে। তখন অন্যান্য সব বানর মিলে স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানরটিকেই দূরে সরে যেতে বলে। এত বানরের এক সাথে হুমকি আর তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সামনে স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানরটি একপ্রকার অসহায় হয়ে উঠে এবং নিশ্চুপ থেকে যায়।
অতঃপর পুরুষ বানরটি আগুনের কুণ্ডলীটি এক হাতে উঁচু করে ধরে একটা টিলার উপর দাঁড়ায় এবং আরেক হাত দিয়ে নিজের বুকে চাপড় মেরে মেরে দেখায় সকল বানরদের, দেখ আমি কি বানিযেছি। দেখো আমার হাতের জিনিসটি। ধোঁয়া উঠছে, তাপ দিচ্ছে, মাঝে মাঝে ফুলকি উঠছে। ভাবটা এমন যে আমি ভীষণ শক্তিধর কেউ। এগুলো দেখে অন্য সকল বানরেরা হতবাক হয়ে সেই পুরুষ বানরটিকেই সর্বেসর্বা ভাবতে থাকে এবং অনেক ক্ষমতাসীন ভেবে হুম হুম আওয়াজে সব বানরেরা উল্লাস করে একপ্রকার পুজোরমতন করে নত হয়ে কুর্ণিশ করে পুরুষ বানটিকে এবং আগুনের কুণ্ডলীটিকে। পাশে স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানরটি শুধু হা করে দেখতে থাকে। স্ত্রীলিঙ্গ আর পুরুষলিঙ্গের শারীরিক গঠনের শক্তি ও দক্ষতার পার্থক্যটিও এই ফিল্মে বেল সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
অতঃপর ফিল্মের এই অংশে সেই পুরুষ বানরটি সকল বানরদের কাছে বিরাট শক্তিধর হিসেবে গণ্য হয়ে উঠে। যদিও সেই স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানরটিকে পুরুষ বানরটির সাথেই রেখেছে সর্বদা তবে বেশ হুমকির ধামকি পুরুষ বানরটির কাছ থেকে মিলতে থাকে। পুরুষ বানরটির সমস্যা আগুনের কুণ্ডলী যদি ফের বানাতে না পারে তাহলে সেই স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানরটিই একমাত্র ভরসা এবং সেই ভাবনা থেকেই সাথে রাখা। ধীরে ধীরে আগুনের বিষয়টি বেশ রপ্ত করে ফেলে পুরুষ বানরটি। এমনকি আগুন এখন এমন পর্যায়ে তৈরী করতে শিখে গেছে যে, ছাল- বাখলার ঘরেও আগুনের কুণ্ডলী নিয়ন্ত্রণে রেখেই জ্বালানে শিখে গেছে। বাহিরে ঠাণ্ডা, ঘরে গরম, অন্যান্য বানরেরা আসে, পুরুষ বানরটির সামনে নত হয়, আগুনের সামনে নত হয়, শরীরে তাপ নেয়, ফিরে যায়, আবার আসে। এভাবেই পুরুষ বানরের ঘরটি একটি আখরায় রূপান্তরিত হয়। এমনকি অন্যান্য বানরেরা গাছ থেকে ফলমূল নিয়ে আসে পুরুষ বানরটির জন্য। এভাবেই দিন কেটে যায় বেশ। কোন একদিন ঘরের ভিতরে আগুনের তাপে শরীরের আয়েশ আর উৎফুল্লতায় স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানরটির সাথে দৈহিক সম্পর্কে আসে এবং স্ত্রীলিঙ্গ প্রজাতির বানটি গর্ভবতী হয়ে উঠে।
হঠাৎই একদিন বৃষ্টির সাথে সব নষ্ট হয়ে যায়। গর্ভবতী বানরটি শরীরের ভার নিতে পারে না। কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। এখন অন্য বানরেরাও আসে না। পুরুষ বানরটিও আশেপাশে নেই। কোন এক শূণ্যতায় ভুগতে থাকে। আকাশে চেয়ে থাকে আর ভাবে বৃষ্টির কত শক্তি। আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে পুজোর মতন করে কিছু একটা করে। তবে কিছুতেই আর শান্তির দেখা মিলে না। এভাবেই একদিন হারিয়ে যায় অন্য কোথাও।
ফিল্মের কাহিনীটির ভিতরে অনেক কাহিনী আছ। আছে মানুষ জীবনের চরিত্রের প্রকাশ। আছে উৎপত্তি, পরিবর্তন, সঙ্গ, প্রকাশ- বিকাশ এবং ধ্বংস। মানুষ জীবনের কাহিনী কোন না কোনভাবে ফিল্মের কাহিনীর সাথে বেশ মিলে যায়। এভাবেই মিলিয়ন মিলিয়ন বছর জুড়েই ঘটনা ঘটতে ঘটতে, রূপান্তরিত হতে হতে, পরিবর্তন- পরিবর্ধনেই আজকের যুগের আধুনিক মানুষ। তবে শারীরিক গঠনের কল্যাণেই পুরুষ ও নারীর মাঝে একটি বিশাল পার্থক্য ফিল্মের কাহিনীর একটি অংশ। এক অংশে পুরুষ দেহের শক্তিমত্তার দ্বারা প্রভাব বিস্তার আর অন্য অংশে নারীর দেহ- হৃদয় ও ভাবনায় আবেগ ও সহনশীলতার চমৎকার উপস্থাপনা ফিল্মটিতে বেশ আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরেছে যা মানুষ জীবনের বাস্তবিক ঘটনা।
ফিল্মের কাহিনীটা কেন বলা? বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডের অধিকাংশ দেশেই আজকের দিনে পুরষ আর নারীর সেই শক্তিমত্তার বিবেধ তেমনটা নেই বা অনেকাংশেই কমে এসেছে। মূলত দৈহিক গঠনের পার্থক্য দ্বারাই যুগ যুগ ধরে প্রভাব প্রতিপত্তির বিরাজ শুরু হয়েছিল এটা বেশ অনুমেয় বটে। ধর্মের আগমন তেমন কিছু থেকেই কিনা? ওটা যার যার বিশ্বাস থেকে বিবেচনায় আসুক কেননা যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিশাল অংশে একটি আবেগের স্থান মানুষ হৃদয়ে তাই ধর্ম বিষয়টি যার যার আপন বুঝে প্রশ্নের মাঝেই রেখে দিলাম। তবে বেশ লক্ষ্যণীয যে, পৃথিবীর যেকোন ধর্মকে সামনে এনে বিচার বিশ্লেষণ করুন, দেখবেন সব ধর্মের প্রধানরা কিন্ত শক্তিমত্তার পুরুষ জাতি। বিষয়টি গভীরতার সাথেই বিচার বিশ্লেষণের অবকাশ রাখে। তবে বিষয়টি কেবলমাত্র আপন ভাবনায় প্রশ্নবোধক চিহ্ন উল্লেখ করা মাত্র। সহমত হতে হবে তা মোটেও নয়।
এইতো সেদিনের কথা। মাত্র দু’শত বছর আগের আঠারো শতকে ফিরে দেখুন, ইতিহাসে কি পাওয়া যায়? আঠারো শতকের আগে, নারী, নারীর শরীর, নারীর স্তন, নারীর নিতম্ব এগুলো নিয়ে তেমন কোন সোরগোল ছিল কি? উত্তর হচ্ছে, আঠারো শতকের আগে নারীর সকল অঙ্গ ছিল শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতন আরও একটি স্বাভাবিক অঙ্গ। আরও স্পষ্ট করে বললে বলা যায়, সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুদের বেঁচে থাকার খাবারের একমাত্র উৎস। অত পিছনের ফেরার প্রয়োজন নেই, আমাদের সমাজের গাও- গ্রামের দুই- তিন যুগের আগের চিত্র কি ছিল? নারীর স্তন শরীরের স্বাভাবিক অঙ্গ মাত্র । এমনকি আজকের দিনেও আফ্রিকা মহাদেশের বহু দেশে নারী, নারীর শরীর, নারীর নিতম্ব, নারীর শরীরের ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গের আলাদাভাবে মূল্যায়ন হয় না। কেন হয় না? হ্যা উত্তরে বলাই যায়, আধুনিক পুঁজিবাদের খপ্পরে এখনও আসেনি বলেই। কথাগুলো কেন লিখছি?
আমাদের সমাজে আজকাল নারী যেন সর্বাত্মক ও সর্বাধিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্মের আবরণে। ধর্ম আমাদের সমাজে তার আপন গণ্ডির অন্যান্য কর্ম ছেড়ে কেমন জানি সার্বক্ষণিক নারীর শরীর, নারীর পোশাক, নারীর চলাফেরা, নারীর শ্রম, নাদীর অধিকার এবং সর্বপরি নারীতেই ধর্ম আঁটকিয়ে আছে। হোক সেটা পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র সর্বত্রই ধর্মটাই সর্বাধিক এবং ধর্মে সর্বাধিক চর্চা নারী। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্ব ডুড়েই একটি বিশাল শিল্প বিপ্লব ঘটেছে। সেই শিল্প বিপ্লবের কল্যাণেই পুঁজিবাদের বিকাশ এবং সেই পুঁজিবাদের কল্যাণেই নারীর স্তন, নারীর শরীর, নারীর নিতম্ব, নারীর রূপ, নারীর চলন- বলন সবই এখন যৌন আকর্ষণে স্থান করে নিয়েছে। এর পিছনের উপসর্গটি সরাসরি বানিজ্যিক এবং পুঁজিবাদের কুফল অথচ নারী এবং নারীর শরীর সেই পুঁজিবাদের বানিজ্যিক দর্শনকে কোন না কোনভাবে ধর্ম নিজেই বেশি করে উৎসাহিত হয়ে ধর্মের জালে জড়িয়ে ফেলেছে। অতঃপর অনাকাঙ্খিত হলেও ধর্মের চর্চায় যেন নারীই প্রধান ও প্রথম স্থানে বিদ্বেষে এবং নারীকে কোন না কোনভাবে সকল ধর্মেই স্থান দেওয়া হয়েছে বা ভাবা হয় ধর্মের বিষ রূপে এবং সেই একই নারী পুঁজিবাদে হয়ে উঠেছে ব্যবসা-বাণিজ্যের শীষ রূপে। একই নারীকে ব্যবহারে কত রূপ অথচ ধর্ম হবার কথা সাম্য ও সমতার মধ্যস্বত্ব বা মধ্যস্তর।
গভীরতার সাথে ভাবলে পুরুষ বা নারী দুইটি দুই প্রকারের শরীর মাত্র যা প্রাকৃতিকভাবে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার বিশিষ্ট প্রাণী। তবে আমরা প্রকৃতির সৃষ্টিতে বিভাজন করি ধর্মের চাকুতে এবং অনাকাঙ্খিত হলেও সেই ধর্মের চাকুতে নারীকেই কাটতে যেন বেশি উৎসাহিত হই। যে ধর্ম নারী পুরুষ ভেদাভেদে সর্বোপরি মানুষের জন্য অথচ আমরা সেই মানুষের মূল্যায়ন না করে ধর্মের দ্বারা ভাগ করি নারী পুরষে। আজকের এই নারী দিবসে কেন নয় নতুন করে ভাবনা, আসুন মানুষ হয়ে মানুষকে মানুষমানে সম্মান করি তবেই না সেটা মানবিক ও মনুষ্যত্বের প্রধান রূপ। লেখার শুরুতেই পাথরযুগের সিনেমার গল্পটি কিন্ত ভাববার রসদ যোগায়। গভীরতার সাথে সিনেমার গল্পটি ভাবুন বহু রসদ সামনে চলে আসবে।
আজ বিশ্ব নারী দিবসে বাংলাদেশ সহ বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডের সকল নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। তবে সেই শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অবশ্যই অবশ্যই কেবলমাত্র জৈবিক পার্থক্যের কল্যাণেই আজকের দিনে পুঁজির বাজারে যে নারী দিবস, সেই দিবসেই নয়। এই সম্মান ও ভালবাসা নারী মানুষদের প্রতি সর্বদাই এবং আত্মার সম্মান।

বুলবুল তালুকদার
শুদ্ধস্বর ডটকম

