জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে “স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রবাসী” কর্তৃক আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউরোপিয়ান মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আমিনুর রহমান খসরু। সভা পরিচালনা করেন জার্মান যুবলীগের সাবেক সভাপতি জনাব নজরুল ইসলাম খালেদ।
সভায় বক্তব্য রাখেন সর্বজনাব হাফিজুর রহমান আলম, জাহিদুল ইসলাম পুলক, টিটু হাকিম,কামরুল আহসান সেলিম, আশরাফুল ইসলাম টিটু, তোফাজ্জল হোসেন সেন্টু,যুবলীগ নেতা মহসিন খান,মালেক চৌধুরী ,জান্নাতুল নাঈম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ বিশাল জনসমুদ্রের সামনে বঙ্গবন্ধু এই ভাষণ প্রদান করেন। ভাষণের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি চয়ন নিয়ে একটি আলাদা প্রবন্ধ লেখা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু ছিলেন হাজার বছরের বাঙ্গালীর ইতিহাসে নিপীড়িত বঞ্চিত অসহায় মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভ করার অমর বাণী। ৭ই মার্চের এই ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ডকুমেন্টারি হেরিটেজ (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা,বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।
১১০৮ টি শব্দের ১৮ মিনিটের এই ভাষণে জড়িয়ে আছে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অধিকার বঞ্চিত বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাস। বক্তারা আরো বলেন, বিশ্ববিবেকের বিচারে ৭ই মার্চের এই ভাষণ ছিল ভৌগলিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সারা বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত অধিকার বঞ্চিত মানুষের মুক্তির সনদ।
বক্তারা বলেন, ৭ ই মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এই ভাষণেরই আলোকে। নিউজ উইক পত্রিকায় লেখা হয়েছে, ৭ ই মার্চের ভাষণ শুধু ভাষণ নয় এটি একটি অনবদ্য কবিতা। এই কবিতার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক কবি হিসেবেও স্বীকৃতি পান। পরিশেষে বক্তারা বলেন, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আজ স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি শক্তি ক্ষমতায় বসেছে। এই অবৈধ ও অসাংবিধানিক সরকার স্বাধীনতার সকল ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
বক্তারা বলেন, ৩০ লক্ষ শহীদ এবং দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার এক বিন্দু পরিমাণ ইতিহাস আমরা মুছে ফেলতে দিব না। প্রয়োজনে আবার জীবন দিয়ে হলেও আমরা এই পাকিস্তানপন্থী হায়েনারদের কাছ থেকে দেশকে রক্ষা করব। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগ্রামের প্রেরণা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা প্রতিষ্ঠিত করবোই করবো ইনশাআল্লাহ। সভা শেষে মোনাজাতের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল শহীদদের জন্য দোয়া করা হয় এবং মহান আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করা হয় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যেন, অতিশীঘ্র বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে দেশ সেবায় নিজেকে আবার আত্মনিয়োগ করতে পারেন।
ফাতেমা রহমান রুমা / ফ্রাঙ্কফুর্ট / জার্মানি ।

