পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার অনন্য শিক্ষায় সমৃদ্ধ এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অসহায়, হতদরিদ্র, পথবাসী ও বস্তিবাসী মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করেছে প্রবাসীদের সামাজিক ও মানবিক সংগঠন কানেক্ট বাংলাদেশ গ্লোবাল ।
সংগঠনটির উদ্যোগে এ বছর মোট সাতটি গরু কোরবানি করা হয়। পরে সেই মাংস দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় এক হাজারেরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে সংগঠনের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজের অবহেলিত ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা অত্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এ বছর যেসব এলাকায় কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে— কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া, চুনকুটিয়া, শুভাড্ডা, হালিশহর চট্টগ্রাম, পটিয়া চট্টগ্রাম, আসকার দীঘি (পশ্চিম পাড়), চট্টগ্রাম-৭ এলাকা এবং কক্সবাজারের রামু উপজেলা। প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় সমন্বয়কদের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং সুশৃঙ্খলভাবে তাদের হাতে কোরবানির মাংস তুলে দেওয়া হয়।
কানেক্ট বাংলাদেশ গ্লোবাল র সভাপতি আবু আহমেদ খিজির এবং সদস্য নাসিম চৌধুরী সদস্য মোহাম্মাদ আলী রেজা এক যৌথ বক্তব্যে বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, প্রবাসী সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং উদারতায় আমরা এ বছরও অসহায় মানুষের মুখে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। যারা আর্থিকভাবে, নৈতিকভাবে কিংবা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এই মহতী উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”
তারা আরও বলেন,
“মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক অঙ্গীকার থেকেই আমরা প্রতি বছর এই উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমাদের লক্ষ্য শুধু কোরবানির মাংস বিতরণ নয়, বরং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করা।”
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় পরিসরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হতো না। যুক্তরাজ্যে , আমেরিকা জাপান সহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সংগঠনের সদস্যরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং বাংলাদেশে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সেই সহায়তা অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ সময় সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আবু আহমেদ খিজির (লন্ডন), নুরল আমিন (লন্ডন), মোসারেফ হোসেন (লন্ডন) এবং শাহিদ হোসেন (লন্ডন)। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমন্বয়কদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জয়নাল আবেদিন বাবুল, নাজির হোসেন এবং জাহিদ হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে কোরবানি দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কানেক্ট বাংলাদেশ গ্লোবাল’র এই উদ্যোগ অনেক পরিবারের জন্য ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। অনেকেই বলেন, সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, প্রত্যন্ত এলাকার অনেক পরিবার রয়েছে যারা সারা বছর গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ পান না। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে তাদের হাতে সামান্য কোরবানির মাংস তুলে দিতে পারা এক ধরনের আত্মতৃপ্তি ও মানবিক দায়িত্ববোধের অংশ।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে দেশের আরও বেশি জেলা ও উপজেলায় এই কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং প্রবাসীদের কল্যাণে নতুন নতুন মানবিক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়েও পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি।
তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সংগঠনের নেতারা মনে করেন, সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
উল্লেখ্য, কানেক্ট বাংলাদেশ গ্লোবাল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রবাসীদের অধিকার, কল্যাণ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনটি ইতোমধ্যে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, প্রবাসী কল্যাণ ও উন্নয়নবিষয়ক গবেষণা, নীতিগত প্রস্তাবনা প্রদান এবং সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের অবদান দেশের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতেই কানেক্ট বাংলাদেশ গ্লোবাল (ইউকে) ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সংগঠনটির এই কোরবানির মাংস বিতরণ কর্মসূচি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। অসহায় মানুষের মুখে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

