যেসব মামলা হচ্ছে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া না গেলে বাদ যাবে নাম : পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা

সঠিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেসব মামলা হচ্ছে, সেগুলোর প্রাথমিক তদন্তে কোনো আসামির সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত ১০ই সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ চিঠি জারি করা হয়েছে। ওই চিঠি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।

চিঠিতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির প্রথম সভার কার্য বিবরণীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য মামলায় তদন্ত ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া না গেলে নামও প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শাহাদত বরণকারী পরিবার বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বিভিন্ন আদালত বা থানায় করা মামলায় সঠিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার না করার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমানে দায়িত্বে থাকা পিবিআই’র প্রধান ডিআইজি মোস্তফা কামাল চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার প্রাথমিক তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জড়িত নয়, তাহলে তাকে কেন গ্রেপ্তার করে হয়রানি করবো আমরা? আর মামলা থেকে নাম প্রত্যাহার নিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মূল বিষয়টি হচ্ছে, মামলায় যখন পুলিশ রিপোর্ট দেবে, সেখানে তার নাম থাকবে কি থাকবে না।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর গত এক মাসে বিগত সরকারের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে প্রায় পৌনে তিনশ’ মামলা হয়েছে আদালতে এবং দেশের বিভিন্ন থানায়। এসব মামলায় নাম প্রকাশ করে আসামি করা হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষকে আজ্ঞাত পরিচয় আসামি রয়েছে দেড় লাখের ওপরে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে ৫ই আগস্ট পর্যন্ত সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি চালাতে নির্দেশ দিয়ে হত্যা এবং নির্যাতন চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে এসব মামলায়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.