সুস্থ থাকতে নিয়মিত বাঁশ খান

বাংলাদেশে ‘বাঁশ’ শব্দটি নিয়ে রসিকতার শেষ নেই। কাউকে বিপদে ফেলা বা ঠাট্টা করে ক্ষতি করার অর্থেও শব্দটি বেশ পরিচিত। তবে খাবার হিসেবে বাঁশের কোড়ল যে বেশ জনপ্রিয়, তা অনেকেরই অজানা।
সদ্য গজানো কচি বাঁশের অঙ্কুরকে বলা হয় বাঁশের কোড়ল। পাহাড়ি অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কিছু এলাকায় এটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। এ ছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, নেপাল, ভুটান, চীন, জাপান ও কোরিয়াতেও বাঁশের কোড়ল বিভিন্ন খাবারে ব্যবহৃত হয়।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও বাঁশের কোড়লকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে পানি, প্রোটিন, অল্প পরিমাণ চর্বি, কার্বোহাইড্রেট, আঁশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে। জাত ও বয়সভেদে এর পুষ্টিমানও কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
কেন খাবেন বাঁশের কোড়ল?
বাঁশের কোড়লে থাকা খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে।
এতে চর্বির পরিমাণও তুলনামূলক কম। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে বাঁশের কোড়ল খাওয়া তাই খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে পারে।
কিছু গবেষণায় বাঁশের কোড়লে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতার কথাও উঠে এসেছে। তবে এসব উপাদান ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো রোগ সরাসরি সারিয়ে দেয়—এমন দাবি করার মতো প্রমাণ নেই।
রান্নার আগে সতর্কতা
কাঁচা বাঁশের কোড়লে প্রাকৃতিকভাবে সায়ানোজেনিক যৌগ থাকতে পারে। তাই এটি কাঁচা খাওয়া উচিত নয়। খাবার হিসেবে ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে উপযুক্ত পদ্ধতিতে সিদ্ধ বা রান্না করা প্রয়োজন। প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে এসব যৌগের পরিমাণ কমানো যায়।
বাংলাদেশের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর খাবারে বাঁশের কোড়লের ব্যবহার বহুদিনের। বিভিন্ন তরকারি, ভর্তা ও অন্যান্য রান্নায় এটি ব্যবহার করা হয়।
তাই ‘বাঁশ’ শুধু কথার কথাই নয়, খাবারের তালিকাতেও এর জায়গা আছে। তবে উপকার পাওয়ার জন্য এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে না দেখে সুষম খাদ্যের একটি অংশ হিসেবেই রাখা ভালো।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.