ভারতে লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেয়ার বাজার থেকে কোটি কোটি রুপি হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর। এ জন্য তিনি সমালোচনার তীর ছুড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বুথফেরত জরিপকারী ও বিদেশি সন্দেহজনক বিনিয়োগকারীদের। রেফারেন্স তুলে ধরে তিনি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। বলেছেন, তারা বিনিয়োগকারীদেরকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন ৪ঠা জুনের আগেই শেয়ার কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করে সেইসব শেয়ারের দাম পতনের পর বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি রুপি লুটে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত দাবি করেছেন রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার এর জবাব দিয়েছে বিজেপি। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র করছেন কংগ্রেস নেতা- পাল্টা এ অভিযোগ করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পিযুষ গয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীদের পরাজয় এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি কংগ্রেস নেতা। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ’কে পরাজিত করতে বেশ কয়েকটি বিরোধী দল একত্রিত হয়ে ইন্ডিয়া ব্লক তৈরি করেছিল।
উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধীর অভিযোগ ভুয়া বুথফেরত জরিপের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লাখ লাখ কোটি রুপি লোপাট হয়েছে।
এ জন্য তিনি একে শেয়ার বাজারে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হিসেবে আখ্যায়িত করে জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটির তদন্ত দাবি করেছেন।
মন্ত্রী গয়াল জবাবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকারের সময়ে ভারতের শেয়ার বাজারে পুজি ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রাহুল গান্ধী পরাজয়ের ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাই তিনি এখন শেয়ার বাজার নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। ভারত এখন পঞ্চম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। কিন্তু রাহুল গান্ধী দেশের ভিতরের এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন, যাতে তারা বিনিয়োগ না করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সবাই জানি যেকোনো নির্বাচনের সময় বাজারে তারল্য বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়। পূর্বাভাসও। কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও তাই। কোনো ইভেন্ট ছাড়াই বাজারের উত্থান পতন স্বাভাবিক ঘটনা। এ বছর মে মাসে বিএসই এবং এনএসই’র তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মূলধন ৫ ট্রিলিয়ন স্পর্শ করে।
মন্ত্রী গয়াল আরও বলেন, বৈশ্বিক শীর্ষ ৫টি শেয়ার বাজারের মধ্যে ভারতের শেয়ার বাজার প্রবেশ করেছে। কয়েক বছরে পিএসইউ কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন চারগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পেয়েছেন। এখন এসব বিনিয়োগকারীরা শুধু দর্শকই নন, তারা অংশগ্রহণকারীও। ভারতকে এখন সুসংগঠিত, সুপরিচালিত একটি বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসইবিআই বিশ্বজুড়ে অনেকের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ এলায়েন্স বা এনডিএ শাসনামলের সমালোচনা করেন। বলেন, তাদের সময়ে ভারতের শেয়ার বাজার ছিল ভঙ্গুর ৫টির মধ্যে একটি। কিন্তু এখন ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির মধ্যে ৫ম। ২০১৩ সালে বিশ্লেষক মরগান স্ট্যানলি ভারতকে ভঙ্গুর ৫টি অর্থনীতির দেশে ফেলেছিলেন। তখন ভারতের অর্থনীতি ভাল করছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল অন্য চারটি দেশ- ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তুরস্ক।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে মিউচুয়াল ফান্ডের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ লাখ কোটি রুপি। বর্তমানে তা ৫ গুনেরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ লাখ কোটি রুপিতে। তিনি বলেন, ৪ঠা জুন যখন নির্বাচনের ফল প্রকাশ হলো, তখন শেয়ার বাজারের পতন হয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কম দামে শেয়ার বিক্রি করে দেন। তা কিনে নেন ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা। তাদের বিশ্বাস, মোদি সরকার আসছেন। এ জন্য সুযোগ নিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে বিক্রি করেছেন কম মূল্যে। ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে কম মূল্যে তাদের কাছ থেকে কিনেছেন। ফলে এক্ষেত্রেও ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা লাভবান হয়েছেন। কেউই লোকসান দেননি। সুত্র,মানবজমিন ।

