কানাডায় শিখ নেতাকে খুনের ঘটনায় ৩ ভারতীয় গ্রেফতার

কানাডার শিখ নেতা হারদিপ সিং নিজ্জারকে খুনের ঘটনায় তিন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের একটি শিখ মন্দিরের বাইরে গত ১৮ জুন হারদিপ সিং নিজ্জারকে (৪৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যার ঘটনায় ভারত এবং কানাডার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়।

কানাডার শিখ নেতা হারদিপ সিং নিজ্জারকে হত্যার পেছনে ভারত সরকারের হাত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কানাডার হাউজ অব কমন্সের এক সভায় ট্রুডো বলেছিলেন, কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা নিজ্জারের হত্যার সঙ্গে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতার ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ খুঁজে পেয়েছে। তবে ভারত শুরু থেকেই এই অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে নাকচ করে দিয়েছে।

 

শুক্রবার কানাডার পক্ষ থেকে তিন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মনদীপ মুকার জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন করণ ব্রার (২২), কমল প্রিত সিং (২২) এবং ২৮ বছর বয়সী করণ প্রিত সিং (২৮)।

মনদীপ মুকার নিশ্চিত করেছেন যে, এরা সবাই আলবার্তার এডমন্টন শহরের বাসিন্দা। সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ তিন বছর আবার কেউ পাঁচ বছর ধরে কানাডায় অবস্থান করছেন। ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়।

পুলিশের ধারণা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন। হয়তো পরবর্তীতে আরও কাউকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

ভারত শুরু থেকেই নিজ্জারের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও তদন্তকারীরা এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

 

গত বছরের জুনের মাঝামাঝি সময়ে গ্রীষ্মকালের এক সন্ধ্যায় ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারে শহরের গুরু নানক শিখ গুরুদুয়ারার গাড়ি পার্কিংয়ে নিজ্জারকে গুলি করে হত্যা করে দুজন মুখোশ পরিহিত বন্দুকধারী। সেসময় তিনি গাড়ির ভেতরে ছিলেন।

কানাডার উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশ ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একজন প্রভাবশালী শিখ নেতা ছিলেন নিজ্জার। ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে শিখদের স্বাধীন দেশ খালিস্তানের পক্ষে প্রচারণা চালাতেন তিনি। তার সমর্থকরাও বলেছেন, এর আগেও খালিস্তান আন্দালনে যুক্ত হওয়ার জন্য তাকে বহুবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ভারত এর আগে নিজ্জারকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে দেশটির অভিযোগ ছিল তিনি সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে নিজ্জারের সমর্থকরা ওই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করেছেন।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.