জাপানের ইতিহাসে কেঁচো খুঁজতে সাপ

“জলের শ্যাওলা”-

এক সময়ের সাম্রাজ্যবাদী জাপানিজরাও ছিল বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডের ভয়ানক ও ভয়ঙ্কর জাতী তবে অবশেষে জাতীগতভাবে গচ্চা দিয়ে বাধ্য হয়েই সব শিখেছে। সাম্রাজ্যবাদের বিত্ত থেকে বের হয়ে এসে আজকের দিনে বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডের সর্বোচ্চ নম্র- ভদ্র ও শান্ত জাতি, জাপান।

লেখার শুরুতেই একটু ভিন্ন বিষয় উল্লেখ করছি। দেশ থেকে মার্চের মাঝামাঝি ফিরেছি। দেশে যখনই যাওয়া হয় নানান ঘটনার সম্মুখীন হই এবং নানান ধরনের নতুন কিছু অভিজ্ঞতার মাঝে দিয়েই সময় পাড় হয়। শহর বা গ্রামে, কত রকমের যে ঘটনা ঘটে তা আর বলে শেষ হবার নয়। প্রতিবারই বহুকিছুই নজরে আসে এবং আফসোস হয়। কাছে যে জন থাকে তাকেই মনের আফসোসের কথাগুলো বলতাম।

একটি উদহারণ দেই, গাও গ্রামে আপনজনদের প্রায়শই বলতাম যত্রতত্র প্লাস্টিক এর কথা। বর্তমানে গ্রামে সর্বত্রই প্লাস্টিক চিপসের প্যাকেট বা জুসের প্লাস্টিক প্যাকেটের অহরহ ছড়াছড়ি। প্লাস্টিক দুই তিন’শ বছরেও ক্ষয় হয না। এই ভয়াবহতার কথাগুলো মনে কষ্ট নিয়ে বলেই যেতাম তবে শোনে কয়জনা ? উল্টো আমাকে বিদেশী হয়েগেছি বলে একপ্রকার কটাক্ষই করা হতো।

আমি বেশ লক্ষ্য করেছি, কৃষি জমির আইলে বা জমিতে, সড়কের উপর বা দুইপাশে কিংবা যে কারো বাড়ির আঙ্গিনায় বা সামনে- পিছনে প্রচুর প্লাস্টিকের ছড়াছড়ি। এটার ভয়াবহতার কথা ভেবে আমি আঁতকে উঠতাম তবে কাউকে বুঝাতে পারিনি বলেই মনে হয়। কেননা গত বছর যা অবস্থা দেখেছিলাম এবার তারচেয়েও বেশি মনে হয়েছে।

দেশ থেকে ফেরার পর কাজের চাপে আছি। তারপরেও মাথায় ঘুরপাক খায়, জাপানিজরা বা ভিনদেশ যদি পারে, আমরা কেন পারি না পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে? আমরা আবার বেশিরভাগ মুসলমানের দেশ। যেখানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আবার আসমানি কিতাব অনুসারে ঈমানের অঙ্গ সম। কি অদ্ভুত বিষয় সেই ঈমানের ধারে কাছেও আমরা নেই।

লেখার হেডলাইনেই জাপানিজদের কথা লিখেছি। কেন জাপানিদের কথা বলছি ? কারণ, গত বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় কাতার স্টেডিয়ামে খেলা শেষে জাপানিজরা পুরো স্টেডিয়াম নিজেদের দায়িত্বে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে তবেই ফিরে যেত। এই বিষয়টি সেই সময়ে ইউরোপেও বেশ আলোচিত বিষয় ছিল বলেই জাপানিজদের কথা বলছি।

জাপানিজরাও মানুষ আমরাও মানুষ ওরা পারলে আমরা পারি না কেন ? এই প্রশ্নের উত্তরটি গঠনমূলকভাবে জানতে জাপানের পূর্ব ইতিহাস (কেননা একটি জাতীর পূর্ব ইতিহাস থেকে পরিবর্তনের কথা জানা ও বুঝা সহজ) বেশ কয়েকদিন যাবৎ ঘাটছিলাম। সমস্যা হয়ে গেলো “কেঁচো খুঁজতে গিয়ে পুরো সাপের সন্ধান মিললো” এবং অবাক হয়ে সব দেখছিলাম, পড়ছিলাম এবং জাপানের সেই পূর্ব ইতিহাস থেকেই আজকের এই লেখা। তবে যতটা না লেখার শুরুর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়, সেটাকে ছাপিয়ে জাপানিজদের পূর্বের সেই ভয়াবহতার মানসিকতা থেকে আজকের দিনে নম্র- ভদ্র ও মানবিক জাপানের কথাই চলে আসবে লেখাতে।

শুরুটা মূলত ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর। এই দিনে আমেরিকার সাথে এমনকিছু ঘটেছিল যা আমেরিকার ইতিহাসের সবচাইতে বিধ্বংসী ইতিহাস। এই দিনের ঘটনাটার কারণেই জাপান সহ জার্মানিদের বা মূলত আডলফ হিটলারের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হারের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমনকি এই দিনের ভয়ানক কাহিনীর পরে আমেরিকা বাধ্য হয়েই অ্যাটম বোমার মতন ভয়ানক বোমার তৈরী করে এবং সেই বোমা প্রথম জাপানের দুইটি শহরে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে প্রয়োগ করে। ফলাফল দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। পারমাণবিক বোমার এই আক্রমণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

প্রথমেই একটু দেখার বিষয় ১৯৪১ আগের ৭ ডিসেম্বর মৃলত কি ঘটেছিল ? “পার্ল হারবার অ্যাটাক” এই নামটি হয়তো অনেকেই শুনে থাকবেন। পার্ল হারবার আক্রমণ ছিল ইতিহাসের একটি অপ্রত্যাশিত সামরিক অভিযান। জাপান সাম্রাজ্যের নৌবাহিনী কর্তৃক ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালের ভোরে, দিনটি ছিল রবিবার (জাপানের সময়: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১) হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-ঘাঁটিতে আক্রমণ পরিচালিত হয়। এ আক্রমণটি জাপান সাম্রাজ্যের জেনারেল হেডকোয়ার্টারের অপারেশন জেড-এর পরিকল্পনায় ‘হাওয়াই অপারেশন’ বা ‘অপারেশন এআই’ নামেই সমধিক পরিচিত।

হাওয়াই দ্বীপে ঐ দিনটি ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন অর্থাৎ রবিবার। সেখানে আমেরিকান নৌবাহিনীর সেনারা হঠাৎই রাডারে লক্ষ্য করেন অনেকগুলো যুদ্ধ বিমান। এতগুলো যুদ্ধ বিমান হঠাৎ দেখে আমেরিকার নৌবাহিনীর সৈন্যরা বেশ ঘাবরিয়ে যায়। সেই সময়ে আমেরিকার সৈন্যরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। আমেরিকার আকাশে এত যুদ্ধ বিমান দেখে আমেরিকার সৈন্যরা বুঝতেও পারেনি কি ঘটছে ? আমেরিকান নৌবাহিনীর সৈন্যরা পার্ল হারবারে সাথে সাথেই রেড এলার্ড জারি করে তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি কারণ ততক্ষণে বহু দেরী হয়েগিয়েছিল। একেবারেই নিচু দিয়ে জাপানের প্রায় দুইশত যুদ্ধ বিমান উড়ে গিয়ে আমেরিকার নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে থাকা একের পর এক যুদ্ধ জাহাজ ধ্বংস করে যাচ্ছিল। এমন আচমকা আক্রমণে আমেরিকান সৈন্যরা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। একের পর এক যুদ্ধ জাহাজ সহ সৈন্য ও সাধারণ মানুষের নিমিষেই মৃত্যু ঘটে। এই আক্রমণে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পার্ল হারবারের চেহারা পুরোপুরিই পাল্টিয়ে যায়।

পার্ল হারবার আক্রমণ শেষে বা সময়কালেই জাপানের একটি যুদ্ধ বিমান এগিয়ে যায় আমেরিকার “ইএসএস অ্যারিজোনায়” এবং সেখানে আমেরিকার একটি যুদ্ধ জাহাজ অবস্থান করছিল। জাপানিজরা সেই যুদ্ধ জাহাজে ১৮০০ কিলোর একটি বিশাল বোমা ফেলে। যুদ্ধ জাহাজটি ওখানেই ধ্বংস হয়ে যায়। সেই একটিমাত্র জাহাজেই আমেরিকার প্রায় ১০০০ হাজারের বেশি সৈন্যর মৃত্যু হয়। আমেরিকানরা কিছুটা তৈরী হয়ে জাপানিজদের উপর পাল্টা আক্রমণ চালায় তবে জাপানিজরা এই সময়ে নিরাপদে ফিরে যায়। আমেরিকানদের ভাবনায় আসে জাপানিজরা ফেরত গেছে। সময় ক্ষেপন না করে আমেরিকানরা ওখানে থাকা আহতদের সেবা শুশ্রূষা শুরু করে।

তবে আমেরিকানদের সব ভাবনাকে পিছনে ফেলে জাপানিজরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার আক্রমণ করতে ফিরে আসে। জাপানিজরা ফিরে এসেই আবার সেই পূর্বের মতন শক্তিশালী আক্রমণ শুরু করে। আমেরিকানদের ভাবনার বাহিরে ছিল যে জাপানিজরা আবার ফিরে এসে আক্রমণ করবে। দ্বিতীয়বার আরও ভয়াবহতার সাথে টানা ঘন্টাখানেক সময় আক্রমণ চালায়। জাপানিজদের তৃতীয়ধাপে আক্রমণ করার কথা বা প্লান পাওয়া যায় ইতিহাসে। তবে জাপানিজরা বেশ নিশ্চিত ছিল যে, আমেরিকার নৌবাহিনীর শক্তিকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে ফলে তৃতীয়ধাপে আর আক্রমণ চালায়নি। পার্ল হারবারের এই ঘটনায় আমেরিকার ২৪০৩ জন সৈন্য ওইস্থানেই (Spotdeath) হয় এবং ১০০০ হাজারের বেশি সাধারণ মানুষের আহত হয়েছিল এবং আমেরিকার পাল্টা আক্রমণে জাপানিজদেরও ২০/ ২৫ টি যুদ্ধ বিমান ধ্বংস হয়ে যায়।

কেন জাপান সেদিন পার্ল হারবারে এমন ভয়াবহ আক্রমণ করেছিল ? প্রশ্নটি এ কারণেই কারণ আমেরিকা তখনও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণই করেনি। আমরা জানি আজকের দিনে জাপান শান্ত ও ভদ্র জাতী হিসেবে বিশ্বে সর্বোচ্চ পরিচিত। তবে আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর আগে জাপান কি তেমন শান্ত ও ভদ্র ছিল ? উত্তরটি হচ্ছে সরাসরি না এবং বর্তমানের বিপরীত চিত্র পাওয়া যায়। আজকের দিনে যেমন নম্র- ভদ্র ও শান্ত, ঠিক ততটাই নৃশংস, নিষ্ঠুর ও হিংস্র ছিল জাপানিজরা।

সেই সময়ে জাপান ছিল সাম্রাজ্যবাদী। সেই সময়ে সাম্রাজ্যবাদী জাপান চীন- থাইল্যান্ড- কোরিয়া এই দেশগুলোর উপর বহুবার আক্রমণ করেছিল এবং অনেক দখল করে নিয়েছিল। সেই সময়ের সাম্রাজ্যবাদী জাপানের মূল লক্ষ্য ছিল সমগ্র এশিয়ার উপর সর্বোচ্চ প্রভাব খাটানো। একটি উদহারণ দেই, ১৯৩১ সালে সাম্রাজ্যবাদী জাপান চীনের মান্চ্যুরিয়া (Manchuria) দখল করে নিয়েছিল। এই সব দখলকৃত অঞ্চলের উপর সেই সময়ের সাম্রাজ্যবাদী জাপানিজরা কি পরিমান বর্বরতা দেখিয়েছিল যা আজকের জাপানকে দেখে কেউ ভাবতেও পারবে না। কি করেনি জাপানিজরা ? শিশু ও নারী বা আবাল- বৃদ্ধ সবাইকে জাপানিজরা ধর্ষণ করতো, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে নিত। এমনকি জীবন্ত মানুষদের জ্বালিয়ে দেওয়ার মতন বর্বরতাও জাপানিজরা করতে কার্পণ্য করতো না। আরও একটি উদহারণ দেই। ইতিহাসের পাতায় নেনকিন গণহত্যা (Rape of Nankin) নামটি অনেকেই শুনে থাকবেন। সাম্রাজ্যবাদী জাপান নেনকিনে হাজার হাজার হত্যা সহ চীনা নারীদের গণধর্ষণ পর্যন্ত করেছিল।

এই নেনকিন গণহত্যা কাহিনীর পরপরই আমেরিকা বেশ নড়েচড়ে বসে এবং জাপানিজদের উপর প্রথম অর্থনৈতিক স্যাংশন জারি করে। এখানে অবশ্য একটু বলা ভালো যে, চীনের নেনকিনে গণহত্যার কারণে চীনের রক্ষার জন্য আমেরিকা আগ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক স্যাংশন জারি করেনি। এই আলোচনা আরও বিশদ। তবে ছোট্ট করে বলি, এখানে আবার জাপানের সাম্রাজ্যবাদের এশিয়া জুড়ে প্রভাব কমানো এবং চীনের উপর মার্কিনীদের প্রভাব বিস্তার করা ছিল উপসর্গ (আজকে সেই আলোচনা নয়)। এখানে আরও একটু বলা প্রয়োজন জাপানের সাম্রাজ্যবাদ পুরো এশিয়াই দখলে নেবার প্রয়াসে ছিল। তবে আমেরিকা জাপানকে তেল সর্বরাহ বন্ধ করে দিয়ে (সেই সময়ে আমেরিকার তেলের উপরেই জাপানের সকল যুদ্ধ বিমান / জাহাজ নির্ভরশীল ছিল) অর্থনৈতিক স্যাংশনে নিয়ে আসে। স্রেফ জাপানিজদের সাম্রাজ্যবাদকে রুখতে।

এখানে বিশ্ব অর্থনীতিতে, বিশেষ করে আমেরিকার অর্থনীতির একটি হিসেব একটু পরিষ্কার করা প্রয়োজন। লক্ষ্য করুন, আমেরিকার অর্থনৈতিক স্যাংশনের কারণে জাপানের সৈন্যদের আমেরিকার উপর ক্ষোভ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। সেই সময়কালে ১৯৩৯ সালে আডলফ হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করে বসে। এই আক্রমণেই মূলত শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতন ভয়ঙ্কর কাহিনী। পোল্যান্ড আক্রমণের পরে জাপান ও ইতালি হিটলারের সাথে যুক্ত হয়। অন্যদিকে ফ্রান্স- ইংল্যান্ড এবং আরও পরে রাশিয়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সামীল হয়। তবে বেশ লক্ষ্যণীয় যে, আমেরিকা সেই সময়ে নিজেদের যুদ্ধে না জড়িয়ে দুই পক্ষকেই যুদ্ধের অস্ত্র সাপ্লাই দিত। ফলাফল, যুদ্ধ করা দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল হতে থাকে তবে মাঝ দিয়ে আমেরিকা অর্থনৈতিকভাবে বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যত তীব্রতা লাভ করে (১৯৩৯-১৯৪২) সেই সময়ে আমেরিকার অর্থনৈতিক স্যাংশনের কারণে জাপান দিন দিন বেশ দূর্বল হয়ে পরে। পরবর্তীতে জাপান বহু চেষ্টা করে আমেরিকার সান্নিধ্য আসতে, অর্থনৈতিক স্যাংশন উঠাতে তবে কোন সুরাহা তখন আর হয়নি। ঠিক সেই সময়েই জাপান তাদের সাম্রাজ্যবাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং পুরো এশিয়া নিজেদের কব্জায় রাখতে পার্ল হারবারের আচমকা আক্রমণ করে বসে। সাম্রাজ্যবাদী জাপানিজদের হিসেবটা ছিল আমেরিকার সর্বোচ্চ শক্তিশালী নৌবাহিনীকে ধ্বংস করতে পারলেই জাপান যুদ্ধে আমেরিকার সাথে জিতে যাবে (সংক্ষেপে)। জাপানিজদের এই হিসেবটা ছিল তাদের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভুল এবং পরবর্তীতে মাসুল গুনেছে।

অতঃপর আমেরিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এবং হিটলারের সব প্লান তসনস হয়ে যায়। আমেরিকা জাপানের উপর সেই পার্ল হারবারের প্রতিশোধ নেয়। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী জাপানের হিরোশিমা শহরের ওপর “লিটল বয় (Little Boy)”
নামের নিউক্লীয় বোমা ফেলে এবং এর তিন দিন পর নাগাসাকি শহরের ওপর “ফ্যাট ম্যান (Fat Man)” নামের আরেকটি নিউক্লীয় বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। অনেকেই হয়তো জেনে থাকবেন, হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর ককুরা শহরকে লক্ষ্যস্থল করা হয়। কিন্তু আকাশ জুড়ে মেঘ জমে থাকায় বিকল্প লক্ষ্যস্থল হিসেবে নাগাসাকিকে নির্ধারণ করা হয়।

লিখতে চেয়েছিলাম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং জাপানিজদের নম্রতা- ভদ্রতা এবং আমরা কিভাবে শিখতে পারি, সেই বিষয়ে। তবে সাম্রাজ্যবাদী জাপানিজদের নম্রতা- ভদ্রতার ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে কেঁচোর জায়গায় সাপ বের হওয়াতেই লেখায় ভিন্ন মোড় নিয়ে সাম্রাজ্যবাদের নৃশংসতার কথাই উঠে এলো। যা হোক, সেই সময়ে নিষ্ঠুর জাপানিজরা জাতীগতভাবে পতনের পরেও, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েই আজকের দিনে বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডের শ্রেষ্ঠ জাতি। বর্তমান জাপান সব দিক থেকেই বিশ্বের সর্বোচ্চ উদহারণ হয়ে সামনে চলে আসে।

লিখছিলাম আর ভাবছিলাম, সাম্রাজ্যবাদ আর বর্বরতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে, জাপান যদি বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডের সব দিক থেকেই সর্বোচ্চ ও উৎকৃষ্ট উদহারণ হতে পারে তবে একটি যুদ্ধ জয়ী স্বাধীন দেশ ‘বাংলাদেশ’, আমরা কেন তা পারবো না ? আসুন জাপানের ইতিহাস থেকে নিজেদের প্রসিদ্ধ করি। স্মরণে রাখুন, আমরা কখনোই সাম্রাজ্যবাদের ধারে কাছেও ছিলাম না। উল্টো আমরা বরাবরই নম্র, ভদ্র ও শান্ত জাতি। তবে কেন আমরা পারবো না ?


বুলবুল তালুকদার 
শুদ্ধস্বর ডটকম 

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.