মিয়ানমারের ১৪ সীমান্তরক্ষী পালিয়ে বিজিবি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে

 

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ও বোমা বর্ষণ হচ্ছে। শনিবার রাত ৩টা থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তে থেমে থেমে গুলি ও বোমা বর্ষণ চলছে। বেশ কয়েকটি গুলি ও মটারশেল এসে পড়েছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেয়া তথ্য মতে, তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

আহত প্রবীর চন্দ্র ধর, তুমব্রু হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেন ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মাহাফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া।

এদিকে গোলাগুলিতে কোনাপাড়ার কয়েকটি বাড়িঘরের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘর্ষে টিকতে না পেরে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ বিজিপির ১৪ জনেরও বেশি সদস্য বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের ঘুমধুম বিজিবি ক্যাম্পে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। সীমান্ত আরো ৩০ জনেরও বেশি বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, মিয়ানমারের বিজিপির সদস্যরা তুমব্রু সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে সীমান্তের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারনে সীমান্তের ১০০ গজ দুরত্বে থাকা মিশকাতুন নবী দাখিল মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়ার কথা যানান বান্দবান্দরবান জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল মান্নান জানান আজ সকাল থেকে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকার অভ্যন্তরে গোলাগুলি বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্ত এলাকার বাইশ ফাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাজা বনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কুল তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ গুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি নিরাপত্তা বাড়িয়েছে সীমান্তে। নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। সম্পাদনা: মুরাদ হাসান

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.