নির্বাচনে যাওয়ার গুঞ্জন, যা বললেন রাজশাহী বিএনপির নেতারা

২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, এবারো তার পুনরাবৃত্তি হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে জীবজন্তু ছাড়া ভোটার পাওয়া যাবে না। পেটুয়া বাহিনীর দমন-পীড়নের কারণে জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাবে না। যে নির্বাচনে ভোটার থাকে না, সেটি নির্বাচন নয়। গত ২৮শে অক্টোবরের পর থেকে রাজশাহীতে ১৩শ’ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা ও নগরীর বিভিন্ন থানায় নতুন ও পুরনো মিলিয়ে ৪০টি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দল ছাড়ার গুঞ্জনের মধ্যে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। নতুন দলে যোগ দেওয়া বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার খবর উড়িয়ে দেন তিনি। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবি জানান তিনি।

কয়েক দিন ধরে রাজশাহীতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, মিজানুর রহমান, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাদিম মোস্তফা, প্রয়াত বিএনপিদলীয় মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাই স্থানীয় বিএনপির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন নতুন দলে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। ইতিমধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু বিএনএমের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পদে যোগদান করেছেন।

তিনি রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, তাঁর পূর্বপুরুষেরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন করেছেন। সেই রক্ত তাঁর শরীরে বইছে। তিনি বিএনপিতে আছেন। যত দিন বাঁচবেন, বিএনপিতেই থাকবেন। মতিউর রহমানের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা তাঁর ব্যাপার। এদিকে নাদিম মোস্তফা গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তিনি বিএনপিতে এসেছেন। হাজার কোটি টাকা দিলেও তিনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না।

 

সংবাদ সম্মেলনে মিনু বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে রাজশাহী জেলা, মহানগর ও সারাদেশের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের বিনা কারণে গ্রেপ্তার করে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। সম্প্রতি ৪৬টি মামলায় এক হাজার ২৭১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে মহানগর এলাকায় ৩৫টি ও জেলায় ১১টি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দেড় হাজার। তিনি বলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিসহ ত্রাণ ও খাদ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম মার্শাল, জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির অন্যতম সদস্য মনিরুজ্জামান শরীফ, রাজপাড়া বিএনপির সাবেক সভাপতি শওকত আলী, শাহমুখদুম থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জল, মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রবি এবং রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভসহ রাজশাহী মহানগরীর সকল থানা ও ওয়ার্ড এবং রাজশাহী জেলার সকল উপজেলা, পৌর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মিনু বলেন, রাজশাহী জেলা পুলিশ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা রহস্যজনক ও বিচিত্রময় মনে হচ্ছে। তারা জনগণের গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক অধিকারকে যেভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে গ্রেপ্তার মামলা এবং জেল দিয়ে ঠেকাতে চাচ্ছেন এতে মনে হচ্ছে, দেশের জনগণ তাদের শত্রু। তাদের পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, পুলিশ বাহিনী রাষ্ট্রের বাহিনী। তারা কোনো দলের বাহিনী নয়। এ সময় তিনি দ্রুত পুলিশি হয়রানির বন্ধের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার।

 

facebook sharing button
twitter sharing button
skype sharing button
telegram sharing button
messenger sharing button
viber sharing button
whatsapp sharing button

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.