এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু সারাদেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকা। রাজধানীতে ডেঙ্গুর এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান দুই সিটি মেয়রের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন বিএনপির দুই মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং ইশরাক হোসেন। ব্যর্থতার দায় নিয়ে দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ডেঙ্গু সংক্রমণ ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
বিএনপির এই দুই মেয়রপ্রার্থী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়ররা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নন। তারা সরকারের পছন্দে দায়িত্বে থাকা প্রশাসন মাত্র। জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয় না বলে আজকে এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছে তারা এই পদের মূল্য বোঝে না। তারা বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করেছে না। বরং তারা নিজেদের মনমতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
এমনকি দুই সিটিতে পর্যাপ্ত কীটতত্ত্ববিদ নিয়োগ দিতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি জনসচেতনতা। অথচ দুই সিটি এখনো পর্যাপ্ত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালায়নি। কাউন্সিলররা লুটপাট ও দুর্বৃত্তায়নে ব্যস্ত। আর মেয়ররা মিডিয়া ও লোক-দেখানো কিছু কাজ করেছে। ড্রোনের ব্যবহার তার মধ্যে অন্যতম।
চিকিৎসাব্যবস্থার সমালোচনা করে তারা বলেন, ডেঙ্গুর ব্যাপক সংক্রমণ হলেও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা তারা করেননি। ২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় ছিল। কিন্তু দায়িত্বরতরা সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাননি। তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শও মানেননি। তারা দুর্নীতির মাধ্যমে ভেজাল কীটনাশক ব্যবহার করেছে। যা বিভিন্ন সময় প্রমাণিত হয়েছে।
নিজেদের করণীয় জানিয়ে বিএনপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া দুই মেয়র প্রার্থী বলেন, আমরা কোনো দায়িত্বে নেই। ফলে ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা আমাদের নেই। তবে দায়িত্বশীল নাগরিক ও রাজনৈতিক হিসেবে আমরা আমাদের করণীয় ঠিক করেছি। জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা প্রচার অভিযান চালাবো। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাথে আলোচনা করে লিফলেট বিতরণসহ ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচারণা চালাবো। চাহিদা অনুযায়ী রক্ত নিশ্চিতে একটি ওয়েবসাইট চালু করছি। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ও আব্দুস সালামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

