প্রধানমন্ত্রী হাসিনার জন্যেই আজ বাংলাদেশ ১১৮তম অসুখী দেশ

জাতিসংঘেরবিশ্ব সুখ প্রতিবেদন২০২৩”এ ১৩৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৮তম। তালিকায় নেপাল (৭৮), পাকিস্তান (১০৮) শ্রীলঙ্কার (১১২) অবস্থান বাংলাদেশের উপরে অকৃতজ্ঞ, মিথ্যাচারী, বৈঈমান, পরশ্রীকাতর ও স্বৈরচারী প্রধানমন্ত্রী হাসিনার জন্যেই বাংলাদেশ আজ নিম্নতর অসুখীর দেশ। অঙ্গীকার ও তাগিদমত ১৯৯৭এ মাত্র দুইটি পুনর্গঠণ করা হলে, বাংলাদেশ এখন মধ্যআয়ের দেশ এবং সুখতালিকায় নেপালের উপরে থাকতো। যাঁরা প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে “সমৃ্দ্ধ”বাংলাদেশের কারিগর মনে করেন, আমার কথায় নিশ্চয় অবাক হচ্ছেন!

১৯৪৭এ বাংলাদেশের যাত্রা একটা গ্রামীনপ্রদেশ হিসেবে। মোট জনতার মাত্র ৪.% তখন শহরবাসী। শহরগ্রামে বাঙালীমুসলমানেরা নিম্নতর আয়গো্ঠীভু্ক্ত। উচ্চতর আয়গো্ঠীভু্ক্ত বাঙালীহিন্দুরা সম্পদসহ ভারতে চলে যায়। শুন্যস্থান পুরণে বাঙালীমুসলমানদের উচ্চতর আয়গো্ঠীর উত্থান শুরু হয়। দায়বহণকারী হওয়ায় নিম্নতরআয়ীরা আরও দবিদ্র হতে থাকে। তাই ১৯৪৭ উত্তর বাংলাদেশাঞ্চল একটা বাড়ন্ত দবিদ্রপ্রদেশে পরিনত হয়। শুরুতে প্রায় ৪.% দায়ভার হ্রাসমান হারে সাড়ে তিন প্রজন্মকাল থাকবে। উচ্চতর সমৃদ্ধির ধারা ছিল এর মুক্তির পথ।

১৯৭১এ স্বাধীনতাযুদ্ধে এককোটি শরণা্র্থী ভারতগমণ ও ক্ষয়ক্ষতিতে জাতীয় উৎপাদন ১৪.% হ্রাস পায়। শরণা্র্থী ফিরলে ১৯৭২এর শুরুতেই জাতীয় আয় প্রায় ১৫% ঘাড়তি হয়। নবরাষ্ট্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, বৈদেশিক মু্দ্রার সংকট, দেশীশিল্প জাতীয়করণ এবং বিশেষতঃ রাষ্ট্রগঠণপরিচলনায় হটকারিতায় মুজিবসরকারামলে (১৯৭২৭৫) হ্রাসমান চলতি ২.% দায়ভারের বিপরীতে জনপ্রতি আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল.%। তাই দবিদ্রতা দ্রুতহারে বাড়ে। ১৯৮১/৮২এ তা ৭৩.% দাঁড়ায়। তখনও .% দায়ভারের বিপরীতে জনপ্রতি আয়ের প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১.% ছিল।

১৯৬৯এ মুজিবমুক্তি আন্দোলনে যোগোত্তর ছাত্রলীগে, ১৯৭০এ ৬ দফার পক্ষে ভোট সংগ্রহ এবং ১৯৭১এ মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতাযুদ্ধে যোগদান। ৬ দফা রাষ্ট্রদর্শনের আন্দোলন, ৬ দফায় ৯৯% গণম্যান্ডেট, নির্বাচনোত্তর ৬ দফা শপথ এবং স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের অঙ্গীকার বিরোধী মুজিববাদ (জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) ভিত্তিক সংবিধান প্রণীত হলে আমি ছাত্রলীগে নিষ্ক্রীয় হই। স্বৈরমুজিবের ১৯৭৫এ বিনানির্বাচনে রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার অঙ্গীকার বিরোধী একদলীয় স্বৈরতন্ত্র চালু হলে ছাত্রলীগ ত্যাগ করি। ১৯৭৫এর জাতীয় বিপর্ষয়গুলোর কারণ অনুসন্ধানে বিশ্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমার সুষম/প্রগতিশীল গণতন্ত্রমুখী রাষ্ট্রচিন্তা (১৯৭৯৮১)

উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠণঃ

১৯৮২ থেকে আমার সুষমগণতন্ত্রমুখী রাষ্ট্রচিন্তা, পূনর্গঠণের প্রস্তাবনা ও উদ্যোগগুলোতে “উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ” গড়ে উঠছে [প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেথা, ১৯৮৫, প্রগতিশীল গণতন্ত্র, ১৯৯১, সংসদে (২০১০) ও সুপ্রীমকোর্টে (২০১১) পেশকৃত প্রতিবেদনদ্বয়]। বাকী মেঘনাপদ্মা বিভাগ, সুষমমখী জাতীয় বেতন স্কেল, দুইকক্ষ সংসদ, এবং সর্বোচ্চ দুইবার বেশী সরকারপ্রধান হওয়ার ব্যবস্থা চালু হলে ১মপর্ব গড়া শেষ হবে। ২য় পর্বে ১০টি প্রদেশ ভিত্তিক হলে বাংলাদেশ কয়েক শতাব্দী “উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র” থাকবে।

৬৪টি জেলা গঠণের পরে রূপরেথামত বাংলাদেশ ৯টি বিভাগে বিভক্ত না হওয়ায় অর্থনীতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সন্ত্রাসগুলো বাড়ন্ত হয়। বাংলাদেশকে ৯টি বিভাগে বিভক্ত, সুষমমুখী জাতীয় বেতন স্কেল, ৯টি আঞ্চলিক ক্যান্টঃ, দুইকক্ষ সংসদ এবং সর্বোচ্চ দু’বার সরকারপ্রধান হওয়ার ব্যবস্থা চালুতে এরশাদসরকারকে তাগিদ দিয়েছি। একদফা আন্দোলনের সংকটকালে (১৯৮৮৯০) আবার তাগিদ দিই।, বিভাগগুলো না করলেও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের সাবক্যান্টঃকে আঞ্চলিকে উন্নীত এবং দুইবারের বেশী সরকারপ্রধান না হওয়ার বিধান চালু করেন।

৮টি আঞ্চলিক ক্যান্টঃভিত্তিক হলে প্রতিরক্ষাকাঠামো স্বনিয়ন্ত্রিত হয় (১৯৯০)। এরপরে খালেদাহাসিনা নেত্রীদ্বয় ভোটে ক্ষমতাসীন হতেথাকতে পারেন। ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে ৯টি বিভাগ ও সুষমমখী জাতীয় বেতন স্কেলসহ কয়েক বিষয় নিয়ে খালেদা জিয়ার সাথে তিনবার, শেখ হাসিনার সাথে কয়েকবার এবং সিরাজরবের সাথে বহুবার কথা হয়েছে। খালেদাসরকার বরিশাল ও সিলেট বিভাগ করেছেন। অর্থমন্ত্রীর বাধাঁয় বাকী ৩টি বিভাগ হয়নি। এতে সুভারসাম্য না হওয়ায় হার কিছুটা কমলেও সন্ত্রাস বাড়ন্তই থাকে। সন্ত্রাস দমন আইন তেমন কাজে আসনি।

আসমআ রবকে যোগ দেয়ায়ে সরকার গঠণে সহয়তা করায় ও তাগিদে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা পল্লীইউনিয়নকে ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত এং বয়স্ক চালু (১৯৯৭) করেন। সন্ত্রাস কমবে জন্যে কিছুতেই বাংলাদেশকে ৯টি বিভাগে বিভক্ত করলেন না। বরং ক্ষমতা অপব্যহারের জন্যে “জননিরাপত্তা আইন” করলেন। আর অঙ্গীকারমত সুষম জাতীয় বেতন স্কেল (২০ঃ১) চালুর অভিপ্রায়ে ১ম পদক্ষেপে অন্তর্বর্তীকলীণ মুজিব বেতন স্কেল (১৫ঃ১) চালুর বদলে দূর্ণীতি বাড়াতে সর্বোচ্চসর্বনিম্ন বেতন অনুপাত ১০ঃ১ ভিতিক ৫ম জাতীয় বেতন স্কেল চালু করেন (১৯৯৭)


জাতীয় বেতন স্কেল, সমৃদ্ধি ও সুপ্রশাসনসেবা

অসাম্য অধিকার ও সম্পদ/পুঁজির মালিকানা মুষ্টিমেয়মুখী হওয়ায় সামন্তধনতন্ত্রে জাতীয় আয়বন্টণের সর্বোচ্চসর্বনিম্ন অনুপাতের স্থিতিশীল ধারা প্রায় ৪৮ঃ১। বৃটিশামলের সামন্তধারায় সাবেক সর্বশেষ প্রাদেশিক বেতন স্কেলের সর্বোচ্চসর্বনিম্ন বেতন অনুপাত ৩২ঃ১ ছিল (আয়কর বাদে)। সাম্য অধিকার ও সম্পদ/পুঁজির গণতন্ত্রমুখী বিভাজন হওয়ায় ভারতপাকিস্তানবাংলাদেশের জাতীয় আয়বন্টণের এ অনুপাতের স্থিতিশীল ধারা প্রায় ৩২ঃ১। আয়কর বাদে এ অনুপাত প্রায় ২৫ঃ১। এর সামঞ্জসে ভারতপাকিস্তানের চালুরত জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চসর্বনিম্ন বেতন অনুপাত প্রায় ১৮ঃ১। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখন প্রায় ২০ঃ১।

১৯৭১ উত্তর বৃটিশামলের সামন্তধারার প্রাদেশিক বেতন স্কেল সংশোধন করে অনুপাত ২০/১৮ঃ১ করার প্রয়োজন ছিল। তবে ১৫.৪ঃ১ অনুপাত বিশেষতঃ ১০টি স্কেল চালুর প্রজ্ঞাহীনত ও হটকারীতায় ১ম জাতীয় বেতন স্কেলের উচ্চতর ৪টি স্কেল বাস্তবায়ণে মুজিবসরকার ব্যর্থ হয়। ১ম জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চসর্বনিম্ন বেতন টাঃ২,০০০/-ও টাঃ ১৩০/-কে ১২০ গুণ তথা টাঃ২,৪০,০০০/- ও টাঃ ১৫,৬০০/- করা হলে এখন বাজার অর্থনীতির ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকলীণ মুজিব বেতন স্কেলবাস্তবমুখী হবে। ব্যর্থ “মুজিব বেতন স্কেলও এবার সার্থক বাস্তবায়ণও হবে।

রপ্তানীর স্বার্থে সিপিডি, টিআইবি, পিআরআই বা অন্যকে দিয়ে বাজার অর্থনীতির ভিত্তিতে বাস্তবমুখী জাতীয় আয়বন্টণের ৩২টি গড়বিন্যাস বিষয়ে অন্ততঃ ৩টি সমীক্ষা নেয়া জরুরী। অতঃপর বেতন কমিশণের বিবিন্ন দিকের সুপারিশোত্তর ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল চালু করা সমীচীন হবে। এটা করতে দুই/তিন বছর লাগবে। চলমান বেতনভাতা ৩০%-এর নীচে নেমে যাবে। তাই ১লা এপ্রিল, ২৩ থেকে কেবল মূলবেতন (জুলাই,২৩ থেকে সব ভাতাসমূহ) চালু করা হলে মাত্র ২০% বাড়তি ব্যয়ে বাড়ন্ত দূর্শাসন ও দূর্ণীতিমুখী জাতীয় বেতন স্কেল থেকে জাতি মুক্তি পাবে।

অন্তর্বর্তীকলীণ মুজিব বেতন স্কেলচালু হলে এর অধীনের সরকারীবেসরকারী সংস্থগুলোর দূর্ণীতিতে যুক্ত না থাকা ৭৫% কর্মকারীদের কর্ম ও দায়িত্ব বাড়ন্ত হবে। তাহলে তাৎক্ষণিক আরও ২.% হারে প্রবৃদ্ধি বাড়াবে। দেশে শিষ্টাচারকরণ বাড়ন্ত হবে। দেশের দূর্শাসন ও দূর্ণীতি কমান্ত হবে। দুদুকের কার্যকরিতা বাড়বে। সুষমমখী জাতীয় বেতন স্কেল (২০ঃ১) চালু হলে ৩.% হারে প্রবৃদ্ধি বাড়াবে। প্রধানমন্ত্রী হাসিনা কি বোধহারা হয়ে পড়েছেন? প্রাধিকার থেকে মাত্র ৪৪% বেতনভাতা দেওয়া হলে কি দুর্ণীতি ছাড়া সরকারী দপ্তর সুষ্ঠভাবে চলতে পারে?

রাষ্ট্রঅবকাঠামো ও রাষ্ট্রের স্বরূপগঠণচলন

ক্রমভিভক্ত বিভাগজেলাউপজেলাপল্লীর সমন্বনে রাষ্ট্রঅবকাঠামো হলো বৃহত্তর এককরাষ্ট্রের রাষ্ট্রব্যবস্থার মূখ্য, মৌল ও নৈব্যক্তিক প্রতিষ্ঠাণ। এর উপর ভিত্তি করে সরকারীবেসরকারী, জাতীয়স্থানীয় ও ব্যক্তিকসমষ্টিক সংস্থাপ্রতিষ্ঠাণ গড়ে উঠে এবং ক্রমশঃ বিভাজিতসমন্বিত হয়। তাই রাষ্ট্রঅবকাঠামোর স্বরূপের পুনর্গঠণ হলো একইসাথে লক্ষকোটি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠণ/সংস্কার। আইনী প্রতিষ্ঠান এর প্রভাব হ্রাসবৃদ্ধি করা যায়, কিন্তু নিঃশেষ হয় না। যুক্ত/ইউনয়ণ রাষ্ট্র হলো একাধিক এককরাষ্ট্র বা প্রদেশের সমন্বয়।

রাষ্ট্রঅবকাঠামোর স্বরূপ স্বৈর, গণতন্ত্র বা সন্ত্রাসমুখী হলে বাজার অর্থনীতির স্বরূপও কম, সুষম বা অতি প্রতিযোগী হয়। রাষ্ট্রঅবকাঠামো একইসাথে রাজনৈতিক, অর্থনীতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আঙ্গীকে সামঞ্জসতা ও সমন্বয়ের ধারা দেয়। গ্রেটবৃটেন (১৭০৭), নেপোলিনফ্রাস (১৮০০) ও দঃকোরিয়া (১৯৬১) ৯টি বিভাগে এবং জাপান ৮টি বিভাগে (১৯০৫) বিভক্ত হলে উচ্চতর সমৃদ্ধিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিনত হয়। বিভাগে বিভক্ত না থাকায় জাপান ৭০০ বছর (১১৯৫১৯০৫) দরিদ্রসন্ত্রাসী রাষ্ট্র ছিল।

বৃহত্তর এককরাষ্ট্র বিভাগজেলাউপজেলায় ক্রমবিভক্তির অনুপাত যথাক্রমে গড়ে : ৯ হলে সুষমগণতন্ত্রমুখী এবং ১: ১০ ১: ৯ ও ১: ৮ উত্তম। গড় ১: ৯ থেকে ক্রমকম বা ক্রমবেশী হলে গণতন্ত্রমুখী স্বরূপ ক্রমহ্রাস পায়। গড় ১: এর ক্রমকম হলে স্বরূপ ক্রমবেশী স্বৈরমুখী এবং গড় ১: ১৩এর ক্রমবেশী হলে ক্রমবেশী সন্ত্রাসমুখী স্বরূপ হয়। জেলাউপজেলাপল্লীর বিভাজনের প্রভাব আনুপাতিক ক্রমহ্রাসমান। রাষ্ট্রের এলাকা, জনগণ ও সংস্থাসমূহের প্রথম বিভাজন হওয়ায় প্রদেশ/অঞ্চল/বিভাগ বেশী প্রভাবশীল(প্রগতিশীল গণতন্ত্র, ১৯৯১)

সুষমপ্রতিযোগী বাজারব্যবস্থার বহু ভাল দিক আছে। তবে প্রধান খারাপ দিক হলো, ন্যুনত প্রায় ২.% বেকারত্বসহ বাড়তি অসা্ম্যের ধারা রাখে। এজন্যে নিম্নতর আয়গোষ্ঠীর সঞ্চয়ক্ষমতা থাকে না। সুষমপ্রতিযোগী বাজারব্যবস্থার খারাপ দিকগুলো দূর করতে হলে বয়স্ক, দুটি শিশু ও দারিদ্র ভাতাসমূহ চালু ও খন্ডকালীণ বেকারভাতা চালু করতে হবে। তাই সর্বনিম্ন মূলবেতনের ন্যুনত ১২.% থেকে সর্বোচ্চ ২৫.% পর্যন্ত হারে বয়স্ক, দুটি শিশু ও দারিদ্র ভাতা রাষ্ট্রাধিকার ও মানবাধিকার। আর জনপ্রতি আয়বৃদ্ধি সামঞ্জসে বছরওয়ারী এ ভাতাসমূহ বাড়াতে হবে।

উচ্চতর সম্মৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠণের প্রস্তাবনা/উদ্যোগসমূহ

উচ্চতর সমৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রাষ্ট্রঅবকাঠামো গঠণের জন্যে থানাগুলোকে মহকুমায় এবং মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীতসহ বাংলাদেশকে ৯টি বিভাগে (ভবিষ্যতের প্রদেশ) বিভক্তির আমার প্রস্তাবনা/উদ্যোগ (১৯৮২)। বাকী মেঘনা ও পদ্মা বিভাগ হলে রাষ্ট্রঅবকাঠামো সুষমগণতন্ত্রমুখী হবে এবং রাজনৈতিক, অর্থনীতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আঙ্গীকের সুষমগণতন্ত্রমুখী স্বরূপ ও সমন্বয়ের ধারা দেবে। বাজার অর্থনীতির স্বরূপও সুষমপ্রতিযোগী হবে। চলমান সন্ত্রাসের অবসান হবে যা সন্ত্রাসজননিরাপত্তারাব আইন দিয়ে সম্ভব হয়নি।

অঙ্গীকারকৃত মেঘনা ও পদ্মা বিভাগ হলে বছরে ০.২৫% হারে ৫ বছরে প্রবৃদ্ধি হার আরও ১.% বাড়বে। উন্নতদেশের মতো জনপ্রতি আয়বৃদ্ধি সামঞ্জসে বছরওয়ারী সরলহারে ১০১৫% মূলবেতন বাড়ানো নীতি থাকলে উভয় পদক্ষেপ মিলে শুরুতে ২.% হারে এবং ৫ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরও ৩.% বাড়বে। উভয়ই এপ্রিল, ২০২৩ থেকে চালু হলে চলতি অর্থবছরেই বাড়তি জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ০.% সহ রাজস্বআয় জিডিপির বেশী হারে বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির হার ০.% কমবে। রাজস্ব আয় ক্রমে বেড়ে ৬ বছরে জিডিপির ১৬.% উপরে হবে

চলতি অর্থবছরেই রাজস্বমুদ্রা আয় হবে প্রায় ৪২ (=৩৬+) হাজার কোটি টাকা। এ অর্থ দিয়ে সরকারীঅনুদানখাতে মূলবেতনের বাড়তি ব্যয় মিটিয়ে উদ্বত্ত অর্থ উন্নয়ণখাতে ব্যয় করা যাবে। আগামী অর্থবছরেই বাড়তি আয়করসহ রাজস্ব আয় ক্রমে বাড়বে। তা দিয়ে বয়স্ক, দুটি শিশু ও দারিদ্র ভাতাসমূহ জুলাই, ২০২৩ থেকে সর্বনিম্ন মূলবেতনের ১২.% তথা ২,০০০/- টাকায় উন্নীত করাও যাবে। বাড়তি রাজস্ব আয় দিয়ে সরকার উন্নয়ণখাতে ব্যয় বাড়াতে পারবে। জাতীয় সুখশান্তিসমৃদ্ধি বাড়াতে মেঘনাপদ্মা বিভাগ ও অন্তর্বর্তীকলীণ মুজিব বেতন স্কেল চালু করা অপরিহার্য।

বাজার অর্থনীতিক ব্যবস্থায় বছরওয়ারী বেসরকারীখাতের উৎপাদনআয় এবং সরকারের রাজস্ব আয়ব্যয় বাড়ে। তেমনি জনপ্রতি জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে বছরওয়ারী বেতন ও দারিদ্র ভাতাসমূহ বাড়াতে হবে। সরকারের রাজস্বসহ অন্যান্য হারআয়ব্যয় হিসেব জুলাই থেকে করা হয়। বেতনস্কেল, মুজুরীস্কেল ও দারিদ্র ভাতাসমূহের সংশোধন জানুয়ারী থেকে সংশোধন হলে তার ইতিবাচক প্রভাবসমূহ পারষ্পারিকসহ বেশী হয়। জাতীয় ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করায় বেতন, মুজুরী ও দারিদ্র ভাতাসমূহের প্রকৃত পুর্গঠণ ব্যয় সামগ্রীক হিসেবে প্রায় অর্ধেকে রূপান্তরিত হয়।

আজকের সম্মৃদ্ধিশীল বাংলাদেশ কার উদ্যোগসমূহের ফসল?

লাগানো গাছের প্রকৃতি অনুযায়ী সময়ান্তে যেমন ফল পাওয়া পায়। তেমনি, রাষ্ট্রব্যবস্থার পূনর্গঠিত কাঠামোপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি অনুযায়ী সময়ান্তে ফলাফল পাওয়া পায়। আমার প্রস্তাবনা/উদ্যোগমত থানাগুলোকে উপজেলায় (১৯৮৩) এবং মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করার (১৯৮৪) ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে ৯টি বিভাগে (১৯৮৫) এবং পল্লীইউনিয়নকে ৯টি ওয়ার্ডে (১৯৮৬) বিভক্ত করা হলে রাষ্ট্রঅবকাঠামো প্রতিষ্ঠান সুষমগণতন্ত্রমুখী হতো এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহও ক্রমে সুষমগণতন্ত্রমুখী হয়ে উঠতো।

১৯৮৭এর মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রঅবকাঠামো হলে ৬/৭ বছরেই বেসরকারী অর্থনীতিক ব্যবস্থা সুষমপ্রতিযোগী ও প্রবৃদ্ধির হার .% উন্নীত হতো। পর্যায়ক্রমে অন্তর্বর্তীকলীণ মুজিব বেতন স্কেলসুষমমখী জাতীয় বেতন স্কেল চালু করা হলে সরকারী সংস্থা কর্মশীলতায় প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ২.% ও ৩.% হারে বাড়তো। দেশে শিষ্টাচারকরণ বাড়ন্ত হতো। দূর্ণীতি কমান্ত হতো। ৬৪টি জেলা গঠণের পরে বাংলাদেশ ৯/১০টি বিভাগে বিভক্ত হলে বহুমুখী সন্ত্রাসও বাড়ন্ত হতো না। স্বভাবতঃই বাংলাদেশ এখন মধ্যআয়ের দেশ থাকতো এবং জাতীয় সুখশান্তিসমৃদ্ধি বাড়ন্ত হতো।

আমার উদ্যোগতাগিদমত এরশাদসরকারামলে উপজেলাজেলা পূণর্গঠণ, খালেদাসরকারামলে আয়কর কাঠামো ০২৫%-এ হ্রাসসহ বরিশাল ও সিলেট বিভাগ (১৯৯৫) হয়েছে। এতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.% ও রাজস্ব আয় ১০.%-এ উন্নীত হয়েছে। পল্লীইউনিয়নকে ৯টি ওয়ার্ডে (১৯৯৭) বিভক্ত করা ছাড়া ১ম মেয়াদে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার কোন অবদান নেই। কোন পূনর্গঠণের অবদান ছাড়া ২য় মেয়াদে ক্ষমতাসীন খালেদাসরকার (২০০৪০৬) ও হাসিনাসরকার (২০০৯১৫) জিডিপির ৬.% প্রবৃদ্ধি ও ১০.% রাজস্ব আয়ের সুবিধাভোগী। এ রাজস্বে ডিজিটাল প্রযুক্তিরাস্তাসেতুবিদ্যুৎ নির্মানে জনগণের সুবিধা বেড়েছে, প্রবৃদ্ধি হার ও রাজস্ব আয় বাড়নি।

মঙ্গাদূরীকরণ, ছাত্রআন্দোলন থামাতে ও পদ্মাসতু নির্মানে অর্থ যোগাতে আমার তাগিদমত হাসিনাসরকারামলে রংপুর ও ময়মনসিংহ (২০১৫) বিভাগ করা হয়। এতে ক্রমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.% ও রাজস্ব আয় ১১.%-এ উন্নীত হয়। সেই রাজস্ব দিয়ে রাস্তাসেতুবিদ্যুৎ নির্মানক্রয় হয়েছে। তবে এসব কোন মৌলিক অবদান নয়, সরকার ও সরকারী দপ্তরসমূহের দৈনিন্দিন কাজ। মেঘনাপদ্মা বিভাগ ও অন্তর্বর্তীকালীণ মুজিব বেতন স্কেল চালু করা হলে, /৬ বছরে ক্রমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১২.%-এ ও রাজস্ব আয় ১৬.%-এ উন্নীত হতো। তাহলে জনগণের জন্যে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা মৌলিক অবদান হতো। সে অর্থ দিয়ে দরিদ্রভাতা ও উন্নয়ণ ব্যয় বাড়নো যেতো।

ব্যক্তিস্বার্থে আমার তাগিদমত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ৯ম আঞ্চলিক ক্যান্টঃ গঠণ (২০১৩) এবং সেনা জনবল হাজার জনতায় ১.৫ জনে উন্নীত করেছেন (আমার রূপরেখা ২.০ জনে উন্নীত করা)। ব্যক্তিস্বার্থে মেরামতসহ অব্যবহৃত ভোটযন্ত্রের জন্যে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মুজিবস্যাটলাইট১ ও এর ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। অথচ ৫/৬ বছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হার ৩.% (=.+ .) ও রাজস্বআয় জিডিপির ৪.% আরও বাড়বে জেনেও বছরে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের মেঘনাপদ্মা বিভাগ এবং মাত্র ২০% বাড়তি ব্যয়ে অন্তর্বর্তীকালীণ মুজিব বেতন স্কেল চালু করছেন না।

প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সুখসমৃ্দ্ধি, না দূর্ণীতিঅশান্তির বাংলাদেশ বাড়ার কারিগর?

মেঘনাপদ্মা বিভাগ ও অন্তর্বর্তীকালীণ মুজিব বেতন স্কেল চালু হলে, ৫ বছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার আরও ৩.% ও রাজস্বআয় জিডিপির ৪.% আরও বাড়বে। এ বাড়তি রাজস্ব দিয়ে চলতি ব্যয় মিটিয়ে বয়স্ক, দুটি শিশু ও দারিদ্র ভাতাসমূহ সর্বনিম্ন মূলবেতনের ১২.%-এ উন্নীত (বর্তমনে ২,০০০/- টাকায়) এবং উন্নয়ণখাতে আরও ব্যয় করা যাবে। এসব জেনেও যিনি মেঘনাপদ্মা বিভাগ ও অন্তর্বর্তীকালীণ মুজিব বেতন স্কেল চালু করছেন না, তিনি কিভাবে “সম্মৃদ্ধিশীল বাংলাদেশ” গড়াসহ জাতীয় সুখশান্তিসমৃদ্ধি বাড়ার কারিগর হলেন?

৮টি আঞ্চলিক ক্যান্টঃভিত্তিক হলে প্রতিরক্ষাকাঠামো স্বনিয়ন্ত্রিত হয় (১৯৯০)। এরপরে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ভোটে ক্ষমতাসীন হতে পারেন। তিনি ১৫ ও ২১ আগষ্টের বিচারও করাতে পেরেছেন। তিনি মেঘনাপদ্মা বিভাগ, সুষমমখী জাতীয় বেতন স্কেল, ৯ম আঞ্চলিক ক্যান্টঃ গঠণ, জেলাপরিষদের ভোটব্যবস্থায় দুইকক্ষ সংসদ গঠণ, ইত্যাদিতে আমার কাছে এবং ৯ম সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতির কাছে অঙ্গীকার বদ্ধ। ৯ম সংসদ নির্বাচনে গণম্যান্ডেটকৃত ১নং অঙ্গীকার ১৪ বছরেরও পুরণ করেননি। বরং বাবার মতো গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রতিষ্ঠন ধংশ করছেন। তিনি কিভাবে জাতীয় সুখশান্তিসমৃদ্ধি বাড়ার কারিগর হলেন?

মেঘনা ও পদ্মা বিভাগ গঠণের সিদ্ধান্ত ২০১৫এ হয়েছে। এ জন্যে বছরে ব্যয় বাড়বে মাত্র ৪০ কোটি টাকা (জনপ্রাসন ও স্বরা্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট)। অথচ বছরে ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের মিথ্যাচার করে বাস্তবায়ণ করছেন না। পূর্বে প্রচলিত ও অন্তর্বর্তীকালীণ হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীণ মুজিব বেতন স্কেল চালুতে ‘কমিশন’ গঠণ লাগবে না। প্রধানমন্ত্রী হাসিনা চাইলে, পদক্ষেপদ্বয় ১০দিনেই চালু করতে পারেনএ দুই পদক্ষেপে দেশের বহুমুখী বাড়ন্ত সমস্যা কমান্ত হবে এবং সুখশান্তির বিশ্বদৌড়ে কয়েক বছরে বাংলাদেশ (১১৮তম) নেপালে (৭৮) উপরে চলে আসবে

৬ দফা শপথ ও স্বাধীনতার অঙ্গীকার ভ্ঙ্গ করে বাবাও ১ম ধাপে মুজিববাদ এবং ২য় ধাপে বিনানির্বাচনে রাষ্ট্রপতি হন ও একদলীয় স্বৈরতন্ত্র চালু করেন। গণম্যান্ডেটকৃত অঙ্গীকারভঙ্গের পরিনতি প্রধানমন্ত্রী হাসিনা জানেন। তাই অঙ্গীকার রক্ষা করে রাষ্ট্রপতি হামিদের পরে ভারতপাকিস্তানের মতো দুবার “নির্বাহী রাষ্ট্রপতি” হয়ে জাতির সেবা করার পরামর্শ দিই। গণতন্ত্রের দেশের রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা জাতি আগে জানতে ও অভিমত দিতেও পারবে না কেন? ৩য় শ্রেণীতে এসএসসি ও এচএসসি পাশ এবং ১ম বারে বিএ ফেল হলে, তাঁদের চালাকীও ৩য়/৪র্থ শ্রেণীই হয়।

ক্ষমতাসীন সরকারপ্রধানের মূল্যায়ণ কাজকর্মে, কথায় নয়। সদলবলে সন্ত্রাসস্বৈরচারমিথ্যাচারের বিজয় ক্ষণস্থায়ী। রাষ্ট্রচিন্তা, পূনর্গঠণের প্রস্তাবনা ও উদ্যোগগুলো পত্রিকায় প্রকাশিত্ নবনির্বাচিত রা্ষ্ট্রপতি সাহবুদ্দীনও আমার বিষয়ে জ্ঞাত আছেন। জরুরী ভিত্তিতে বছরে মাত্র ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের মেঘনাপদ্মা বিভাগ, এপ্রিল, ২০২৩ থেকে অন্তর্বর্তীকালীণ মুজিব বেতন স্কেল ও জুলাই, ২০২৩ থেকে সর্বনিম্ন মূলবেতনের ১২.% (বর্তমনে ২,০০০/- টাকা) দারিদ্র ভাতাসমূহ চালু করে, প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকেই প্রমান করতে হবে, তিনি জাতির সুখশান্তিসমৃদ্ধি চান। অন্যাথায় প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে অকৃতজ্ঞ, মিথ্যাচারী, বৈঈমান, পরশ্রীকাতর ও স্বৈরচারী গালি শুনতেই হবে।

*মোহাম্মদ আহ্সানুল করিমঃ  

রাষ্ট্রবিশেষজ্ঞ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক বিসিএস কর্মকর্তা। ১৯৮২ থেকে “সম্মৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ” গঠনে ভিত্তিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতন্ত্রমুখী পুনর্গঠনের উদ্যোগী এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা (১৯৮৫), প্রগতিশীল গণতন্ত্র (১৯৯১), ও সংবিধান সংশোধনের দিকগুলো (২০১০) নিবন্ধ/বইযের লেখক। পূর্বে প্রকাশিত নিবন্ধের সময়োচিত সংশোধন করা হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.