শস্য রপ্তানি চুক্তির মেয়াদ বাড়ল

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
twitter sharing button
linkedin sharing button
print sharing button

বহুল আলোচিত শস্য রপ্তানি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বৈশ্বিক খাদ্য ঘাটতি দূর করতে ইউক্রেনের বিভিন্ন বন্দরে আটকে থাকা খাদ্যশস্য রপ্তানির লক্ষ্যে যুদ্ধরত রাশিয়ার সঙ্গে চলতি বছরের জুলাইতে এ চুক্তিটি হয়।

শনিবার এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আরও চার মাস বাড়াতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে এই চুক্তি নবায়ন হয়। এএপপি, রয়টার্স।

চুক্তি পরবর্তী বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেন, এটা স্পষ্ট যে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ও নিরাপত্তার জন্য চুক্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, রাশিয়ান এবং ইউক্রেনের নেতাদের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, কৃষ্ণসাগরে শস্য রপ্তানির উদ্যোগ জারি রাখতে সব পক্ষ সম্মত হওয়ার সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। গুতেরেস বলেন, রাশিয়ার খাদ্য ও সার রপ্তানিতে থাকা বাধা অপসারণে জাতিসংঘ পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চুক্তিটি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, শস্য চুক্তিতে মধ্যস্থতা করার মাধ্যমে খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এরদোগান এবং গুতেরেস। ইউক্রেনের অবকাঠামোমন্ত্রী আলেকজান্ডার কুব্রাকভ এক টুইটে জানান, খাদ্যশস্য চুক্তির মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ার কথা জানিয়েছেন। বিশ্বের গমের মোট চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করে ইউক্রেন এবং রাশিয়া। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়।

সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় সার রপ্তানিও। এতে বিশ্বে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়। ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি পুনরায় চালু করতে জুলাইয়ে জাতিসংঘ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের মধ্যস্থতায় চুক্তিতে সম্মত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন।

এ চুক্তির পর বিশ্ববাজারে আবারও ইউক্রেনের শস্য আসা শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো দিয়ে টনে টনে শস্য বিশ্ববাজারে যায়। অবশ্য চলতি মাসের শুরুর দিকে রাশিয়া চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর আবারও ফিরেছে। এদিকে শস্য রপ্তানি চুক্তির মেয়াদ বাড়বে এমন গুঞ্জন চলার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের মূল্য কিছুটা কমেছে।

এদিকে ইউক্রেনে আবার হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর বৃহস্পতিবার ছিল তীব্র বোমা হামলার অন্যতম দিন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিনিপ্রোতে একটি গ্যাস উৎপাদন কেন্দ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, জাপোরিজঝিয়ার আবাসিক ভবনগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে চারজন নিহত হয়েছে।

নিকোপোল শহরের চার পাশে ৭০টি গোলার আঘাতে অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগবিহীন হয়ে পড়েছে। ওডেসা ও খারকিভ অঞ্চলে আরও অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এর ফলে প্রতিটি জায়গায় তিনজন আহত হয়েছে। রাজধানী কিয়েভে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। সেখানে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুটি ইরানের তৈরি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আলজাজিরা।

 

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.