আমি গালিবুজ্জামান ভুঁইয়া।আজ আপনাদের মাঝে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার ইউক্রেনের আক্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো।আমি ইউক্রেনে ছিলাম ১৯ বছর।বর্তমানে আমি আমার পরিবার নিয়ে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে শরনার্থীর আস্রয়ে আছি।আমরা সবাই জানি রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ শুরু হয় ২০১৪ সাল থেকে ক্রিমিয়া এবং দনবাস অঞ্চলের জের ধরে।২০২১ সালের শেষের দিকে খবরে দেখলাম রাশিয়া ইউক্রেন সিমান্তে সামরিক মহড়া করার নামে সৈন্য এবং সাজোয়া যান জড়ো করছে।তখন থেকেই ইউক্রেনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা শুরু হলো।ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে ইউক্রেনকে সতর্ক করছিলো রাশিয়া আক্রমণ করবে কিন্তু রাশিয়া বার বার বলে আসছিলো যে তারা কোন আক্রমণ করবে না।আর ইউক্রেনের পূর্ব দক্ষিনাঞ্চলের জনগনের মধ্যে বিশ্বাস ছিলো রাশিয়া আক্রমণ করবে না।কারন এসব অঞ্চলে রুশ ভাষাভাষী এবং রুশ বংশের মানুষরা থাকতো।তবুও একটা চাপা আতংক বিরাজ করতো।তবুও ইউক্রেনের জীবন যাত্রা ছিলো স্বভাবিক।খারকিভ শহরটাকে বলা হয় স্টুডেন্ট সিটি কারন এখানে ৪৫ টি সরকারি ইউনিভার্সিটি আছে তাই প্রতিবছর সেখানে বিভিন্ন শহর থেকে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে স্টুডেন্ট পড়াশোনা করতে আসতো।আমি Kharkiv National University of V.N.KARAZIN এ Foreign admission Department এ কাজ করতাম।ডিসেম্বর মাস থেকে ইউক্রেনের পরিস্থিতি একটু অস্বাভাবিক হওয়া শুরু করলো। আমাদের স্টুডেন্ট এবং অভিভাবকরা যোগাযোগ করে জিজ্ঞেস করা শুরু করলো ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হবে কি হবেনা আমরা কি করবো?আমরাও ইউনিভার্সিটিতে জিজ্ঞেস করলাম ছাত্ররা দেশে চলে যাবে না কি করবে? কিন্তু কেউ কোন সঠিক উত্তর দিতে পারিনি।কারন এডুকেশন মিনিস্ট্রি থেকে আমাদের কাছে কোন ক্লিয়ারেন্স আসছিলো না।তবুও ১০ ভাগ স্টুডেন্ট দেশে চলে গিয়েছিলো।আমরা সবাই এমন পরিস্থিতি নিয়ে কনফিউজড ছিলাম।১লা জানুয়ারি আমি আমার বড় ভাইকে(উনি তুরুস্কতে থাকেন।আগে ইউক্রেনে থাকতেন) রিসিভ করতে খারকিভ এয়ারপোর্টে যাই সেখানে দেখলাম বর্ডার সিকিউরিটি গার্ডরা সবার হাতেই অস্ত্র।এরকম টা আগে কখনো দেখিনি।এবং দেখলাম রাশিয়ার পাসপোর্টধারিদের কাউকে ইউক্রেন এ্যান্ট্রি করার অনুমতি দিচ্ছেনা।সবাইকে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে।যাই হোক পরে যতদিন যাচ্ছিলো আস্তে আস্তে চাপা উত্তেজনা বাড়ছিলো।কিন্তু তবুও জীবন যাত্রা স্বভাবিক।আমার ছেলে স্কুলে যাচ্ছে আমি প্রতি দিনের মত কাজে যাচ্ছি স্টুডেন্টরা ঠিক মত ক্লাসে যাচ্ছে।১০ জানুয়ারি আমি বড় ভাইকে সি ওফ করতে যাই এয়ারপোর্টে।ভাইয়া যাবার আগে একটা কথা বলেছিলো।গালিব এটাই মনে হয় আমার শেষ খারকিভ সফর সাবধানে থাকিস।আমার স্ত্রী ইউক্রেনের নাগরিক। আমার শাশুড়ী থাকেন দোনেস্কের ঘিনেকিভা শহরে।শহরটা বিগত ৮ বছর দনবাসের বিচ্ছিন্নতাবাদীর দখলে।কেন যেনো এক অজানা কারনে আমার শাশুড়ীর জন্য চিন্তা করতে থাকলাম।২১ ফেব্রুয়ারি ভ্লাদিমির পুতিন দোনেস্ক এবং লুঘান্সকে রিপাবলিক করার ঘোষণা দিলো।২২ ফেব্রুয়ারি পুতিন দোনেস্ক এবং লুগান্সক শহরে ফলস ফ্ল্যাগ ওয়ার শুরু করে ইউক্রেনকে দোনেস্ক রিপাবলিক এবং লুগান্সক রিপাবলিক এ হামলার দোষ দিতে থাকলো।আমি তখন থেকেই মোটামোটি নিশ্চিত হয়ে গেলাম বড় কিছু ঘটবে।আমি আমার স্ত্রী কে বার বার বলছিলাম মাকে বলো চলে আসতে কিন্তু আমার শাশুড়ী আসতে পারছিলোনা।
২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে জীবন যাত্রা আগের মতই স্বভাবিক।আমি সব সময়ের মত কাজে বের হলাম।দুপুর বেলা খারকিভে পরিক্ষা করার জন্য সাইরেন বেজে উঠলো।পরে কাজে আর মন দিতে পারছিলাম না।ভিতরে এক অজানা অনুভূতি।বাসায় চলে আসলাম।খারকিভের কিছু বাংলাদেশের স্টুডেন্ট আর ছোট ভাইরা আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলো ওরা কি করবে।কিন্তু আমার কাছে কোন উত্তর ছিলোনা।আমি নিজেই কনফিউজড ছিলাম তবে বলে রেখেছিলাম যেকোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে।আমি যুদ্ধের কিছুদিন আগে খারকিভের পরিচিত একজন আর্মি পারসন কে জিজ্ঞেস করেছিলাম ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হবে কিনা সেও বলল কিছু হবেনা। বলল এখন যা হচ্ছে তা ইনফরমেশন ওয়ার।এগুলো কানে নিও না।মানে রাশিয়া কোন ভাবেই বুঝতে দিচ্ছিলোনা যে কি করবে।সন্ধার সময় হাঠাৎ বড় ভাই আমাকে ফোন করে বলল অস্ট্রেলিয়ার ইন্টলিজেন্স থেকে খবর প্রকাশ করেছে রাশিয়া ২৪ ঘন্টার মধ্যে ইউক্রেনে আক্রমন করবে তুমি পারলে এখনই কোন সেফ জোনে চলে যাও।বলা বাহুল্য আমি ছিলাম খুবই রিস্ক জোনে।আমার বাসার বারান্দা থেকে রাশিয়ার আকাশ দেখা যেতো।আমি সাথে সাথে আমার স্ত্রীকে ব্যাগ গোছাতে বললাম শিগ্রই বাসা থেকে বের হতে।কিন্তু সে রাজি হলোনা।তার মনেও বিশ্বাস ছিলো শেষ পর্যন্ত রাশিয়া কিছু করবেনা।রাত ৮ টার সময় খবর পেলাম ইউক্রেনের সব আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট বন্ধ করে দিয়েছে।রাত ১০:৩০ এ অন্য শহর থেকে এক বাংলাদেশি আমাকে ফোন করে বললো পোল্যান্ড বাংলাদেশ এ্যাম্বাসিতে অনলাইনে একটা মিটিং হবে আমি যেনো অংশগ্রহন করি।১১ টার সময় মিটিং শুরু হলো।মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন এ্যমবাসিডর সুলতানা লাইলা হোসেন এবং কসুলার(নামটা মনে নেই)।রাজধানী কিয়েভ এর সিনিয়র বাংলাদেশি মাহবুব ভাই এবং স্টুডেন্ট
এবং অন্যান্য বাংলাদেশি।মিটিং এ সবাই ছিলো আতংকের মধ্যে। সবার একটাই অনুরোধ আমাদের সাহায্য করুন।কিন্তু বাংলাদেশ এ্যাবাসিতে থেকে বলছিলো সবাইকে শান্ত থাকতে তারা যথাযথ ব্যবস্থা করবে।বাংলাদেশ এ্যাম্বাসি পোল্যান্ড সরকারের কাছ থেকে ইউক্রেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বর্ডার উন্মুক্ত করার অনুমতির অপেক্ষায় ছিলো।মিটিং শেষ হবার পর রাত ১ টার দিকে ঘুমাতে যাই কিন্তু ঘুম আসছিলো না।
২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ঠিক ৫ টা
বিকট শব্দে বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠি।একনাগাড়ে প্রায় ৮/১০ টি রকেট হামলার পর দেখলাম দূরে কালো ধোঁয়া উড়ছে।আধা ঘন্টা পর লাগারতার হামলা।কলিজা কেঁপে ওঠার মত আওয়াজ।বুজতে পারছিলাম না কি করবো।সকাল ৭ টার দিকে রাস্তায় বের হলাম বাইরের পরিস্থিতি দেখার জন্য।এ এক অস্বাভাবিক সকাল মানুষ যেদিকে পারছে ছুটছে।হামলার প্রথম দিন রাশিয়া কোন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করেনি।ওদিন শুধু মেজর কিছু পয়েন্টে হামলা করে।খারকিভের মেয়র ঘোষণা দিলো সবাই যেনো বাড়ির বেসমেন্ট বা মেট্রোরেলের প্লাটফর্ম এ অবস্থান করি।দুপুরে আমি পরিবার নিয়ে প্লাটফর্মে গিয়ে দেখি সেখানে তিল পরিমান জায়গা নেই।প্লাটফর্ম এবং ট্রেনের ভিতররেও মানুষে পরিপূর্ণ।সেখানে স্থানীয় এবং বিদেশি স্টুডেনরাও আশ্রয় নিয়েছে।বাইরে সারাদিন এবং সারারাত তান্ডব চলল।এর মধ্যে রাতে আবার ফোন আসলো বাংলাদেশ এ্যামবাসির মিটিং এ অংশগ্রহন করতে।প্লাটফর্মের ভিতর ইন্টেরনেট কাজ করেনা তাই রাস্তায় বের হলাম ৫ মিনিটের জন্য।আমি মিটিংয়ে আংশগ্রহন করেই বললাম আমার হাতে সময় নেয় বাইরে হামলা হচ্ছে আপনারা দয়া করে জলদি বর্ডার খোলার ব্যবস্থা করেন।যদি সম্ভব না হয় তাহলে ইন্ডিয়া এ্যামবাসির সাথে যোগাযোগ করেন।এটা বলে দ্রুত প্লাটফর্ম এ চলে যাই।তার দু ঘন্টা পর সুলতানা ম্যাডাম ওনেক কস্ট করে বাংলাদেশিদের জন্য পোল্যান্ড বর্ডার উন্মুক্ত করার অনুমতি পেলেন।
২৫ তারিখ সকাল ১০/১১ টার দিকে আবার শুরু হলো হামলা।এই হামলার মধ্যেই আমি এবং আমার এক বাংলাদেশি ছোট ভাই আদিলকে নিয়ে বাংলাদেশের কিছু স্টুডেন্টদের পোল্যান্ড বর্ডারে যাবার ব্যবস্থা করি।রাতের বেলা হামলা বন্ধ হয়ে যায়। তাই রাতে নিজ বাসার করিডরে অবস্থান করি।
২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হতে শুরু করলো।সিদ্ধান্ত নিলাম আর বসে থাকবোনা।বাইরে তখন তুমুল রকেট হামলা।আর কিয়েভের অবস্থা তো আরো খারাপ।গাড়িতে যা পারলাম নিয়ে নিলাম।আমি আমার স্ত্রী,ছেলে,বাসার পোষা বিড়াল আর বাংলাদেশি ছোট ভাই আদিল দুপুর ২ টার দিকে এক কাপড়ে রওনা দিলাম পোল্যান্ড এর উদ্দেশ্যে।ছেড়ে আসলাম খারকিভ শহর আর সাজানো গোছানো ১৯ টা বছর।ওই দিনটির কথা মনে পরলে এখনও চোখ ভিজে যায়।
পোল্যান্ড বর্ডার মুলত কিয়েভ হয়ে যেতে হয়।সেখানে তখন যুদ্ধ পরিস্থিতি ছিলো সবচেয়ে খারাপ।তাই আমাদের বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে হবে।রাস্তায় চেকপোস্টে জিজ্ঞেস করলাম কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হবে।তারা বলল কিরভোগ্রাদ এর রাস্তা দিয়ে যেতে।তাই আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য ছিলো রাতের আগের কিরভোগ্রাদ পৌছানোর কারন রাত ১০ টার পর কারফিউ শুরু হয়ে যাবে।আমরা রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কিরভোগ্রাদে পৌছাই।সেখানে দেখা দিলো এক বিপত্তি।সেখানে কোন হোটেলে খালি রুম পাওয়া যায়নি।এদিকে রাত ১০ টার পর বাইরে থাকা নিষেধ তাই অনেক কস্ট করে একটি বাচ্চাদের কিন্ডারগার্টেন এ আশ্রয় নেই।কিরভোগ্রাদ কিয়েভ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর।রাত দুটার দিকে ৩০০ কিলোমিটার দুর থেকে কিয়েভে বোমা হামলার আওয়াজ পাচ্ছিলাম।
২৭ ফেব্রুয়ারী সকালে আবার যাত্রা শুরু করলাম পোল্যান্ড এর উদ্দেশ্যে।মাঝ পথে ভিনিতসিয়া নামক শহরে একটি শপিংমলে ঢুকলাম কিছু খাবার কিনতে।কেনাকাটা যখন প্রায় শেষ হঠাৎ শপিং মল এর কর্মচারীরা বলল তারাতারি শপিংমল ত্যাগ করতে এয়ার স্ট্রাইক হবে।আমরা সবাই তাড়াহুড়ো করে বাইরে বের হলাম।খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে আছি বাইরে সাইরেন বাজছে।উপর দিয়ে কিছু ফাইটার প্লেন উড়ে গেলো । ১ ঘন্টা গোলাবর্ষণের আওয়াজ পেলাম পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেলো।পরে আমার শপিংমলে ঢুলে ক্যাশ কাউন্টারে পে করে আবার রওনা দিলাম।সিদ্ধান্ত নিলাম যেভাবেই হোক আজকে বর্ডারে পৌছাবো।আমি বেশ কয়েক বছর ডায়বেটিস এর রোগি।আমার সুগার ছিলো ওনেক দুই তিন রাত ঘুম নেই।আমি ছিলাম যারপরনাই ক্লান্ত।নাদিয়া (আমার স্ত্রী)আমাকে বলছিলো গাড়ীতে বিশ্রাম নিতে কিন্তু আমি পারছিলাম না।আমার তখন একটাই চিন্তা ছিলো আমার পরিবারকে বাঁচাতে হবে আমার সন্তানকে বাঁচাতে হবে।রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় দেখলাম গাড়ির ধ্বংসাবশেষ পরে আছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ঠিক ভোর ৫ টায় পোল্যান্ড বর্ডার থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে ইমিগ্রেশনের জন্য গাড়ির লাইনে দাড়াই।সেখানে দুই ধরনের লাইন ছিলো একটি লাইন ছিলো যারা গাড়িতে করে আরেকটি লাইন ছিলো যারা ট্রেনে করে পোল্যান্ড সিমান্তবর্তি স্টেশন করে পরে পায়ে হেটে ইমিগ্রেশন ক্রস করছিলো।ইউক্রেনের সিমান্তের অবস্থা ছিলো ভয়াবহ।না ছিলো কোন দোকান না ছিলো কোন টয়লেটের ব্যবস্থা।আশেপাশে কোন খাবারের রেস্তোরাঁ নেই।সেখানে পুলিশ আর ভলান্টিয়ার উপস্থিত ছিলো।ভলান্টিয়াররা লাইনে অপেক্ষারত সবাইকে খাবার এবং পানি সরবরাহ করেছে।বর্ডারের ওখানে এত পরিমান মানুষ ছিলো গাড়ি গুলো অল্প অল্প করে এগোচ্ছিলো।কেউ কেউ বর্ডার এলাকার আশেপাশে গাড়ি রেখেই ইমিগ্রেশনের দিকে হাটা শুরু করে।রাস্তায় এক ভারতীয় ছাত্রকে দেখলাম তার সুইটকেস এর চাকা ভাঙা এবং হাতলও ভাঙা। সেটাকে দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে টেনেহিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।সবার চোখে দেখলাম আতংক।সবাই ছিলো ক্লান্ত।সারাদিন দিন এবং সারারাত অপেক্ষা করলাম অল্প অল্প করে গাড়ি নিয়ে আগালাম ইমিগ্রেশনের দিকে।এদিকে আমার অবস্থা কাহিল আমার সুগার লেভেল ছিলো প্রায় ২৪।নির্ঘুম যাত্রায় ছিলাম ক্লান্ত।অবশেষে ১ মার্চ ১০ টার দিকে পোল্যান্ড বর্ডার ক্রস করলাম।বর্ডার থেকে পিছনে ফিরে শেবারের জন্য ইউক্রেন কে দেখলাম এবং পরে আমার স্ত্রীর দিকে তাকালাম দেখলাম সে কাঁদছে।পরে আমি চিন্তা করলাম এ আমি কি করলাম কেনো আমি ইউক্রেন থেকে চলে আসলাম?ইউক্রেনে এত বছর থেকে দেশটার প্রতি মায়া জন্মেছিলো।পরে আমরা রওনা দিলাম পোল্যান্ড এর রাজধানী ওয়ারসোর উদ্দেশ্যে। সেখানে বাংলাদেশ এ্যামম্বাসি ইউক্রেন থেকে আসা বাংলাদেশি দের জন্য থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করে রেখেছিলো।এবং তা ছিলো খুবই মানসন্মত।বাংলাদেশ সরকার এবং এ্যামবাসাডর সুলতানা ম্যাডামকে অনেক ধন্যবাদ জানাই আমাদেরকে সহজোগিতা করার জন্য।
পোল্যান্ড এ চার দিন থাকার পর রওনা দিলাম জর্মানির উদ্দেশ্যে।বর্তমানে শরনার্থী হিসেবে জার্মানিতে সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি।এখান্র বাংলাদেশ কমিউনিটি আমাকে অনেক সাপোর্ট দিচ্ছে কিন্তু কোন কিছুতে তৃপ্তি পাচ্ছিনা।মনটা সারাক্ষণ পড়ে থাকে নিজের শহরে।অপেক্ষায় থাকি যুদ্ধ শেষ হবার।ফিরে যাবো নিজের বাড়িতে।
গালিবুজ্জামান ভুঁইয়া, ইউক্রেন প্রবাসী বাংলাদেশী ।

