নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, কোন মন্ত্রীর বিদেশে কতো টাকা আছে এর হিসাব দিতে হবে। এক মাঘে শীত যায় না। অনেকেই ধরা পড়েছে। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ আপনাদের ধরে বলবে, আমরা এই টাকার হিসাব চাই। কেউ তাদের সেফ এক্সিট দেবে না, সম্মানের সাথে কোথাও বসিয়ে দেবে না। অপরাধ করেছেন, এর শাস্তি পেতেই হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে ‘ভোট ডাকাতির ৩ বছর’ শিরোনামে এ আলোনা সভার আয়োজন করা হয়।
মান্না বলেন, মানুষ এই সরকারকে বিশ্বাস করে না।
সরকারের লোকেরা বলেন, কতো সুন্দর ভোট হলো ৩০ তারিখে, অথচ মানুষ বিশ্বাস করে না। আমার প্রশ্ন, এই দেশের মানুষ কি কোন ভোট দিতে পেরেছে?
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মান্না বলেন, র্যাবকে যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে হলো এ দায় সরকারের। আমেরিকা যে চিঠি দিয়েছিলো, তা নিয়ে কী করেছেন? কোনো উত্তর দিয়েছেন? এখন কাহিনী বানাচ্ছেন। আপনার দেশের খুনিদের আমেরিকা-কানাডা আশ্রয় দিয়েছে এ কথা বলছেন। আপনার দেশে যারা আপনার মানুষকে খুন করছে, তাদের বিচার করেছেন?
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশে ভোটাধিকার অর্জন করতে না পারলে আমরা আর কিছুই অর্জন করতে পারবো না। যে পাটকলগুলো বন্ধ হলো তার শ্রমিকরা আজও বেতন পায়নি। বন্ধ হয়ে যাওয়া গার্মেন্টস কর্মীরা অনেক আন্দোলন করেও বেতনের দাবি আদায় করতে পারেনি। বাংলাদেশের জনগণ এখন ভয় কাটিয়ে এই সরকারের বিপক্ষে জয়ের আন্দোলনে মাঠে নামবে। আমরা তাদের সামনে নিয়ে এই সরকারের পতনের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবো।
বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এই সরকার এর আগে সংলাপ করলো, ভোট ডাকাতি করে তারা তাদের কথা রাখেননি। তারা মুনাফেকি করেছে। একে মুনাফেকি বললেও কম বলা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলছে। এতেই প্রমাণিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারলে কীভাবে নৌকার প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সরকার এগুলো জানে। পাকিস্তানিরা ভোটাধিকার দেয়নি, আজ সরকার ভোটের ব্যবস্থাই করে না। সাধারণ মানুষের জন্য এই ভোটাধিকার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- নাগরিক ঐক্যের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মোমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ-উর-রহমান, নাগরিক যুব ঐক্যের সমন্বয়ক এস এম এ কবীর হাসান, নাগরিক নারী ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসি আক্তার, ছাত্র ঐক্যের সভাপতি মোশাররফ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান খসরু, সদস্য সচিব রাজ্জাক সজিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব আতিকুল ইসলাম, নারী ঐক্যের আহ্বায়ক শাহনাজ রানু, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক রাজা, সাকিব আনোয়ারসহ নাগরিক ঐক্য, যুব ঐক্য, নারী ঐক্য ও ছাত্র ঐক্যের নেতাকর্মীরা।

