চীন-যুক্তরাষ্ট্রঃ যুদ্ধ কী অনিবার্য 

অ্যাডভোকেট আনসার খান :একবিংশ শতাব্দীতে চীনের অর্থনৈতিক,সামরিক ও কৌশলগত উত্থান বিশ্বরাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।বিশেষকরে,চীনের অর্থনৈতিক অভূতপূর্ব উন্নতি আন্তর্জাতিক ব্যবস্হায় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

বৃহত্তর দৃষ্টিতে-চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বর্তমান ভৌগোলিক রাজনীতির পূণর্গঠনকে শুধু এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওপরই নয়-বরং সমগ্র বিশ্বব্যবস্হার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।কেননা,অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে চীন তার সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্হাকে আধুনিকায়ন করে বর্তমান বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষতা অর্জনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে পারে।এটি লক্ষনীয় যে ভূ-কৌশলগত আধিপত্য বিস্তারের জন্য অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব যেমন আবশ্যক,তেমনি প্রয়োজন রাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা।চীন এই দুটি ক্ষেত্রেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং ইতোমধ্যেই চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে উন্নীত হয়েছে বলে মনে করা হয়।

চীনের অর্থনৈতিক উত্থান এবং সামরিক সক্ষমতা অর্জনের প্রচেষ্টা বিশ্বের মহাশক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।চীনের উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এমন একটি চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করেছে-যেখানে শীতল যুদ্ধ শেষের পরবর্তী তিন দশকের মধ্যে এটির মুখোমুখি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি একবিংশ শতাব্দীর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র–এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে অস্বীকার করে “বৈশ্বিক শৃঙ্খলা বা ওয়ার্ল্ড অর্ডারকে” নতুন রূপ দিতে পারে।অথচ বিশ্বের ক্ষমতাধর শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।ওই অঞ্চলে চীনের একক কর্তৃত্ব স্হাপনের প্রচেষ্টাকে বিনা চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে সেটিও ভাবা যায় না।এছাড়াও চীনের ক্রমাগত শক্তি বৃদ্ধিই একমাত্র প্রাসঙ্গিক শক্তি-যা সম্ভবত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আধিপত্য বিনষ্ট করতে পারে।এসব কেন্দ্র করে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।তাই প্রায়শই প্রশ্ন ওঠে-একটি শক্তিশালী চীন কী যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশংকা রয়েছে এবং এক্ষেত্রে চীনের উত্থান ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র কী ভবিষ্যতে চীনের সাথে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
আসলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সশস্ত্র যুদ্ধের একটি নির্দিষ্ট সম্ভাবনা আছে কি-না- এমন প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর কারো পক্ষেই বলে দেওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে।কারণ ভবিষ্যতের অনেক কিছুই অজানা।এবিষয়ে  রাষ্ট্র দার্শনিক টমাস হবসের মন্তব্য বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।তিনি বলেছেন-“বর্তমানের কেবল একটি প্রকৃতি আছে-অতীতের জিনিসগুলো কেবল স্মৃতিতে থাকে।তবে আসন্ন জিনিসগুলোর কোনোও অস্তিত্ব নেই।”
হবসের উদ্ধৃতি থেকে এটি স্পষ্ট যে ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে তা বলা সহজ কোনো ব্যাপার নয়।তাই চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যতে কি ধরনের সম্পর্ক হতে পারে বা সশস্ত্র যুদ্ধ অনিবার্য কি-না- বা বিশ্বরাজনীতিতে কী ঘটতে পারে তার পূর্বাভাষ দিতে আমাদের অবশ্যই তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ব্যবহার করতে হবে।
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় তিনটি দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় নিতে হবে।যেমন-প্রাথমিকবাদী,ব্যতিক্রমবাদী এবং বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি।
প্রাথমিকবাদীদের প্রবক্তা রাজনৈতিক গবেষক জন জে-মিয়ারশেইমার এবং হিউ হোয়াইট বলেন যে- রাষ্ট্রের বেঁচে থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামরিক,অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সক্ষমতা অর্জনের ক্ষমতা।এই প্রক্রিয়া চলাকালীন ক্রমবর্ধমান শক্তি স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষমতাসীন আধিপত্যবাদী শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে এবং এই চ্যালেঞ্জটি-“কৌশলগত প্রতিযোগিতার” পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে-যা সরাসরি আধিপত্যবাদী ও ক্রমবর্ধমান(উদীয়মান)শক্তির মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়ায়।এই তত্ত্ব সাধারণত-“চীনা হুমকি”নামে পরিচিত তত্ত্ব।এর উদাহরণ হিসেবে স্পার্টা এবং এথেন্সের মধ্যে পেলেপোনেশিয়ান যুদ্ধ থেকে শুরু করে ব্রিটেন ও জার্মানীর দ্বন্দ্ব এবং স্নায়ুযুদ্ধের বাইপোলার অর্ডার ইত্যাদির কথা উল্লেখ করা যায়।তবে একই লেখক স্বীকার করেছেন যে-চীনা অর্থনৈতিক উত্থান কিছু আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে-কিন্তু চীনা সমাজের গুণগত রূপান্তর-পরিমাণগত পরিবর্তনের একটি প্রাকৃতিক পরিণতি হিসেবে চীনের সংঘাতের সম্ভাবনা থেকে প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে।
ব্যতিক্রমবাদীদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের প্রধান যুক্তি হলো পূর্ব এশিয়া বিশ্বের একটি বিশেষ অংশ-যেখানে চীনের শান্তিপূর্ণ উত্থান সম্ভব।কারণ সাধারণ ভাবে একটি আঞ্চলিক ব্যতিক্রমধর্মীতা এবং বিশেষকরে একটি চীনা ব্যতিক্রমধর্মী সমাজ-“একটি এশিয়ান ইউরোপকে”এড়ানোর সম্ভাবনা রাখে।
অমিতাভ আচার্য,রবার্ট এস.রস সহ-“বাস্তববাদীদের স্কুল”জোর দিয়ে বলে যে শক্তিশালী জোটব্যবস্হা-যেমন আসিয়ানের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কাঠামো এবং উদ্যোগের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা দ্বারা সমর্থিত একটি শক্তিশালী জোট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে।
উপরোক্ত ভিন্ন তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য উপস্থাপন করেনি-তবে ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে-“এশিয়ান থিয়েটার”ভবিষ্যতের জন্য খুব জটিল এজেন্ডা হতে পারে বলে মনে করা হয়।বিশেষজ্ঞ বুজানের মতে-এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমান শতকে চারটি মূল প্রবণতা স্পষ্ট-১.চীন ও ভারতের ক্রমবর্ধমান উত্থান ২.যুক্তরাষ্ট্রের দূর্বলতা ৩.এশীয় আঞ্চলিক পরিচয় নির্ধারণের জন্য চলমান সংগ্রাম এবং ৪.চীনের বিরুদ্ধে ভারসাম্যের উত্থান।
একটি বিশ্ব শক্তি হিসেবে উত্থানের জন্য চীন বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে এসেছে কয়েক দশকধরে।অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক এবং সামরিক শক্তিতে বলিয়ান হওয়ার পাশাপাশি তার নিকট প্রতিবেশীদেশগুলোর সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ট করছে।সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন(এসসিও)গঠনের মাধ্যমে এশিয়া,ইউরোপ,আফ্রিকার দেশগুলোকে এর সদস্য করেছে।এছাড়াও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং বেল্ট এন্ড রোড প্রকল্প দ্বারাও আঞ্চলিক ও দূরবর্তী জাতিসমূহের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ট করছে। আফ্রিকার ধনী দেশগুলো থেকে সম্পদ পাওয়ার জন্য-চীন প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগরের মাধ্যমে বন্দরগুলোর একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে-“স্ট্রিং অব পার্লস”কৌশল বাস্তবায়ন করছে।
চীনের-“লুক ওয়েস্ট স্ট্র্যাটেজি”আরও বেশি উচ্চাভিলাষী ভাবে-“নিউ সিল্ক রোড”প্রজেক্টের নীলনকশা বাস্তবায়ন করার ঘোষণা করেছে-যার লক্ষ্য হলো চীনা শিল্প কেন্দ্রগুলোকে তাদের ইউরোপীয় সমকক্ষদের সাথে রেললাইন নেটওয়ার্ক এবং সমুদ্র পথের মাধ্যমে সংযুক্ত করা।নিউ সিল্ক রোড প্রকল্পটি ওই অঞ্চলের ৬৫-টি দেশে সরাসরি প্রভাব ফেলবে-যেখানে বিশ্ব জিডিপির ৫৫-শতাংশ,বিশ্ব জনসংখ্যার ৭০-শতাংশ এবং বিশ্বের মোট ৭৫-শতাংশ শক্তিসম্পদের মজুদ রয়েছে।
চীন-মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে,বিশেষকরে,সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক প্রজাতন্ত্রগুলোর সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ট করছে এবং এমনকি রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক ঘনিষ্ট করেছে।সাবেক সোভিয়েত মধ্য এশিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রতি চীনের আগ্রহের কারণ তার জ্বালানি সম্পদ,কাঁচামাল এবং চীনা পণ্য উৎপাদনের বাজার দখল করা।
বিশ্বে প্রভাব অর্জনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক-“সফট পাওয়ার”খুব কার্যকর হিসেবে গণ্য,তবে সামরিক শক্তি এবং সমুদ্রের জলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।এই দৃষ্টিকোণ থেকে চীন ইতোমধ্যেই দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সমুদ্রে নিজের আধিপত্য সংহত করেছে।এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর কর্তৃত্ব স্হাপনের জন্য চেষ্টা করে চলেছে চীন।ইতোমধ্যেই নীল নৌবাহিনী গঠন করেছে সমুদ্রের জলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে।অন্যদিকে-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায় পারস্য উপসাগরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করছে-যার অর্থ বেইজিং এবং ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত ওই অঞ্চলে গুরুতর নিরাপত্তা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে-যেমনটি একদা সোভিয়েত ইউনিয়ন-যুক্তরাষ্ট্র শীতল যুদ্ধের সময় করেছিলো।
অন্যদিকে দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সমুদ্রে চীনের আধিপত্য যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়ান মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তার জাতীয় স্বার্থ রয়েছে বলে দাবি করে আসছে।যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার জন্য কোয়াড,অকুস- বিভিন্ন নামে চীন বিরোধী জোট গড়ে তোলার-কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে।চীনকে মোকাবেলা করার জন্য আরও বৃহত্তর পরিসরে জোট গঠনের জন্যও যুক্তরাষ্ট্র সচেষ্ট রয়েছে।চীনও যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী বৃহত্তর জোট গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।
চীন অবশ্যই একসময় পরাশক্তিতে পরিণত হবে।দেশটি বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিদ্বন্দ্ধিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি অভিক্ষেপ ক্ষমতা তৈরী করবে।চীন-যুক্তরাষ্ট্রকে অনুকরণ করবে-অর্থ্যাৎ যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পশ্চিম গোলার্ধে আধিপত্য বিস্তার করেছে-সেভাবে এশিয়ায় চীনও আধিপত্য বিস্তারের জন্য সচেষ্ট হবে।চীন নিশ্চিত করতে চাইবে যে তারা এতো বেশি শক্তিশালী যে এশিয়ার কোনো রাষ্ট্রই চীনকে হুমকি দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না।
চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা শীতল যুদ্ধের সূচনার মধ্য দিয়ে সর্বশেষে একটি সশস্ত্র সামরিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।তবে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এর বিপরীত কথা বলেছেন।তাদের মতে-দেশ দু’টি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী এবং ওই অস্ত্র থাকার কারণেই দেশ দুটি সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে জড়িত হবে না।
আরও যুক্তি দেখানো হয় যে দেশ দুটির মধ্যেকার দূরত্ব যেমন অনেক বেশি তেমনি উভয় রাষ্ট্র বিশাল মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগরীয় জলের দ্বারা বিচ্ছিন্ন-যা তাদের নিরাপত্তাহীনতা এবং একে অন্যের প্রতি হুমকির মধ্যে আছে-এই ধারণাকে দূর্বল করে দেয়।
এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি থাকলেও সবচেয়ে বড় জলের কারণে দেশ দুটি বিচ্ছিন্ন থাকায় সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা কম উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে।
অতীতের অনেক হিংস্র শক্তির রূপান্তরে স্পার্টা-এথেন্স থেকে শুরু করে ইউরোপীয় দেশগুলো কাছাকাছি অবস্হিত ছিলো বিধায় সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে ওই দেশগুলোর কোনো অসুবিধা ছিলো না।কিন্তু শীতল যুদ্ধ হলেও কেবল দূরত্ব এবং মহাসাগরীয় জলের দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্মূখ যুদ্ধ হয়নি কখনো।
এসব যুক্তি-পাল্টা যুক্তির নিরিখে স্পষ্ট করে কোনো সিদ্ধান্তেও উপনীত হওয়া যায় না যে দেশ দুটি সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে কি-না।তবে দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক আরও জটিল হবে-এটি বলা যায় এবং ফলে সীমিত পর্যায়ে সংঘর্ষ হতেও পারে।কেননা অতীত ইতিহাস থেকে দেখা গেছে যে- পুরনো শক্তির স্হলে নতুন শক্তির উদ্ভবের প্রাক্কালে আধিপত্যবাদী শক্তি ও উদীয়মান নতুন শক্তির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
লেখক :আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক। 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.