ভোজ্যতেলের দাম আপাতত কমছে না বাণিজ্যমন্ত্রী

ইভ্যালির ব্যয়ের খাত নিয়ে যা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী 

দেশে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ইভ্যালি প্রতিষ্ঠার পর বিজ্ঞাপনের পেছনে ব্যাপক অর্থ খরচ করেছে। বিভিন্ন খেলাধুলায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রচারের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে মানুষের সামনে এসেছে। সস্তায় মোটরসাইকেল কিংবা অন্য পণ্য কিনে অনেক গ্রাহক লাভমান হয়েছে। সেই লাভের ভাগিদার সরকার নয়, গ্রাহক।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

টিপু মুনশি বলেন, বর্তমানে ১০ থেকে ১২টি কোম্পানির প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। ধামাকা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হাজার হাজার ই-কমার্স রয়েছে। করোনাকালে ই-কমার্সে ব্যবসা করে মহিলারা সংসার চালানোর চেষ্টা করেছেন। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারাবাহিকতার মাধ্যম হচ্ছে ই-কমার্স। এখন ই-কমার্স বন্ধ করা সম্ভব নয়। আগামীতে ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা যাতে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করতে না পারে সেদিকে নজর রাখছে সরকার।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার অনলাইন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ১০-১২টির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তাই সামগ্রিকভাবে অনলাইন প্রতিষ্ঠানকে খারাপ বলা যাবে না।

টিপু মুনশি বলেন, ‘তাদের (ই-কমার্স মালিক-কর্মকর্তা) জেলে ভরে রাখলে তো গ্রাহকরা কিছু পাবে না। আবার কিছু না থাকলে বের করলেও লাভ হবে না। দেশে দুই হাজার ব্যবসায়ীও ছিল না, এখন দুই লাখ ব্যবসায়ী হয়েছে। যে সমস্যা হয়েছে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

মন্ত্রী বলেন, ‘গত ৪ জুনের আগে ছয় হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এখন বাকি চার মাসে ৬০০ কোটি টাকা স্ক্রো ফান্ডে জমা হয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১২ টাকার জিনিস ১ টাকায় দেওয়া যায় না। এ ধরনের বড় কোম্পানিকে এখন থেকে সতর্কীকরণ বার্তা দিতে হবে।’

‘ইভ্যালির ৫০০ কোটি টাকার দায় রয়েছে। অর্ধেক কাস্টমার, অর্ধেক মার্চেন্টদের। শুনেছি ৮০-৯০ কোটি টাকার সম্পদ আছে। তাদের চিন্তা-চেতনা কী, সেটা জানার চেষ্টা করা হবে। এগুলো আজকের আলোচনায় এসেছে। ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের টাকা শোধের অ্যাবিলিটিই নেই। তারা প্রচারের জন্য ব্যাপক টাকা বিনিয়োগ করেছে। ক্রিকেট খেলাসহ বিভিন্ন জায়গায় টাকা নষ্ট করেছে’ বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সরকার টাকার দায় নেবে কি-না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার তো টাকা নেয়নি। যে লোকটা পাঁচটা মোটরসাইকেল কিনে লাভ করেছে, পরে আরও ১০টা অর্ডার করেছে। লাভের ভাগিদার তো সরকার হয়নি। তাদের (ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান) কতটুকু সম্পদ আছে, সেটা দেখতে হবে।’সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.