আজিমপুরের ইতিকথা : ( পঞ্চমপর্ব ) মুক্তি যুদ্ধের অঙ্গীকার ছিল এক মুখী শিক্ষা ব্যবস্থা ।রবি ঠাকুর বলেছেন — আগে নিজ ভাষায় শিক্ষার গাথূনি, পরে অন্য ভাষার গোড়া পত্তন।
আজিমপুর ৬,৭,১১ নম্বর বিল্ডিং এর মাঝে ছিল লিটিল এঞ্জেল স্কুল। তখন আমার জানা ইররেজী মাধ্যমে স্কুল, লিটিল এঞ্জেল, মলির লেক ভিউ প্রিপেটরি স্কুল , মহম্মদ পুর সেন জোসেফ দাদা ভাই এর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল।তখন পাকিস্তানের ২৪ পরিবার এর ছেলেরা ঐ স্কুলে পড়াশোনা করতো।আমাদের ছিল যৌথ পরিবার ।আমার চাচাদের ইচ্ছা তাদের বড় ভাই এর প্রথম ছেলে তাকে তারা ঐ স্কুলে লেখা পড়া করাবেন।আব্বা রাজি ছিলেন না।ভাইদের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করলেন।ওর কাপড় চোপড় চলন বলনের জন্য
আজিমপুরের ওর চাইতে বড়রা ওকে রিটায়ার সি, এস, পি বলতো। একবার কেউ একজন আমাদের বাড়িতে এসে ওর সুট কেটে দিয়েছিলো। কিন্তু ওর ভদ্র শান্ত, বিনীত, আচরণ এর কারণে সবাই দাদা ভাইকে পছন্দ করতো।ওর নাম ছিল বাবুল ,ওকে বাবু বলে ডাকতো ।আমার সেনা নিবাস জীবনে আজিমপুরের আর্মি অফিসারদের কাছ থেকে অনেক স্নেহ , আদর পেয়েছি, দাদাভাই এর ছোট বোন হিসাবে।
আজিমপুরের অধিকাংশ ছেলে এমনকি বাইরে থেকে ছেলেরা এসে ওয়েস্টেন্ড স্কুলে পড়া লেখা করতেন।
দাদা ভাই বাঙলায় দুর্বল ছিল।আমরা এ সুযোগ টা নিতাম।প্রায় তার সাথে বাঙলা প্রতিযোগিতা খেলা খেলতাম ।ও সব সময় হেরে যেতো। ওর ভাগ্য সু প্রসন্ন ছিল, অনেক কষ্টে একটা বাঙলা রচনা মুখস্থ করেই , মেট্রিক , ইন্টামিডিয়েট পার করতে পেরেছিল।ওর রচনা মুখস্থের কারনে,আমাদের সব ভাই ,বোনের সেই রচনা মুখস্থ হয়ে গিয়েছিলো । রচনা “বর্ষাকাল” আজও আমি ভুলিনি “ছয় ঋতুর লীলাভূমি আমাদের এই বাঙলাদেশ ।কালের আবর্তে একের পর এক আসিয়া আমাদের সৌন্দর্য কে মুখরিত করিয়া তুলে।”
আশির দশক থেকে, বাঙলাদেশে ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের ছড়াছড়ি শুরু হয়।পরিসংখ্যান দেখা যাবে , এই সব স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধিকাংশ পাকিস্তানি ভাবধারার।লিটিল এঞ্জেল প্রতিষ্ঠা কোরেছিলেন আমার স্মৃতি যদি বিশ্বাস ঘাতকতা না করে , তবে আমিনা রহমান।পরবর্তীতে তার সন্তানদের দেখেছি , পাকিস্তানি ভাবধারার সংগঠন থেকে মন্ত্রী হতে এবং পৃষ্ঠপোষকতা করতে।
আমি আমার সন্তানদের বাঙলা মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়েছি।না এতে তাদের কোন সমস্যা হয়নি , পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জায়গায় পৌছাতে।আমার ছেলে , বর্তমানে আমেরিকা মিজুরি বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার সাইন্স ডিপার্টমেন্ট এর এসোসিয়েট প্রফেসর হিসাবে কর্মরত ।আমার কন্যা ইংল্যান্ডে নিউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট হিসাবে কর্মরত ।অনেকের মনে হতে পারে এ আমার আত্ম প্রচার। না এ আমার আত্ম প্রচার নয়, আমি যে আদর্শ,বিশ্বাস করি তা, প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি– এ আমার অহংকার ।আমি আমার মাতৃভাষায় তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।
আমার এ লেখা পড়ে অনেকে হয়তো বিরুপ হবেন , আমার সাথে একমত পোষণ করবেন না জানি।এটা আমার ভাবনা এবং বিশ্বাস- প্রত্যক মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে । আমি আমার বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়েছি।
আমি মনে করি , সমাজের দুর্নীতির অনেক গুলো কারণ একটি কারণ এ শিক্ষা ব্যবস্থা ।আমি অনেককে দেখেছি তাদের ইংরেজী মাধ্যমে স্কুলের খরচ এর সাথে , তাদের মাসিক আয়, সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়।যে সন্তানটি দেখে বড় হচ্ছে , তার লেখা পড়ার যোগান অসৎ উপায়ে তাকে কি ভাবে , আমরা সৎ নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলবো? তার মগজে ,মননে মেধায় তো অসততা থাকবেই।
তাই আজ আক্ষেপ অপূর্ব দত্তের কবিতায় “বাংলা টাংলা”
Annual এর রেজাল্ট হাতে
বাড়ি ফিরলেন ছেলে,
মা বললো, কোন Paper এ
কতো পেলে?
History তে Mom 84
Math এ Nine zero.
মা বললো fantastic
Just like a hero
Science এ Dad, not so fair
Only 69,
ইংলিশতে 92
All together fine.
Geography এর Paper এ তে
Hundred এ Hundred.
ডুবিয়ে দিলো Bengali টাই
Very poor grade
ছেলের মাথায় হাত রেখে মা
ঠোঁট বেকিয়ে বলে
Never mind,
Bengali টা না শিখলেও চলে।
বাবা বলল বেশ বলেছো ,
বঙ্গমাতার কন্যা
বাংলাটা আমার মতো
অশিক্ষিতের জন্য
বিদ্যাসাগর রবীন্দ্রনাথ
নেহাত ছিলেন বোকা
না হলে কেউ শখ করে হয় বাংলা বই এর পোকা?
মা বললো চুপ করতো
ওর fult টা কিসে
স্কুলে কেন Bangoli টা
পড়ায় না ইংলিশে।
সৃজন সেন লেখেন মাতৃ ভাষার কবিতার মধ্য দিয়ে —
কর্পোরেট এর সর্বোচ্চ শিখরে উঠে –একজন এর অনুভূতি–” সেবার লন্ডনে এক জাপানি শিল্পপতি কে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে তার জাপানী মাতৃ ভাষা অন্যদের আথে যখন অনর্গল কথা বলতে দেখছিলাম তখন আমার বুকের ভেতর কেমন যেন একটা কষ্ট হচ্ছিল- ইংরেজিতে কথা বলতে না পারার জন্য মানুষটির ভেতর কোন লজ্জা বোধ ছিলনা।বরং মাতৃ ভাষায় কথা বলতে পারার অহমিকায় মানুষ টি উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখেছিলাম।আমার ভেতর সেই অভিজ্ঞতার যন্ত্রণা একটা কান্না হয়ে গুমড়ে গুমড়ে উঠেছিল ।আমার মনে হচ্ছিল আমার কোন মাতৃভূমি
নেই,মাতৃভাষা নেই, আমি যেন এক শিকড় বিহীন মানুষ
আমার ভীষন জানতে ইচ্ছে করে, যারা দেশের জন্য , মাতৃ ভাষার জন্য প্রাণ দেয় তারা কেমন মানুষ?
“প্রফেসার কামরুল হাসান মামুন ” লিখেছেন-
“দেশে কিন্তু একটা প্যারাডাইম শিফট ঘটে গেছে যার consequence আমরা সমাজের নানা স্তরে দেখতে পাচ্ছি। এইটা আসলে অনেকটা কন্ডাকটর থেকে সুপারকন্ডাক্টর কিংবা পানি থেকে বাষ্প বা বরফে পরিণত হওয়ার মত একটা phase ট্রানজিশন। দেশটাকে সময়ের অক্ষে ফেলে একটু বড় ক্যানভাসে পর্যবেক্ষণ করলেই এইটা টের পাওয়া যায়। এর প্রাথমিক লিটমাস টেস্ট হলো বর্তমান বাংলাদেশে ভালো আইকনিক বা প্রভাবশালী কবি, সাহিত্যিক, লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিল্পী, অভিনেতা ও নাট্যকারের শূন্যতা চলছে। বিশেষ করে কবি, সাহিত্যিক, লেখকের শূন্যতাটা একটু বেশি চোখে পরে। কিভাবে বুঝবেন যে এত বড় স্পেক্ট্রামের মানুষদের শূন্যতা চলছে? দেশে কোন অন্যায় হলে এইসব গোষ্ঠী থেকে কোন প্রতিবাদ আসে না। আগে প্রতিবাদ আসতো ছাত্র-যুব সমাজ থেকে এবং একই সাথে কবি, সাহিত্যিক, লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিল্পী, অভিনেতা ও নাট্যকারদের কাছ থেকেও প্রতিবাদ আসতো। প্রশ্ন হলো এই শূন্যতাটা কেন তৈরী হলো? এর অনেক কারণ আছে। তবে আমি একটি বিশেষ দুইয়েকটি কারণের দিকে আলোকপাত করব।
পৃথিবীতে এমন একটি দেশ কি আছে যারা ভিন দেশি ভাষায় পড়াশুনা করে উন্নত হয়েছে? চীন জ্ঞান বিজ্ঞান অর্থবিত্তে এত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কেন বা কিভাবে? এইটা একটা দীর্ঘ প্রসেস। এরা প্রথম যেই কাজটি করেছে সেটি হলো তাদের স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পাঠ্য বইকে তারা চীনা ভাষায় প্রনয়ন করেছে। একই কাজ এর আগে জাপান করেছে, দক্ষিণ কোরিয়া করেছে এবং তারও অনেক আগে ইউরোপের দেশগুলো করেছে। জার্মানির শিক্ষার্থীরা কিংবা ইতালির শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষায় লেখাপড়া করে না। ইউরোপের ইংল্যান্ড ব্যতীত সকল দেশে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মাধ্যম তাদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় হয়ে থাকে। দুনিয়ার এমন একটি দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না যে তারা ভিন দেশের ভাষায় লেখাপড়া করে জ্ঞান বিজ্ঞান ও অর্থেবিত্তে উন্নত হয়েছে। একটি উদাহরণও নাই। Because it is not simply possible!!
পড়াশুনা সত্যিকারভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে হলে মাতৃভাষায় পড়ার কোন বিকল্প নেই। প্রত্যেকটা শব্দের একটা মেন্টাল পিকচার আছে। মাতৃভাষাই কেবল পারে শব্দের পেছনের সেই ছবিটা হৃদয়ে আঁকতে। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটিই আমরা আজ পর্যন্ত শুরুই করতে পারিনি। আমরা বরং উল্টো পথে হেঁটেছি। দেশে যত্রতত্র ইংরেজি মাধ্যমই শুধু চালু করিনি। স্কুল কলেজে মাতৃভাষার যেইসব বই আছে সেগুলোকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে তাকে বাংলা মিডিয়ামের ইংরেজি ভার্সন হিসাবে চালু করেছি। এটিকে আমি বলি ডাবল ক্রাইম। আমরা ভিন দেশি ভাষা অবশ্যই শিখব কিন্তু সেটা মাতৃভাষার বিনিময়ে নয়। আগে মাতৃভাষা। ইংরেজি মাধ্যমে পড়িয়ে এক্সপোর্ট কোয়ালিটির ছেলেমেয়ে বানালেতো এক্সপোর্টেড হয়ে যাবে তাহলে দেশ গড়বে কে? আমাদের দেশে এখন সেটাই ঘটছে।
একটি দেশের জনসংখ্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মধ্যবিত্ত। এরা একটু অভাব অভাব পরিবেশে থাকে কিন্তু কোন অভাবই তেমন দীর্ঘস্থায়ী থাকে না। এই অভাব অভাব পরিবেশটা মানুষকে একটা ড্রাইভিং ফোর্স দেয়। এদের মাটির সাথে সম্পর্ক থাকে। এদের সামাজিক বন্ধন মজবুত থাকে। এই অংশ থেকেই মূলত কবি, সাহিত্যিক, শিপ্লী, নাট্যকার তৈরী হয়। এই অংশটি যখন থেকে তাদের ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মাধ্যমে পাঠাতে শুরু করে আমাদের প্যারাডাইম শিফট সেইদিন থেকেই শুরু হয়। আমার নিজের দুই কন্যা ইংরেজি মাধ্যমে পড়েছে বলে আমি এর ভেতর বাহির গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং করছি। এই ইংরেজি মাধ্যমের ছেলেমেয়েদের অধিকাংশই মোটাদাগে বলা যায় এরা বাংলা কবিতা পড়ে না, বাংলা সিনেমা দেখে না, বাংলা নাটক থিয়েটার দেখে না, বাংলা গান শুনে না। ফলে এরা এইসবের ভোক্তা না। এর ফলে একদিকে ভালো মানের বাংলাদেশি কবি লেখকের বই বিক্রি কমে গেছে আর অন্যদিকে এরা বাংলা ভাষার কবিতা গল্প পড়ে না বলে দেশ এই অংশ থেকে যেই কবি সাহিত্যিক নাট্যকার শিপ্লী পেত তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এইখানেই সৃষ্টি হয় মিসিং ডটস।
আরো একটা বিষয়। আমরা যখন গ্রামে স্কুল কলেজে পড়তাম তখন আমাদের সহপাঠীদের অনেকেই উপজেলায় চাকুরী করা অফিসারদের ছেলেমেয়ে ছিল। একটি বিষয় লক্ষ করবেন যে বাংলাদেশের অধিকাংশ কবি সাহিত্যিকদের বাবারা বদলি চাকুরী করতেন। বাবারা যখন যেখানে যেতেন সেখানে পুরো ফ্যামিলি নিয়ে যেতেন। ফলে এই ছেলেমেয়েদের মধ্যে নিত্য নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে চলতে শিখে যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বদলি হওয়ার কারণে বাংলাদেশের নানা অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয় ঘটে। এইসবই কবি সাহিত্যিক হওয়ার মসলা। এখন বদলি চাকুরীর বাবা মায়েরা না বরং গ্রামের সাধারণ মানুষের অনেকেই ছেলেমেয়েদের আর গ্রামে পড়ায় না। মোটামোটি সামর্থ্য থাকলে স্ত্রী সন্তানরা থাকে ঢাকায়। সেখানে থেকে স্কুল কলেজে পড়াশুনা করে। ফলে এরা না শিখে সামাজিক হতে, না পায় তারা মাটির স্পর্শ, মাটির গন্ধ। না তারা বাংলার আসল সৌন্দর্য দেখতে পায়। এরা একটা cage বা খাঁচায় বড় হয়।
উপরে উল্লেখিত দুটি বিষয়ের কারণে এই দেশে দেশপ্রেমিক মানুষের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। একটি এক্সপোর্ট কোয়ালিটির ছেলেমেয়ে তৈরী হচ্ছে যাদের কাছে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, বাউল, ভাটিয়ালি, পল্লীগীতি অপরিচিত। শুধুই কি ইংরেজি মাধ্যম বা ইংরেজি ভার্সন? আরো আছে। আছে কওমি মাদ্রাসা, মাদ্রাসা, ইংলিশ মিডিয়াম মাদ্রাসা। এর ফলে শেকড়হীন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠছে। এত বছর ধরে ইংরেজি মাধ্যম চালু আছে তবুও এখনো দেশের প্রায় সব কবি, সাহিত্যিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী বাংলা মাধ্যমের। আমি দেখেছি ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়াদের মধ্যে অনেকেই অসম্ভব মেধাবী। এই মেধাবীদের প্রায় সকলেরই আসল গন্তব্য আমেরিকা, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়া।
যেই মধ্যবিত্তের একটি অংশটি দেশের সংস্কৃতির কথা ভাবতো, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতো তাদের একটি অংশ বিদেশে। আর যারা দেশে আছে তারাও বড় বেশি আত্মকেন্দ্রিক। তারা দেশের শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষদের ভাষা বুঝে না। এদের অনেকেই ঊনপঞ্চাশ কত জানেনা। বাংলা দৈনিক পড়ে না। বন্ধু বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিলে বিদেশী ভাষায় কথা বলে। লন্ডনের নাপিতও পারফেক্ট ইংরেজি বলতে পারে। ইংরেজি কেবল আরেকটি ভাষা। ইংরেজিকে জ্ঞানের সমার্থক ভাবা বোকামি। জাতিগতভাবে এই ভুলটিই আমরা শত বছর ধরে করে আসছি। এই নতুন প্রজন্ম বড় ডিসকানেক্টেড। ফলে দেশ সংকটে পরলে এরা প্রতিবাদ করে না। এইজন্যই দেশে যখন কোন অন্যায় হয় প্রতিবাদ নাই। দেশে যেহেতু অন্যায় বেড়ে গেছে তাই দেশের অনেকেই দেশে থাকতে এবং নিজেদের সন্তানদের বড় করতে নিরাপদ বোধ করে না। শুধুই কি নতুন প্রজন্ম তৈরী হচ্ছে না। একই সাথে অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমরা এক বিশাল শূন্যতার মধ্যে বসবাস করছি।
৫০ বছর হয়ে গেল দেশ স্বাধীন হয়েছে অথচ এখনো আমাদের নীতিনির্ধারকরা এই কথাটিই বুঝলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গর্বের ধন সত্যেন বোস অনেক আগেই বলে গেছেন যে আমাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আমার শিক্ষক অধ্যাপক হারুন অর রাশিদ স্যারও সব সময় এই কথাটি বলেছেন। তিনি বাংলায় পদার্থবিজ্ঞানের অনেকগুলো বইও লিখেছেন। অর্থাৎ মুখের কথাকে কাজে পরিণত করে দেখিয়ে গেছেন। Irony কি জানেন? বাংলাদেশই এক মাত্র দেশ যারা মাতৃভাষার জন্য আন্দলোন করেছে। বুকের রক্ত আর প্রাণের বিনিময়ে মাতৃভাষাকে রক্ষা করেছে। সেই দেশে আজ মাতৃভাষা, দেশীয় সংস্কৃতি আজ চরমভাবে অবহেলিত।”
লেখক : লিনু হক ।

