বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেড ফোর্সের ‘এ’ও ‘বি’ কোম্পানির কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও ৯ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর শাহজাহান ওমর বীর উত্তম।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জামুকার কাজ এগুলো নয়, জামুকার কাজ হলো কে মুক্তিযোদ্ধা এবং কে মুক্তিযোদ্ধা নয় তা নির্ধারণ করা। কে ভাতা পাবে, কে পাবে না তা নির্ধারণ করা। হু ইজ জামুকা। কোথায় জিয়াউর রহমান, কোথায় এগুলো।’
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করি, আর হাস্যকর কাজ করবেন না। এই উদ্যোগ যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে আপনি আপনার পিতাকে অসম্মান করছেন। ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তো বিচার হয়েছে। কই কোনো সাক্ষী, কোনো ব্যক্তি কেউ কী বলেছে যে, উনি এই ধরনের হত্যাকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করেছেন বা এটা করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেউলিয়াত্বের শেষ পর্যায় পৌঁছে গেছে, জাতিকে দেবার কিছুই নেই। আন্তর্জাতিকভাবে তাদের কেলেঙ্কারির কথা ফাঁস হচ্ছে। জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিবদ্ধ করার জন্য আজকে জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের মতো একজন ব্যক্তি সম্পর্কে এই ধরনের অলীক মিথ্যা তথ্য জাতির কাছে হাজির করেছে সরকার।’
ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বলেন, ‘কী কারণে হঠাৎ করে জামুকা একটা প্রস্তাব করল তা আমার বোধগম্য নয়। জুমকা কি? মুক্তিযুদ্ধের সময় তিন ধরনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একটা হচ্ছে মিলিটারি ফোর্স, আরেকটা হলো ফ্রিডম ফাইটার, তিন নম্বর হলো যুদ্ধের শেষ দিকে বিএলএফ নামে একটা সংগঠন গঠন করা হয়েছিল যেটার বাংলা মুজিব বাহিনী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা মিলিটারি ফোর্স আমাদের কন্ট্রোল করে কোর নামে একটা সংস্থা আছে- সেন্টার অফিসার্স রেকর্ড অফিস। জামুকা তাদের নিজস্ব বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটা তাদের এখতিয়ার বহির্ভূত এবং আমাদের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী যে কথা বলেছে এটাও তার এখতিয়ার বহির্ভূত।
জামুকার কাজ সম্পর্কে শাহজাহান ওমর বলেন, জামুকার কাজ হলো যেমন ফ্রিডম ফাইটার তৎকালীন ছাত্র-কৃষক-যুব-শ্রমিক যারা যুদ্ধে গেছেন, ট্রেনিং করেছেন, আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে যুদ্ধ করেছেন-তাদের ভাতা, তাদের সম্মানী, তাদের সুযোগ-সুবিধা কীভাবে অধিক থেকে অধিকতর দেয়া যায়, দিস ইজ দা জব অব জামুকা।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বীর উত্তম জিয়াউর রহমান যে প্রথম সেক্টর কমান্ডার এবং প্রথম ফোর্সেস কমান্ডার ছিলেন- এটা ঐতিহাসিক সত্য। তাদের এই সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপমান ও অবমাননা। এমনকি এই সিদ্ধান্ত তাকে খেতাব প্রদানকারী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিচার-বুদ্ধির প্রতিও অশ্রদ্ধা প্রকাশ।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন ও চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার।

