পৃথিবীর সব প্রাণীই একদিন মৃত্যু বরণ করবে। ছারপোঁকা থেকে শুরু করে প্রাণওয়ালা যত সৃষ্টিজীব আছে সবাইকে মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবী স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। কিছু দিন ধরে আমার ভাবনায় মৃত্যুচিন্তা বেশ ঘুরপাক খাচ্ছে। আমরা জানি, একদিন আমরা মরে যাব। এই জন্যেই পৃথিবীটাকে এত সুন্দর লাগে। যদি জানতাম আমাদের মৃত্যু নেই, তাহলে পৃথিবীটা কখনোই এত সুন্দর লাগত না। মৃত্যুর কাছে প্রতিটি মানুষ বড়ই অসহায়, মৃত্যু যখন কাছে এসে বলে, পৃথিবীর সব মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে সবাই চলে যায়। অবধারিত জেনেও অনেকে মৃত্যুকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে চায় না। মৃত্যুকে ভুলে যেতে বা ভুলে থাকতে চায়। তাদের কেউ কেউ পার্থিব লোভ-লালসা ও ভোগবিলাসে এতই মত্ত থাকে যে, মৃত্যুর কথা তাদের স্মরণেরই আসে না। দুনিয়ার চাকচিক্যে যে কোনো ধরনের অন্যায়, অনাচার, অপকর্ম ও অপরাধ করতেও তারা দ্বিধা করে না। তাদের স্বভাব, আচার, ব্যবহার ও কর্ম থেকে মনে হয়, মৃত্যু কখনোই তাদের নাগাল পাবে না। আমরা সবাই প্রতিনিয়ত একটু একটু করে জীবনের শেষ সীমান্তের দিকে আগাচ্ছি। মানুষ হিসেবে জন্মেছি তাই মৃত্যুর স্বাদ তো নিতেই হবে। জন্ম আর মৃত্যুর এই মধ্যবর্তী অবস্থানে যতোটুকু সময় পাওয়া যায় তার উপর নির্ভর করবে মৃত্যুর পরের জীবনের সময়টুকু কেমন যাবে। তবুও মানুষ ক্ষণিক জীবনের তরে নতুন স্বপ্নগুলো করছে বপন, পরাজিত হয়েও জীবন যুদ্ধে গড়ছে আপন ভুবন। জন্মের আগে বিধাতাই লিখে দেন পৃথিবীর মাঝে কে কিভাবে জীবন অতিবাহিত করবে এবং মানুষকে বুঝার ক্ষমতাও দিয়ে দেন কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ। আর এই ভালো মন্দের উপরি নির্ভর করবে পরজনম কেমন যাবে। এতো কিছু জানার পরও আমরা মানুষেরা নিজের বিবেককে কাজে লাগাই না আর বিভিন্ন পাপাচারে লিপ্ত হই। কখনো নিজের ইচ্ছায় আবার কখনো বাধ্য হয়ে ভুল পথে পা বাড়াই। এই পৃথিবীর ক্ষণিকের মায়াডোরে, আলো আর আঁধারের মাঝে, কেউ পড়ছেন নামায – কালাম কেউ করছেন হজ্জ, কেউ বা আবার কালো টাকা গুনছেন কেউ বা হচ্ছেন জর্জ। কেউ রাজা হয়ে রাজ্য শাসন করেন। কেউ পড়ে প্রতারণার ফাঁদে একাকী বসে বসে নীরবে কাঁদেন। কতো যাদুকর যাদু দেখিয়ে মানুষের চোখে ধাঁ ধাঁ লাগিয়ে বিখ্যাত হচ্ছেন বিশ্বময়। কতো বিজ্ঞানী নীল আকাশ দিয়ে পাড়ি চাঁদ, গ্রহ, নক্ষত্রকে করছেন জয়, তবুও সব মানুষই একসময় হয়ে পরেন মৃত্যুর কাছে বড়ই অসহায়। গুনাহ ও অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকা সর্বাবস্থায় উত্তম ও কাঙ্ক্ষিত। সেটা মৃত্যুর ভয়ে হোক অথবা জাহান্নামের আজাবের ভয়ে হোক না কেন। নশ্বর পৃথিবীর শাশ্বত চিরন্তন সত্য হলো মৃত্যু। মৃত্যুর চেয়ে অপরিবর্তনীয় অনড় শব্দ জগতের অভিধানে খুব কম। আখেরে সবাইকে জগত ছেড়ে পরপারে যেতে হবে এটা স্বাভাবিক। সুতরাং ধরার সব পাঠ শেষ করে ইসলামী জীবন ধারণ করে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণা বুদ্ধিমানের কাজ। যতো যাই কারন দেখাই না কেন ভুল তো ভুল ই, যা সুদ্ধতা প্রমান করতে পারবে না। এতো কিছু জানার পরও আমরা মানুষেরা জেনো নিরক্ষর মানুষের মত না জানার ভান করি। সহজ বিষয়গুলাকে জটিল করে তুলি। চাইলেই পারি সু্দ্ধতায় পূর্ণ রূপ দিতে। তবুও মাঝে মাঝে ব্যর্থতায় গ্রাসিত হয় জীবন দিনের আলোতে বাহ্যিক অবয়বের মাঝে ডুবে থাকা হয় বলে এতো কিছু উপলব্ধি করা হয়ে উঠেনা তবে রাতের নিস্তব্ধতায় মাঝে মাঝে মনে পড়ে। কিন্তু বেশির ভাগ ই আবার সকাল হতেই রাতের ভাবনাগুলাকে রাতের মাঝেই বিলিয়ে দিয়ে দিনের আলোর পিছনেই ছোটে। আল্লাহ সবাইর মনটাকে বুঝ জ্ঞান ধরে রাখার মত শক্তি দেক। মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করতে হবে। একই সঙ্গে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতিও নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, মৃত্যুচিন্তা অনাচার, অপকর্ম ও অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে, আল্লাহমুখি করতে অনুপ্রাণিত করে।

আবু জাফর শিহাব(এল এল বি)

