তাইওয়ান সংকট 

অ্যাডভোকেট আনসার খান :তাইওয়ান,সাংবিধানিক নাম”রিপাবলিক অব চায়না( আর ও সি) বা চীন প্রজাতন্ত্র।”

তাইওয়ান মূলতঃ একটি দ্বীপ,যা চীনের দক্ষিণ চীন সাগরের শিপিং লাইনের কিনারে চীন উপকূলের একশো কিলোমিটার দূরে এবং জাপানের মূলভূখন্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্হিত।জাপানের রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জের ঠিক পশ্চিমে তাইওয়ান দ্বীপের অবস্হান।এর পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর,দক্ষিণে দক্ষিণ চীন সাগর ও লুজন খাড়ি, পশ্চিমে তাইওয়ান খাড়ি এবং পূর্বে পূর্ব চীন সাগর অবস্হিত।
তেইশ মিলিয়ন জনসংখ্যা অধ্যুষিত তাইওয়ানের নিজস্ব পতাকা, সংবিধান,আইনসভা, নির্বাচিত সরকার,আধুনিক সমরাস্ত্র সমৃদ্ধ তিন লাখ সদস্যের সশস্ত্র বাহিনীসহ এর সাথে রয়েছে   বিশ্বের চৌদ্দটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক।
১৯৪৯ সালে মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বে সংঘটিত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের বিজয়ের ফলে চীনের তৎকালীন শাসক চিয়াং কাইশেক তাঁর দলবল নিয়ে তাইওয়ান দ্বীপে পালিয়ে যান এবং তখন থেকে মূল চীনা ভূখণ্ড থেকে তাইওয়ান বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং এমনকি চীনের পরিবর্তে এটি জাতিসংঘের স্হায়ী সদস্যও ছিলো এবং ১৯৭৯ সালে আমেরিকার সাথে  চীনের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্হাপিত না হওয়া পর্যন্ত তাইওয়ান জাতিসংঘে মূল চীনের প্রতিনিধিত্ব করেছে। আমেরিকার সাথে সম্পর্ক স্হাপন পরবর্তীতে চীন তাইওয়ানের স্হলাভিষিক্ত হয়েছিলো এবং তাইওয়ানের জাতিসংঘের সদস্যপদ খারিজ হয়েছিলো। আমেরিকা তাইওয়ানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখার অঙ্গীকার করেছিলো। তবে এখনঅবধি তাইওয়ানের সাথে আমেরিকার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক অবস্হান প্রশ্নে চীন সরকার ও তাইওয়ান কর্তৃপক্ষের মধ্যে রয়েছে তীব্র মতবিরোধ। মূলভূখন্ড চীন সর্বদাই”এক চীন নীতি”তে বিশ্বাসী এবং একারণে তাইওয়ান দ্বীপকে নিজেদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ও প্রদেশ হিসেবে দাবি করে সংবিধানে তাইওয়ানকে”পবিত্র ভূমি”হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।যদিও অধিকাংশ তাইওয়ানীরা ভিন্নমত পোষণ করে নিজেদেরকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখন্ডের সাথে একীকরণ করতে সচেষ্ট আছে।চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে মূল সংকট এখানেই।তাইওয়ানের পূর্ববর্তী কুওমিনতাং (কেএমটি)দলের সরকার তাইওয়ানের চীনের সাথে একীকরণের প্রশ্নে দ্বিমত করেনি।বেইজিং বলেছে,চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) এবং তৎকালীন তাইপের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল কুওমিনতাংয়ের মধ্যে ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তিতে উভয় সংগঠন”এক চীন নীতি”র স্বীকৃতি দিয়েছিলো এবং প্রকারান্তরে -“তাইওয়ান স্বাধীনতা” চাইবে না মর্মে স্বীকার করে নিয়েছিলো এবং”একদেশ,দুই পদ্বতি নীতি”র আলোকে তাইওয়ানের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতের কথাও ঐ সমঝোতা চুক্তিতে বলা হয়েছিলো। কেএমটি এখনও সিসিপির সাথে ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনার সূচনার ভিত্তি হিসেবে ঐ চুক্তির ওপর আস্হাশীল রয়েছে।
তবে ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসা ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির অবস্হান কেএমটির সম্পূর্ণ বিপরীত।তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির(ডিপিপি)নেতা সসাই ইনগ ওয়েন সিসিপি ও কেএমটির সমঝোতামূলক ঐক্যমত্য প্রত্যাখ্যান করে ২০১২ সালের জানুয়ারিতে প্রদত্ত ভাষণে,বেইজিংয়ের “একদেশ,দুই পদ্বতি “কাঠামোকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছিলেন।ডিপিপি দলটি এখনও তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষেই রয়েছে।এক্ষেত্রে আমেরিকার  সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট। যদিও ১৯৭৯ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার  তাইওয়ানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করে চীনের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্হাপন করে  চীনের “এক চীন নীতি”র স্বীকৃতি দিয়ে তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ও ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছিলেন।তবে,প্রেসিডেন্ট কার্টার তাইওয়ানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করলেও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক রক্ষার জন্য আমেরিকান আইনসভা বিকল্প পদক্ষেপ নিয়েছিলো।
কার্টারের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ত্যাগের কয়েক মাসের মধ্যে আমেরিকান আইনসভা “তাইওয়ান রিলেশনস এ্যাক্ট (টিআরএ)”আইন পাস করে তাইওয়ানের সাথে আনঅফিসিয়াল সম্পর্ক বজায় রাখার সিদ্বান্ত নিয়েছিলো এবং এই আইনের কারণেই এখনঅবধি তাইওয়ানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক বিদ্যমান আছে।এই আইনের বলে তাইওয়ানের স্ব-প্রতিরক্ষার জন্য তাইপের নিকটে আমেরিকার অস্ত্র বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয় এবং আমেরিকা তাইওয়ানকে চীনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার বিষয়টিকে অস্বীকার করেনি।এই আইনের ফলশ্রুতিতে আমেরিকা ঢালাওভাবে তাইওয়ানের নিকটে আধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রি ও রপ্তানি করে সমরাস্ত্র সজ্জিত করে তোলেছে।এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সাল সময়কালে আমেরিকা তাইওয়ানের নিকটে ২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র ও সামরিক সরন্জামাদি বিক্রি করেছে।এইসময়কালে আমেরিকা থেকে অস্ত্র আমদানিতে বিশ্বের যে দশ দেশের নাম শীর্ষে রয়েছে তার মধ্যে নবম স্হানে রয়েছে তাইওয়ান(সূত্র:স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইন্সটিটিউট আর্মস ট্রান্সফার ডাটাবেস)।অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি চীন কখনো সহজভাবে গ্রহণ করেনি।এইকারণে চীন-আমেরিকার মধ্যে যেমন উত্তেজনা আছে,তেমনিভাবে অত্রাঞ্চলের সমুদ্রসীমা জুড়ে সামরিক সংঘাতের আশংকাও সর্বদাই বিদ্যমান রয়েছে।
এদিকে,তাইওয়ান তার প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি করে চলেছে। ২০১৯সালের তথ্য অনুযায়ী, এর প্রতিরক্ষা বাজেট বরাদ্দ ছিলো ১১.৩ বিলিয়ন ডলার,যা মোট জিডিপির ২.১৩ শতাংশ। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে আরও ২.৫ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছে দেশের সরকার।এডভান্সড ওয়েপনস সিস্টেম ট্রেনিং এবং নতুন প্রতিরক্ষা সরন্জাম তথা মিসাইল, ইলেকট্রনিকস ওয়ারফেয়ার টেকনোলজি ও মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমস ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত এই অর্থ ব্যয় করার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, আধুনিক প্রতিরক্ষা সরন্জামে সমৃদ্ধ হয়ে তাইওয়ান নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার ইচ্ছা পোষণ করে চলেছে।এতে রয়েছে আমেরিকার পরোক্ষ-প্রত্যক্ষ সমর্থন। আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো রাখঢাক না করেই তাইওয়ানের পাশে দাঁড়িয়েছেন।২০১৬ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে ট্রাম্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনালাপ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।তিনি তাইপেতে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত আমেরিকান ডি-ফ্যাক্টো দূতাবাস উদ্বোধন করেন এবং ট্রাম্প প্রশাসন তাইপের সাথে বেশ ক’টি অস্ত্র বিক্রির চুক্তিও করেছে।
এদিকে, তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণার যেকোনো উদ্যোগ মোকাবিলা করার জন্য চীন তাইওয়ান দ্বীপে সামরিক তৎপরতা আগের যেকোনোও সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি করেছে, ব্যাপক আধুনিক সমরাস্ত্র মোতায়েন করেছে,যা একটি উন্নত সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা রাখে।২০১৯ সালে এক বক্তব্যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, এই দ্বীপে বিদেশী কোনো শক্তির আগ্রাসন বা হস্তক্ষেপ ঠেকাতে বেইজিং শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে।বেইজিং বলেছে, তাইওয়ানে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল এবং শক্ত হাতে এর জবাব দেওয়া হবে।    তাইওয়ান চীনের হাত ছাড়া হয়, এমন যেকোনো পদক্ষেপই বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেবে না চীন, এটি নিশ্চিত।
 কৌশলগত দিক বিবেচনায় তাইওয়ানকে চীনের “ভবিষ্যতের ব্যারোমিটার”বলে অভিহিত করেছেন চীনা বিশেষজ্ঞরা। আর চীনা কর্তৃপক্ষ তাইওয়ানকে”প্রথম দ্বীপপুঞ্জের চেইনের”সবচেয়ে গূরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক সংযোগ মাধ্যম হিসেবে দেখছে, যার মধ্যে জাপান,রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জ, ফিলিপাইন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চীন যদি তাইওয়ানের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে তবে চীন তাইওয়ানের গভীর জলবন্দর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্জ্ঞলে সহজে যাতায়াত করতে পারবে, একই সাথে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কার্যক্রম সহজতর করবে।উল্লেখ্য, তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার নৌপথ এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে পূর্ব চীন সাগরের সাথে সংযোগকারী চীনা অভ্যন্তরীণ নৌপথকে নির্দেশ করে।এই জলপথগুলো বিশ্বের সর্বাধিক কৌশলগত জলপথ।তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণের অর্থ হলো দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণ করা।ফলে দক্ষিণ চীন সাগরের বিশাল অংশটি এক অর্থে চীনের অভ্যন্তরীণ জলে পরিণত হবে।
ঐতিহাসিকভাবে,চীন উপকূলে এবং উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে তাইওয়ানের মূল অবস্হানটি আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক,যা উভয়ই আন্জ্ঞলিক শক্তির জন্য বিভিন্ন কৌশলগত উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক।তাই নৌ ও সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাইওয়ান দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ চীনের জন্য একটি বিশাল ভূ-কৌশলগত সম্পদ।তাইওয়ানের প্রযুক্তিগত উন্নত অর্থনীতি ও দক্ষিণ চীন সাগরে প্রবেশের ওপর এই জাতীয় নিয়ন্ত্রণ এই অন্জ্ঞলের জন্য বড় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
“চীনা ড্রিম” লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য,জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য,ভূ-কৌশলগত, ভূ-রাজনৈতিক অবস্হান ও অর্থনৈতিক স্বার্থে তাইওয়ানের ওপর চীনের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা মৌলিক দায়িত্ব  বলে গণ্য করে চীন।একারণে তাইওয়ানে চীনের সার্বভৌমত্বের দাবির সাথে চীন আপোষ করবে না, বরং চীনের সাথে তাইওয়ানের একীকরণের জন্য শক্তি প্রয়োগ করতে কার্পণ্য করবে না, এমনটাই বলছে চীন সরকার। কারণ,”তাইওয়ান-চীনের”এই নীতিতে বিশ্বাসী চীন।
চীনা কর্তৃপক্ষ মনে করে,তাইওয়ান যদি এককভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে, তবে সেটি হবে বিপজ্জনক অতীত উদাহরণ, যা চীনের অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে, বিশেষকরে,তিব্বত,হংকং,ম্যাকাও এবং জিনজিয়াংয়ের মুসলিমদের স্বাধীনতায় উৎসাহিত করবে এবং এভাবে চীনের ঐক্য,ভূখণ্ডগত সংহতি ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে পড়বে,বিশ্বব্যবস্হায় চীনের বৃহৎ শক্তিসূলভ মর্যাদা ও দম্ভ চূর্ণবিচূর্ণ হবে।একীকরণের সংস্কৃতি বেশিরভাগ চীনা জনগণের নিকট অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস,তাইওয়ান যদি সরকারীভাবে মূল ভূখণ্ড চীন থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং আইনত একটি স্বাধীন দেশে পরিণত হয়,তার প্রভাব চীনা জনগণকে তাদের বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত করবে ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।ফলে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ওপর থেকে মানুষের আস্হা ও বিশ্বাস হ্রাস পাবে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির দেশ পরিচালনায় সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।  কাজেই চীন তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতা কখনো গ্রহণ করবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের সংহতি রক্ষা করা চীনের মৌলিক নীতি।এই নীতি থেকে একচূলও নড়বে না চীন,এমনটিই বলছে কর্তৃপক্ষ।তবে শান্তিপূর্ণ পথে একীকরণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে চীন,তা না হলে শক্তি প্রয়োগের পথেই হাঁটবে।
তাইওয়ানের সাথে আমেরিকার রয়েছে একাধিক স্বার্থের সম্পর্ক।এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো,তাইওয়ানের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত অবস্হান। তাইওয়ানের ভূখণ্ড আমেরিকার সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক।এখানে সামরিক ঘাঁটি স্হাপন করতে পারবে।চীনকে মোকাবিলার জন্য, এশিয়ায় আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার জন্য তাইপেতে আমেরিকার উপস্থিতি অপরিহার্য।
তবে  আমেরিকার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো বিশ্বশক্তি হিসেবে চীনের উত্থান রোধ করা।এজন্য চীনের প্রায় বুকের ওপরে থাকা তাইওয়ানে আমেরিকার সামরিক উপস্হিতি চীনকে রোধ করার একটি কার্যকর উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখবে।এসব লক্ষ্য থেকেই আমেরিকা তাইপের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে। এখানে সামরিক ঘাঁটি স্হাপনেও আগ্রহী আমেরিকা।
চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে মৌলিক প্রশ্নে বিরোধ, অন্যদিকে তৃতীয়পক্ষ আমেরিকার তাইওয়ানের বিষয়ে হস্তক্ষেপ, সবমিলিয়ে ঐ অঞ্চলের শান্তি, স্হিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
লেখক: আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.