লীলা’কে || ড.নেয়ামত উল্যা ভূঁ
সে দিনের কথা মনে আছে লীলাবতি?
আমাদের অলৌকিক অভিসারে
নির্দোষ লীলার বিহারে
শাখায় শাখায় আশিস বিলিয়ে ওষুধি–
আমাদের প্রমত্ত প্রেমে দেখালো কী–সব তেলেসমতি!
যে দিন শ্রাবণমুখর সন্ধ্যায়
সা–রে–গা–মা–পা–ধা–নি–সা’য়
পত্র পল্লবের বোঁটায় বোঁটায়
টাপুর টুপুর বৃষ্টির ফোঁটায়
মোহন সুরের মূর্চ্ছনা ছড়িয়ে দি
আলো–ছায়ার আবেশ যোজনায়।
সে দিনই তোমার সঙ্গে আমার প্রথম
অবশ্য এর আগেও হয়েছে চোখে চোখ রা
সে সব চোখাচোখি কোনক্রমেই দেখা
বলতে পারো গ্রন্হের প্রচ্ছদ পরি
তিন শ’তেত্রিশ পৃষ্ঠার পুরো বইটা
না পড়ে কেবল উদাস মনে চোখ বুলি
সে অর্থে নীপছায়ায় দুজনের হাতে
বলতে পারো, দেখার মতো দেখা’র সে
চকোরিয়ার চারুঘাটে কেতকি কদমতলে
পায়ে পায়ে জলকেলি দিঘির কাজলা জ
কে আকুল করেছে বেশি— কদম না কে
আমরা জানিনি, জেনেছে নজরের খেয়া
সে খেয়ায় পারাপার হলো কী–না মন,
সে খবর রাখাটা কি খুউব প্রয়োজন?
পারের কড়িই গেছে রসাতলে যার,
তার আবার কোন খেয়া, কোন পারাবার
মমতার জলস্নাত কদম–কেয়ার
কী মৌমিতা সুবাস!
তুমি আর আমি ছাড়া, জানো লীলা!
সুবাসের গভীর দীর্ঘশ্বাস।
ফুলের সুবাস আর আমাদের শ্বাস,
একাকার না হলেতো অকালেই
প্রেমের বিনাশ।
আকুল ভাবনায় কে ছড়ালো গনগনে আগু
সে কি নীপতরুর পেলব প্রসূন!
নাকি, আমাকে তোমাতে ভোলানো
যমুনার জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া
নাকি, তনুর তরঙ্গে দোল–দোলানো
‘বাদল দিনের প্রথম কদমফুল’!
ঠিক কে পেয়েছিল আমার অবুঝ ভালো
ঠিক কে চেয়েছিল আমার অবুঝ ভালো
জানি, বরাবরের মতই গদ্য রীতিমতে
জবাব দেবে না তুমি।
গদ্যের বিপরীতে পদ্য হলেও হয়তো–
কিন্তু না ;
গদ্যে নয়, পদ্যে নয়,
তোমার জবাব কবিতায়;
আর কবিতার ভাবে জবাবের জবা কালে
কলি ফোটালেও
আঁধফোটা ফুলও ফোটায়নি যুগ–যুগা
কাল–কালান্তে, কিংবা সত্তর বসন্
তবুও প্রাপ্তি ছিল সেই অর্থহী
সব অর্থ কি পাওয়া যায় অর্থবো
বলতো লীলা !
অর্থ খুঁজলে কোন প্রেম অর্থবাচক
আমাদের যেমনটা বিশ্বাস;
প্রেমের অর্থ ভাষায় থাকেনা
থাকে মর্মবোধের ভিন্ন মাত্রায়,
কিংবা, সেই মুলুকে অন্তহীন অভি
কিন্তু দেখো, কী কদর্য বাস্তবতা
প্রেমেও আজকাল পদ্যের পেলবতা চা
কবিতার সরসতা চায় না প্রেমের বে
নিহিতার্থকে গিলে খায় বহিঃরঙ্গে
এভাবেই সভ্যতা হয় অভব্যের অকিঞ্
গদ্যের গদার ঘায়ে ঘাড় ভাঙলেও
ঘায়েল হয় না নন্দদুলাল,
কারণ জলবৎ তরলং; কালটা যে ঘোর ক
বাঁশে এখন হয়না সুরের ডাকাতিয়া
বরং ডাকাতির কাজে সদর্প লাঠি হয়
দস্যুর পেশিবহুল হাতে,
মেতে উঠে অসহায় গৃহকর্তার সাথে
তাকে নিঃস্ব করবার পৈশাচিক সংঘা
অথচ দেখো, কী আশ্চর্য লীলাবতী

