করোনা ভাইরাসের কারণে বাজেটে জনগণের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব পাবে এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু উৎস বা অর্থে জোগান কোথা থেকে আসবে সে বিষয়ে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তব মুখি অবশ্যই হতে হবে।
প্রত্যেকের সুরক্ষার জন্য সরকারের মুখোপেক্ষি হতে হলে, সরকার সে জোগান কোথা থেকে আসবে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন, জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা বা জাতীয় স্বাস্থ্য
ইনসুরেন্সে পলেসির আওতায় নিয়ে আসা যা সরকারের একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে আসবে আগামীতে।
তবে এর সমাধানে একটা স্থায়ী ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসা যা প্রয়োজন তা হচ্ছে সংসদে নতুন আইন প্রনয়ণ করা, যাতে থাকবে প্রতিটি উপার্জনধারী নাগরিকের তার উপার্জনের ১০% বা ১৫% অংশ এই বীমা বা সরকারি ইনসিউরেন্সের তহবিলে কেটে নেওয়ার আইন করা । তবেই সরকারের পক্ষে সম্ভব্য ভর্তুকি দিয়ে হলেও জনস্বাস্থ্য খাতে জনগণের কল্যাণে সুরক্ষিত করা।
এর মাধ্যমে সরকারি হাসপাতাল গুলোতে স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, নুন্যতম চিকিৎসা আপামর জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে, নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়া সম্ভব। জার্মানিতে সরকারী ও বেসরকারি দু’টো প্রতিষ্ঠানে এর কার্যক্রম চলছে তবে যেহেতু সততা নিয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সমস্যা বিরাজ করছে এবং জাতীয় দূর্যোগে সরকারকেই সকল দায়ভার বহন করতে হচ্ছে, তারই আলোকে সরকারকেই নিতে হবে এর পুরো দায়ীত্ব। যেখানে সকল সরকারী, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বাধ্য থাকবে চাকরির শর্ত অনুপাতে এই অর্থ বেতন থেকে কেটে রেখে সরকারি স্বাস্থ্য খাতে প্রদান করা এবং চাকরি জীবী বা কর্মচারীদের জীবন সুরক্ষিত করা । কৃষি ও বিভিন্ন পেশায় যারা জড়িত তাদেরও নিয়ে আসতে হবে এই পরিকল্পনার আওতায় হত-দরিদ্র ছাড়া। আর যার অবশিষ্ট থাকবে তারা পাবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা যারও থাকবে একটা সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা।
শুধু তাই নয়, যারা স্বাস্থ্য খাতের যে ভাবেই প্রদানে অংশীদার হউক না কেনো, বেতনের রসিদে বা যে ভাবে সে অর্থ প্রদান করছে থাকতে হবে লিখিত সে স্বাস্থ্য খাতে তার রক্ষিত টাকার অংকের একটা চলোমান প্রক্রিয়ার রসিদ। সে সরকারি, বেসরকারি, গার্মেন্টস, সেলসম্যন, সে যে চাকরি করুক না কেনো।
অন্য দিকে যে ব্যাক্তি এই সরকারি বীমা বা সুরক্ষা ইনসুরেন্সের পলেসিতে থাকবে তার ক্ষেত্রেও থাকতে হবে বিশেষ সুবিধার প্রনোদনা। সরকারি হাসপাতাল গুলোতে যেনো সবাই স্বাস্থ্য সেবা পায়, সে ক্ষেত্রে হতে পারে একটা যুগান্তরকারী পদক্ষেপ,কারণ এই পলেসির আওতায় যারা থাকছে তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানের থাকছে বিশেষ ব্যবস্থাপনা।
ভি,জি,এফ, কার্ড, বিধবা ভাতা কার্ড, বয়স্ক ভাতার জন্য ব্যবহৃত কার্ড, বা যে যেই সেবা মুলুক কার্ড হউক না কেনো সে গুলো রাখতে পারে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ ভুমিকা। পেতে পারে ফ্রী সেবা এই কার্ড গুলোতে। বিশেষ করে হত-দরিদ্র মেয়েরা পেতে পারে বিশেষ মাতৃসেবা বা প্রেগনেন্সি সেবা।
জনসাধারণের নিকট থেকে রাজস্ব আদায় ও তার সঠিক ব্যাবহারই হচ্ছে সরকারে কাজ বা দায়িত্ব। তাই এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন পলেসিতে জনগণের সুরক্ষা প্রদানে যে সরকার যতো চাক্ষুস সেই সরকারে সফলতা তত বেশী।
সামরিক খাতের চাইতেও বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতকে সুরক্ষা করা বিংশশতাব্দীর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রণায়ের বিশেষজ্ঞগণ জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেবেন সেই প্রত্যাশায় আমার আজকের প্রতিবেদন।
মায়েদুল ইসলাম তালুকদার , জার্মান প্রবাসী কবি এবং লেখক ।

