অ্যাডভোকেট আনসার খান :কোভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্ববাসী যখন নাকাল,এমন সংকটময় সময়ে ভারত,চীন ও নেপাল, এই তিন প্রতিবেশী রাষ্ট্র সীমান্ত বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তের ভূখণ্ডের মালিকানা নিয়ে সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।হিমালয় অন্জ্ঞলে বিতর্কিত ভূখণ্ড নিয়ে নেপালের সাথে ভারতের বিরোধ,অন্যদিকে, লাদাখ অন্জ্ঞলের সীমান্তে ভূখন্ডের মালিকানা নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা প্রবল আকার ধারণ করেছে, ইতোমধ্যে উভয় দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ভারত-নেপাল সীমান্ত সংকট
নেপালের সাথে ভারতের সীমান্ত বিরোধ একটা তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।কেননা, নেপালের সাথে চীনের চেয়ে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব আবহমানকাল ধরে চলে আসছে। অথচ মাঝপথে হঠাৎ করে ভারত ও নেপালের বন্দ্বুত্বের সম্পর্কে গভীর ফাটল দেখা দেওয়ায়, রাষ্ট্র দু’টির মধ্যে সম্পর্কের শীতলতার আবহ তৈরি হওয়ায় এবং সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা যেমন হতবাক হয়েছেন, তেমনি ভারতীয়রাও হোচট খেয়েছেন। কারণ,ভারতীয়রা কখনো ভাবতে পারেনি যে,নেপাল ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত সংকটে জড়িত হবে।তাছাড়া, এমন একসময়ে নেপাল সীমান্তের ভূখন্ডের মালিকানা উত্থাপন করেছে যখন ভারত অন্যতম আন্জ্ঞলিক বৃহৎ শক্তি চীনের সাথে সীমান্ত সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে।
ভারত ও চীনের মতো দু’টি বৃহৎ শক্তির মধ্যস্থলে অবস্হিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র নেপালের অবস্হান হওয়ায় নেপালকে প্রায়শই একটা “বাফার স্টেট”হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে এবং নেপাল তার স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর থেকে ভারতের ওপরই বেশিমাত্রায় নির্ভরশীল থাকার কারণে ভারত ও নেপাল সীমান্ত সর্বদাই উম্মুক্ত সীমান্ত। একমাত্র বিমানে ভ্রমণ করা ব্যতীত অন্যান্য পথে উভয় দেশের লোকজনের চলাচলের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট-ভিসা,কোনো কিছুর প্রয়োজন পড়ে না,অবাধে চলাচল করতে পারে,অবাধে ব্যবসা-বানিজ্য করতে পারে উভয় দেশের মানুষেরা। অথচ প্রতিবেশী হওয়া সত্বেও নেপালের সাথে চীনের তেমন ধরণের কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি কখনো। তাই নেপালের দিক হতে ভারত সবসময় নিজেকে নিরাপদ মনে করতো।কিন্তু এখন হঠাৎ করে ভারতের বিরুদ্ধে নেপালের প্রতিযোগিতামূলক সীমান্তে ভূখন্ডের মালিকানা দাবি করার বিষয়টা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সীমান্তে নেপালের ভূখণ্ড দাবির পেছনে চীনের হাত রয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞদের অনেকেই অভিযোগ করছেন। ভারতীয় সেনা প্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভেন এই বলে মন্তব্য করেন যে,নেপাল”অন্য কারো”নির্দেশে কাজ করছে।বেইজিংয়ের দিকে ইঙ্গিত করেই তিনি এমন মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে নেপালের ব্যাপক সমালোচনা করে অভিযোগ করা হয় যে,কাঠমান্ডু বেইজিংয়ের পুতুল হয়ে উঠেছে। থিন্কট্যান্ক ব্রুকিংস ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞ কনস্ট্যান্টিনো জাভিয়ার বলেন,”যেকোনোও নেপালী সরকার ভারতের বিপক্ষে শক্ত অবস্হান গ্রহণে আরও উৎসাহ বোধ করে,কারণ চীন তাদের পেছনে রয়েছে।” নয়াদিল্লীর জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্বরণ সিংয়ের অভিমতও প্রায় অনুরূপ। তিনি মনে করেন,চীনকে খুশি করার জন্যই নেপাল ভারতের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্হান নিয়েছে। তবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার জ্ঞাওয়ালি বলেছেন যে,নেপালের সাম্প্রতিক ভূখন্ড দাবি করার যথেষ্ট প্রমাণ নেপালের হাতে রয়েছে। তিনি বলেন,নেপাল ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত বিরোধে অন্য দেশকে টেনে আনার ধারণা সম্পূর্ণ অমূলক,তাই এটা প্রত্যাখ্যান করছি।
নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের কূটনীতির প্রধান খড়গা কেসি হুশিয়ারী দিয়ে বলেছেন,ভারতের এই ধরণের অভিযোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”একটা সার্বভৌম দেশ হিসেবে নেপালের মধ্যে অন্য প্রতিবেশীকে টেনে আনার দরকার নেই”-বলেন মিঃ কেসি।আসলে,ভারত একতরফাভাবে তার ভূখন্ডের মধ্যদিয়ে রাস্তা তৈরি ও উদ্বোধনের পরে নেপাল তার নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিলো”বলেন তিনি।
উল্লেখ যে,ভারত ও নেপালের মধ্যেকার বিতর্কিত সীমান্ত অন্জ্ঞলের মধ্যে সম্প্রতি ভারত উত্তরাখণ্ডের ধরচুলা থেকে লিপুলেখ গিরিপথ পর্যন্ত আশি কিলোমিটার দীর্ঘ একটা নতুন রাস্তা তৈরি করে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ৮মে তারিখে নতুন এ রাস্তা উদ্বোধন করেন।এ রাস্তা চীনের সীমান্ত পর্যন্ত গিয়েছে। এ রাস্তা নির্মাণ ও উদ্বোধনের কারণেই ইন্দো-নেপালী সীমান্ত বিরোধ সৃষ্টি হয়। নেপাল এ মহাসড়ক উদ্বোধনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং এ উদ্যোগকে তার বৃহত্তম প্রতিবেশীর দ্বারা নিরাপত্তা হুমকির অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছে। বিতর্কিত অন্জ্ঞল লিপুলেখ নেপালের ভূখণ্ড বলে দাবি করে নেপাল।তাই এখানে ভারতের রাস্তা নির্মাণ করার কোনো এখতিয়ার নেই বলে মনে করে নেপাল।
লিপুলেখ গিরিপথ পর্যন্ত ভারত যে রাস্তা তৈরি ও উদ্বোধন করে ফেলেছে, সামরিক ও ভূকৌশলগত দিক থেকেও সেই রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, যোগাযোগের দিক থেকেও রাস্তাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ মহাসড়ক নির্মাণ হওয়ার ফলে তিব্বতের মানসরোবরে যাওয়া ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হবে।আবার ঐ রাস্তা দিয়ে চীন সীমান্তের দুর্গম প্রান্ত পর্যন্ত ভারতের সামরিক বাহিনী ও সামরিক সরন্জামাদি দ্রুত পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে ভারত।তাই বিশেষজ্ঞজনদের অনেকের অভিমত হলো,এ রাস্তার বিপক্ষে নেপালের অবস্হান গ্রহণের পেছনে চীনের উসকানিমূলক ভূমিকা রয়েছে।
ভারতের দ্বারা নির্মিত রাস্তাকে কেন্দ্র করে ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত সংকট প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। নেপাল রাস্তা নির্মাণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সীমান্তভূমি লিপুলেখ পাস,লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে একটা নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে নেপাল এবং এটা নেপালের পার্লামেন্টে পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে। এ তিনটা নতুন এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে নেপালের সংবিধানেও সংশোধনী এনেছে দেশটার সরকার।ভারত অবশ্য নেপালের নতুন মানচিত্র প্রত্যাখ্যান করে এ মানচিত্রকে কার্টোগ্রাফিক দাবি এবং একটা আন্জ্ঞলিক দাবির কৃত্রিম সম্প্রসারণ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং বর্ণিত তিনটে জমি তার নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করেছে।
অর্থ্যা, লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি ভূখন্ডগূলো ভারত বা নেপালের অংশ কিনা এনিয়ে বিতর্ক ও দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
নেপালের গবেষকরা দাবি করেন যে,কালাপানির পশ্চিমে প্রবাহিত মূল কালী নদী,লিম্পিয়াধুরা বা নিকটবর্তী লিপুলেখ পাস,উভয়ই নেপালের ভূখন্ডের অন্তর্গত। অন্যদিকে, ভারত তার অংশ হিসেবে যুক্তি দেখায় যে,কালী নদীর উদ্ভবটি পানখাগড় নামের একটা ছোট উপত্যকার থেকে হয়েছিলো, যা কালাপানির দক্ষিণ অংশে অবস্হিত এবং পরবর্তী অংশে এ অন্জ্ঞলের পূর্ব অংশটা প্রকৃত সীমানা এবং সেকারণে এ অন্জ্ঞলকে ভারতের ভূখন্ডের অংশে পরিণত করেছে। ভারতের দাবি,লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি প্রকৃতপক্ষে, ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পিথোরাগড় জেলার অংশ।অথচ নেপাল দাবি করছে, কুঠি নদীর পূর্ব তীর পর্যন্ত হলো নেপালের সীমানা এবং লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি, ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পিথোরাগড় জেলার অংশ নয়,এসকল অন্জ্ঞল নেপালের সূদুরপাশিম প্রদেশের (ধারচুলা)মহাকালী জেলার অংশ।আর এ দাবি প্রতিষ্ঠার জন্যই নেপাল সরকার জোর প্রচেষ্টা শুরু করেছে।
তবে,লিপুলেখ গিরিপথের কিনারা থেকে লিম্পিয়াধুরা পর্যন্ত যে অন্জ্ঞলকে সম্প্রতি নিজেদের মানচিত্রের মধ্যে সংযোজন করেছে নেপাল,সে অন্জ্ঞল কিন্তু স্বাধীনতাপ্রাপ্তির সময় থেকেই ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করছে ভারত সরকার।ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০১৫ সালের আগে নেপাল এসকল ভূখন্ডের ওপর কোনো দাবি উত্থাপন করেনি,এটা কেবল ২০১৫ সালের পর থেকে এসকল ভূখন্ডের ওপর মালিকানা দাবি করতে শুরু করেছে নেপাল।২০১৯ সালের নভেম্বরে ভারত সরকার রাজনৈতিক মানচিত্রের একটা নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেছিলো এবং ঐ মানচিত্রেও “কালাপানি”অন্জ্ঞলকে ভারতের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছিলো।
ভারত আরও যুক্তি দেখায় যে,ধরচুলা থেকে লিপুলেখ পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে নেপাল কোনো আপত্তি জানায়নি। তবে এ রাস্তা তৈরির ও উদ্বোধনের সময়েই কেবল নেপাল এ মহাসড়কের বিষয়ে প্রতিবাদ উত্থাপন করে,যা উদ্দেশ্যমূলক এবং অন্যের উসকানিতে করছে বলে মনে করে ভারতীয়রা। ভারতকে চাপে রাখতে, ভারতের অস্বস্তি আরও বাড়াতে নেপালকে কাজে লাগাচ্ছে চীন, এমনটাই মনে করছেন ভারতের প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অনেকে,এমনকি ভারতীয় সেনাপ্রধানও তাই মনে করেন।
প্রকৃতপক্ষে,দক্ষিণ এশিয় কূটনীতিতে কালাপানি অন্জ্ঞল কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটা ভারত,চীন ও নেপালের মধ্যে ত্রি-সংযোগ হিসেবে কাজ করে।দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বৃদ্ধি ও আধিপত্য স্হাপনের জন্য ভারত ও চীনের মধ্যে একটা দৃশ্যমান প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। এক্ষেত্রে নেপালের কৌশলগত অবস্হানকে কাজে লাগানোর প্রতিযোগিতায় ভারত ও চীন,উভয় দেশই তৎপর রয়েছে। নেপালের সাথে ভারতের সম্পর্ক অতি পুরানো।অন্যদিকে, চীনও নেপালের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্দেশ্যে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে।
দু’দশকেরও বেশি সময় পরে গত বছরের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো কোনো রাষ্টপ্রধান হিসেবে নেপাল সফর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের “নতূন যুগের সূচনা”হিসেবে চিহ্নিত করেছে চীন ও নেপাল।উভয় দেশের রাষ্টপ্রধানরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটা”বিস্তৃত”অংশীদারত্ব থেকে একটা”কৌশলগত”অংশীদারিত্বের দিকে উন্নত করার সিদ্বান্ত নিয়েছেন।এসময় উভয় নেতা ২০-টা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।নেপালী জনগণের মানোন্নয়নে চীনা প্রেসিডেন্ট মিঃ শি -২০২০ হতে ২০২২ সালের মধ্যে নেপালের জন্য চারশ তিরানব্বই বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা করেন।আর নেপাল চীনের বেল্ট এন্ড রোড উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য স্বাক্ষর করে।এদিকে মিঃ শি, নেপালকে “ল্যান্ডলকড কান্ট্রি”থেকে উত্থরণে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চীন ও নেপাল একটা বিস্তৃত পদ্বতিতে সকল ক্ষেত্রে পারস্পরিক উপকারী সহযোগিতা আরও গভীরতর করার,যৌথ ভাবে সমৃদ্ধি অর্জনের এবং এ অন্জ্ঞলে শান্তি-স্হিতিশীলতা ও উন্নয়নের বিকাশে নিজেকে উৎসর্গ করার সূযোগ হিসেবে বেল্ট এন্ড রোড উদ্যোগ গ্রহণ করেছে”বলে উভয় দেশের রাষ্টপ্রধানগণের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে। চীন থেকে নেপালের বিনিয়োগ ও নেপালী বাজারগুলোতে চীনা পণ্যে সয়লাব হয়ে আছে। ক’বছর ধরে চীন-নেপালী বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন বর্তমানে নেপালের শীর্ষ বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগের অংশীদার। মোট কথা,চীন ও নেপালের মধ্যে সার্বিকঅর্থে,”ভূকৌশলগত”সম্পর্ কের নতূন দ্বার উম্মোচন করেছে,এতে ভারতের উদ্বেগ বেড়েছে। নয়াদিল্লী,-বেল্ট এন্ড রোড প্রকল্পে নেপালের অংশগ্রহণকে তীব্রভাবে বিরোধীতা করে বলেছে, এটা আন্জ্ঞলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ভারতীয় উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছে।
“নেপালে ঘোষিত চীনা পরিকল্পনাগুলো ভারতের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে”,বলেছেন নয়াদিল্লীভিত্তিক থিন্কট্যান্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক কে.ইয়োম।চীন অবশ্যই তার ভূকৌশলগত আন্জ্ঞলিক রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর সাথে বন্দ্বুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পর্ক স্হাপনের অংশ হিসেবেই নেপালের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে এগিয়ে এসেছে। চীন চাইছে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক তৈরি করে ভারতকে ঘিরে ফেলতে।ইতোমধ্যে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের সাথে চীনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে,ভূটানও চাইছে চীনের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন করতে।ইতোমধ্যে, নেপালের সাথে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্হাপিত হওয়ায় চীন কৌশলগত ভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় সুবিধাজনক অবস্হায় চলে এসেছে। ভারত মূলতঃ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় একা হয়ে পড়েছে। এ অবস্হায় ভারতকে চাপে রাখার জন্যই চীন-নেপালের ভারতীয় সীমানায় ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধে নেপালকে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হয় এবং নেপাল,চীনের মতো একটা বৃহৎ শক্তির সমর্থন পাওয়ার কারণেই ভারতের ন্যায় একটা বৃহৎ শক্তির বিরুদ্ধে সীমান্তে ভূমির অধিকার দাবি করে শক্ত অবস্হান নিতে সক্ষম হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন,ভারতও তাই মনে করে।এ দৃষ্টিকোণ থেকে, ভারত ও নেপালের বর্তমান বৈরিতাকে,দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের আন্জ্ঞলিক কৌশলগত শক্তির মধ্যেকার দ্বন্দ্বের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
লেখক: আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

