ফেলে আসা দিনের ঈদের স্মৃতি

অনেকগুলো বছর দেশের বাইরে, তবুও ঈদ অনুভব হয় দেশের ঈদের দিন।
এখানকার ঈদ গুলো পানসে ! ঠিক যেমন দেশে থাকতে ঢাকায় ঈদ করলে মন পড়ে থাকতো গ্রামের বাড়িতে। দাদুর কাছে। এদেশে আসার পর ঈদে মায়ের কথা মনে হত বেশি। সকালে আম্মা সেমাই, খিচুড়ি, গোস্ত রান্না করতেন। ঈদের কেনাকাটা ছিল অনেক আনন্দের। ঈদের চাঁদ দেখা, ঝুমতে ঝুমতে রাত জেগে হাঁতে মেহেন্দি দেয়া। ঈদের দিন ঘুরে ঘুরে সালামী সংগ্রহ। এখানে বাচ্চাদের সেই আনন্দের সাথে পরিচিত করাতে পারিনি কখনো। পোশাক নিয়ে ওদের কোন অস্থিরতা নেই।
আমাদের ছোট বেলায় ঈদের পোশাক লুকিয়ে রাখা হত, কেউ যেন দেখে না ফেলে! একবার পাশের বাড়ির আছিয়া প্রিন্টের থান কাপড় দেখিয়ে মন খারাপ করে জানালো, এটা তার ফ্রকের কাপড়! দেখে আমার ও মন খারাপ হয়েছিল। আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের কিশোরীদের সে বছরের ঈদের ফ্যাশন ছিল স্কার্ট ! আমি একটি গিফট পেয়েছি, একটি আম্মা কিনে দিয়েছেন ঘরে সেলাই করে দিয়েছেন আরেকটি ফ্রক।
আছিয়া মা বাবার এক মেয়ে, পাঁচ ভাইয়ের একমাত্র বোন, ঈদে ও এমন প্রিন্টের ফ্রক পরবে ভেবে কষ্ট ও পেলাম।
ঈদের সকালে তার ছোট ভাই আলম এলো সালামি নিতে। ঘাড়ে ভাঁজ করা কাপড়, যেমন করে গামছা ঝুলানো হয় তেমন করে। আম্মা জানতে চাইলেন তার ঈদের পোশাক কই, সে জানালো এটি তার শার্টের কাপড়! শার্ট সেলাই করা হয়নি, কাপড়টি বোনের অধীনে ছিল। দুষ্টু বোন ছোট ভাইয়ের কাপড় পাড়ার সকলকে দেখিয়ে বলেছে সেটি দিয়ে ঈদের ফ্রক বানাবে, আমরা বিশ্বাস ও করেছিলাম।
সুন্দর একটি স্কার্ট ঈদের পোশাক ছিল সে বছর আছিয়ার!
এমন ঠক খাওইয়াতেও ঈদ ঈদ আনন্দ মিশে থাকতো!
আর গ্রামের বাড়িতে ঈদের আনন্দ বহুগুণ বেড়ে যেত।সেখানে পোশাক দেখা আর দেখানোর বাহাদুরি থাকতো না। রোজার ঈদকে আমাদের গ্রামে বলা হয়, ছোট ঈদ।
ঈদে নতুন পোশাক কেনা হলে আম্মা আব্বা ভীষণ আনন্দ পেতেন।
বাচ্চাদের জন্য কেনার মধ্য আনন্দ অনেক বেশি। ছেলেটি যখন ছোট ছিল তার জন্য ঈদের পোশাক বিছানার পাশে রেখে দিতাম। ঘুম হতে উঠে খুশি হত। সেমাই তার পছন্দ নয়, তার জন্য রসগোল্লা বানাতাম।
এ বছর হয়নি, জীবনে এই প্রথম বাচ্চাদের জন্য ঈদের কোন কিছু কেনা হয়নি।
এ বছর আমি আমার সন্তানদের কাছ হতে ঈদ উপহার পেয়েছি।
মামুন, ফারিয়া, করিন, এরিক, সার্কিট আমার স্নেহের সন্তানরা তোমাদের ভালোবাসা আমাকে এখনো সুস্থ রেখেছে।
উপহার দিয়ে নয়, কিশোর বেলার পর এই প্রথম উপহার পেয়ে ভিন্ন রকম একটি ঈদ উদযাপন করলাম।
সকলকে ছোট ঈদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

আইরিন পারভীন,

যুগ্ম সম্পাদক , শুদ্ধস্বর ডটকম ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.