ছবি কথা বলে, বলে দেশ ও দশের কথা

 

ছবি কথা বলে, যার ছবি তার কথা বলে। আজ আমি হাজারও ছবির ভিতর শুধু দুটো ছবি নিয়ে লিখব । যে ছবির গুলোর সাথে জড়িত থাকে কোন কোন বিষয় তা নিয়ে। সে বিষয় গুলো হচ্ছে, আচার-আচরণ, গুণ গরিমা, বিচার-বিবেচনা, আদর্শ, ইতিহাস, অতীত, বর্তমান ভবিষ্যৎ ভালো মন্দের সব কিছুই, যার কোনোটার চাইতে কোনোটাই কম নয় আর এই ছবি বুঝতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাই যথেষ্ট।
আমাদের বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রতিকার ও প্রতিহত করার প্রয়োগে, যে শিক্ষার প্রয়োজন তা বই পূস্তকে থাকলেও ব্যাক্তি গুণাবলির নাম যে শিক্ষা তার প্রয়োগ নেই যা একটি জাতির উত্থান ও পতন, উন্নতি অনুন্নতির মূল চিত্র তুলে ধরে ।

ধরে নেওয়া যাক কোথাও জমি নিয়ে এক গ্রামের লোকজন অন্য গ্রামের লোকজনের উপর ঝাপিয়ে পড়ছে মধ্যযুগীয়  কায়দায়।
ছুরি, কাস্তে কোদাল, রাম দা, বল্লম তীর ধনুক নিয়ে। এতে কি প্রকাশ পাচ্ছে? পৃথিবী কি দেখছে?
দেখছে, দেশটি এখনও বর্বরতার যুগে অবস্থান করছে। দেশটির মানুষের মাঝে অমানবিক আচরণ ও শাসিত সরকার আইনের শাসন কায়েম করতে ব্যার্থ । আইন শাসিত সরকারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সেই সরকারের শাসন কালে আইন হাতে নেওয়া একটা গুরুতর অপরাধ । আর যদি ঘটে তার প্রধান কারণ সরকার আইনের শাসন কায়েম করতে ব্যার্থ তা আমলে নেওয়া।
সরকার করোনা পরিস্থিতিতে আর্মি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে তার চেইন অব কমান্ড ১০০% মানবতার পক্ষে। তাই অমানবিক আচরণের ক্ষেত্রে জনগণকে কঠোর হস্তে দমন করার সক্ষমতা রাখে।
তাই সময় এসেছে প্রয়োজনে মাসের পর মাস আর্মি দিয়ে এমন আচরণ করার কারণে লকডাউন করে রাখা। এমন সামাজিক ব্যাধি করোনার চাইতেও কম নয়। যা ঘটছে এবং ঘটে আসছে একটা মাত্র কারণেই আর তা হচ্ছে এ গুলোর সঠিক বিচারের আওতায় না নিয়ে আসার কারণে। যা ব্যার্থ বিচার ও আইন বিভাগকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ।
কামনা থাকবে বাংলাদেশের এমন ছবি যেনো আর বিশ্বের দরবারে না আসে আর সমস্ত জাতিকে আসামি হতে হয় এর একটি সমাধান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি এ আমার বিনীত অনুরোধ। হঠাৎ দেখা যায় বর্বরোচিত কায়দায় কোথাও গাছ অথবা কোথাও বেঁধে কারো উপর পাশবিক অত্যাচার চলছে যা সোসাল মিড়িয়াতে ভাইরাল হচ্ছে কিন্তু আইন হাতে নেওয়ার প্রবণতা থেকে জনগণকে আইনের  পথে নিয়ে আসা বিশেষ প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ।

দ্বিতীয়তঃ ছবিতে প্রবাসী কর্মজীবীদের চিত্র। এর বৃহত্তর একটি অংশ আরব দেশ গুলোতে কর্মরত আছে যারা প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার  স্বীকার ঐ সমস্ত দেশ গুলোতে যা আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে একটা সুরাহা নিয়ে আসতে পারি। আমরা ধর্মপ্রাণ জাতি। আমরা ধর্মীয় বিশ্বাসে সৌদি আরব ও আমিরাতের দেশ গুলোতে লেবাস বা পোশাক পরিধানে মিশে যাই দেশ গুলোর সংস্কৃতিতে কিন্তু আমরা ভাষাগত দিকের মূর্খতার পরিচয় দিয়ে থাকি কারণ আমাদের দেশে, মক্তব, মাদ্রাসা গুলোতে ভাষা শেখার পদ্ধতিতে আরবি শেখানো হয় না যার প্রয়োজনীয়তা অত্যাবশ্যক।

এতে যেমন ইসলাম ও কোরাণ কি বলে তা বুঝে পড়তে পারা ও ইসলামে আলোকে জীবন পরিচালনায় মানবিক গুণবিকাশে শিক্ষার চিত্র যেমন প্রবাসীরা দিতে পারছে  তেমনই পারছে  ভাষাগত দিকে অগ্রসর হয়ে নিজ অধিকার আদায় করতে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কয়েক শত কোটি টাকা ইদানীং মসজিদ মাদ্রাসা গুলোতে অনুদান দিয়েছেন। আমি সাধুবাদ জানাই কিন্তু এই অর্থ যদি আরবি ভাষা শেখার পদ্ধতিতে শিক্ষা ব্যবস্থায় দিতেন তবে আমার দৃষ্টিতে এটা হতো যুগান্তকারী পদোক্ষেপ। আগামীতে গড়ে উঠতো আরবি ভাষা শিক্ষার জনগোষ্ঠি, যার বিশেষ প্রয়োজন।
হাফেজী বা না জেনে না বুঝে পড়তে পারাকে কে যদি ভাষায় শেখার তাগিদে ভাষা হিসাবে শেখানো হয় তবে তাদের ভাষাগত শিক্ষায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। এবং এই জনগোষ্ঠীর যখন আরব দেশ গুলোতে কর্মজীবী হয়ে সন্মানের সহিত, ভাষাগত দিকে অগ্রাধিকার নিয়ে মাথা উচু করে জীবীকা অর্জন করতে ্পারবে ।
এক মাত্র ভাষাগত কারণ এদের তাচ্ছিল্য করা হয় মিসকিন হিসাবে। দেওয়া হয় অমানবিক কাজ। অন্যদিকে আমাদের পাশের দেশ ভারত, বহুজাতি বহু ভাষীক দেশ হওয়াতে ইংরেজি এদের যোগাযোগের মাধ্যম হওয়ায় তারা কথা বার্তায় আরব দেশ গুলোতে ভাষাগত সুবিধা পাচ্ছে ইংরেজিতে কিন্তু আমরা ইংরেজিতে পারদর্শী না হলেও আরবি ভাষার অগ্রাধিকার দিয়ে শুধু সরকারের শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনই যথেষ্ট। কেনো এই বিশেষ প্রয়োজনটা মাথায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে না তা আমার বোধগম্য নয়।
এ ক্ষেত্রে বিনীত অনুরোধ থাকবে, শিক্ষামন্ত্রণায় ও প্রবাসী কল্যাণমন্রণায়ের প্রতি বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসা হোক। প্রয়োজন আমাদের জাতিগত উৎকর্ষ সাধনে সহায় সঠিক পদক্ষেপে সেই প্রত্যাশায় আজকের প্রতিবেদন।

মায়েদুল ইসলাম তালুকদার , প্রবাসী কবি এবং লেখক ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.