ক্রস রেজিস্ট্যান্স, হুঁশজ্ঞাণ এবং আর্মি

গত কয়েকদিন যাবৎ লক্ষ্য করছি, করোনা ভয়াবহতার মাঝে দেশে কিছু ব্যক্তিগণ, কিছু ছোটখাটো সংগঠন ঢাকা শহর সহ জেলা উপজেলায় গরিব ও মেহনতি মানুষদের হাতে সামান্য কিছু হলেও বর্তমান জীবনের প্রয়োজনীয় সামগ্রিক, যেমন সাবান, মাস্ক বা জীবানুনাশক জাতীয় তরল পদার্থ অথবা কিছু খাদ্য দ্রব্য পৌঁছে দেবার চেষ্টা করছেন। এটা ভালো খবর, অন্তত একটা প্রচেষ্টা আছে।  অন্যদিকে সরকার বিশদভাবে  ত্রাণসামগ্রী সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমে দেবার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সমস্যাটি হচ্ছে ভয়ঙ্কর এই করোনায় প্রথম জরুরি কাজটি হলো মানুষের সাথে মানুষের দূরত্ব বজায় রাখা এবং শতভাগ রাখা। যা কিনা সরকার থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, দেশকে লক ডাউন করা হয়েছে, কিছু বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে । এই জরুরি কর্মটি সমাধান করার জন্য সরকার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকেই কাজে লাগাচ্ছেন । এমন সব কাজে আমাদের দেশে সবচাইতে বড় ভরসা আর্মি, সেই আর্মিকেও সরকার কাজে বলবৎ করেছে। তারপরেও কোথায় যেন একটা ঘাপলা লেগেই আছে !

সমন্বয়হীনতা, দূরদর্শীতার অভাব এবং নিজেদের প্রচারের প্রবণতা, এগুলো সব ভালো উদ্যোগকে গুলিয়ে ফেলছে। কেবলমাত্র নিয়ম শৃঙ্খলা বাহিনী আর্মিই কাজটি ভালো এবং নিয়ম/ বিধান মেনে সঠিকভাবে করছে বলেই মনে হচ্ছে। অবশ্য আমরা আর্মির কাছে সেটা সব সময় পেয়েছি এবং আশা করি। কিন্তু সরকারের ভিন্ন প্রশাসনগুলো যে লাউ সেই কদু হয়েই আছে ! তাদের হুঁশজ্ঞাণ মনে হচ্ছে যে শিবিরে ছিলো সেই শিবিরেই ঘুরপাক খাচ্ছে ।

অনেকগুলো ছবি এখানে জুরিয়ে দেও যাবে। যা কিনা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বত্রই ঘুরে বেড়াচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ভেবে আর ছবিগুলো এড করলাম না । তবে সরকারকে বলবো ত্রাণ দেবার নামে ( বর্তমানে ব্যক্তিগত বা সংগঠনের  ) যা হচ্ছে, তা আরো ভয়ানক হবে। এক্ষুনি আপনার প্রশাসনের মোটামাথা ওয়ালাদের কড়া নির্দেশ দিন। নতুবা সব দায়িত্ব আর্মির হাতে দিন। করোনার এই ভয়াবহতায় অগোছালো বা যেমন তেমনভাবে কিছু করলে, আগামীতে দেশে করোনার বন্যা, জনসমাগম আর জনমানুষের কাছ থেকেই প্লাবন হয়ে আসবে। আগেভাগেই সাবধান হোন।

কিছু ভিন্ন কথা বলার ভীষণ প্রয়োজন বোধ করছি। আমরা অনেকেই গত তিন সপ্তাহ যাবৎ করোনা নিয়ে নিয়মিত লিখেই যাচ্ছি । হয়তো বা আমাদের অনেকের লেখায় নানান ভাবে আলোচনা বা কড়া সমালোচনা থাকে। সরকার থেকে শুরু করে, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা  অনেক কিছুকেই আমরা সমালোচনা করছি। বলার বা মত প্রকাশ করার একটা স্বাধীন মাধ্যম এই ফেইসবুক আছে বলেই বলা যাচ্ছে  এবং এটাও স্বীকার করতেই হবে ফেইসবুকের অপব্যবহার হলেও,  আনেক  কঠিন সত্য এই যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বের হয়ে এসেছে বরাবরের মতন। একটি উদাহরণ দেই , ধরুন সেই এসি ল্যান্ডের কথা। যেখানে অমানবিকতার চরমতা ছিলো। সেটা কিন্তু এই ফেইসবুক থেকেই বেড়িয়ে এসেছে । সরকারও এই মাধ্যমের গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। লক্ষ্য  করুন, সেই এসি ল্যান্ড কাহিনীতে, সরকারের সঠিক পদক্ষেপের কল্যাণে , এখন আর সেটা কোনো সাবজেক্ট নয় এবং সরকারের অনেক কর্মকর্তাই সাবধানতা গ্রহণে তৎপর হবে বলে আশা রাখতে চাই ।

লক্ষণীয় যে, আমাদের সরকারের উপর মহল এখন এই করোনা নিয়ে বেশ উঠেপড়ে লেগেছে বলেই মনে হচ্ছে । অনেক অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মকা জনগণের কল্যাণের কথা ভেবেই পরিচালিত হবে বলেই বিশ্বাস রাখতে চাই এবং সদিচ্ছার লক্ষণ দেখতে পাবো বলে আশা করি । যা সত্যি স্বস্তিকর হতে পারে । তবে যে কারণেই হোক দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর লাজুক অবস্থা । দেশের সকল প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাগণেরা কেবলমাত্র  চাটুকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, এটাই মহাসত্য কথা। কেননা জনগণ ইতিপূর্বেও দীর্ঘদিন যাবৎ তাই দেখে আসছে। আরো বড় প্রমাণ আজকে  ( লেখা যখন লিখছি, হবে গতকাল) প্রধানমন্ত্রীর সাথে জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত বড় বড় কর্মকর্তাদের কথাবার্তায়ও তাই মনে হয়েছে। তাদের মুখে কোনো অপ্রিয় সত্য একটি বাক্যেও প্রধানমন্ত্রী নিকট পৌঁছায়নি। তাদের কথাবার্তায় মনে হচ্ছিলো আমাদের দেশে সকল জেলায় জেলায় করোনা নিয়ন্ত্রণের জনা সব ঠিকঠাক চলছে, কোনো কিছুর অভাব নাই, ইত্যাদি ইত্যাদি । যা মোটেও সত্য নয় বলেই বুঝা যায় । সেটাই সব চাইতে ভয়ের কারণ। কেননা যে সকল প্রতিষ্ঠান দিয়ে সরকার মূলত সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন, এমন দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় , তারা যদি সঠিক পদ্ধতিতে কর্ম পরিচালনা না করেন বা অবহেলা করেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য হবে এবং দেশ ঝুকির মধ্যে পড়বে। কেন এই কথা বললাম। লক্ষণীয় যে আজকেই প্রধানমন্ত্রীকে পিপিই কারা ব্যবহার করতে পারবে, সেটাও বলে দিতে হয় । আবার ত্রাণ বিতরণে যদি অন্যায় অবিচার বা দূর্ণীতি হয় তাদেরকে কঠিন শাস্তির আওতায় আনার আলাদা হুকুম দিতে হয় বা ছাড় দেওয়া হবে না ঘোষণা দিতে হয় ।

কি অদ্ভুত বিষয় । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন কোন কাজটি করবেন ? ব্যবস্থাপনা না প্রশাসনের অনিয়মের তদারকি  ?  আমাদের সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই কাজের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করে না । কঠিন সত্য হলো এরা সবাই থাকে নিজের পকেট ভর্তি করার ধান্দায় বা কামানোর ধান্দায় বা দূর্ণীতিতে। এরা হঠাৎ করেই মহামারীর কারণে শুদ্ধরিয়ে যাবে বলে জনমানুষ অন্তত বিশ্বাস করে না বলেই মনে হয়। তাই বলছিলাম এমন মহামারীতে ত্রাণ কর্মে অঘটনে করোনা আরো বিপদ হয়ে দেখা দেবার পূর্বেই আর্মির হাতে দায়িত্ব দিলেই নিরাপদে সকল কিছু হবে এবং দেশে করোনার বিপদ কমবে।

ক্রস রেজিস্ট্যান্স বিষয় অল্প কিছু বলেই শেষ করবো। লক্ষণীয় যে আমাদের দেশে বায়ুদূষণের পরিমাণটি একটু বেশি। বাতাসে এমনিতেই শীসার পরিমাণ বেশি । তাছাড়া ধুলো- বালি- ময়লা- আবর্জনা তো আমাদের জীবনের নিত্যদিনের সঙ্গী । এটা নিশ্চিত যে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে আমাদের দেশের বাতাসে নানান ধরনের ভাইরাসের ছড়াছড়ি পরীক্ষা নিরীক্ষা না করেই বলা যায় বেশি। কেননা দেশে জনসংখ্যা বেশি, কোটি মানুষের শ্বাস প্রশ্বাস যে পরিমাণ নির্গমন হয়, এমনিতেই নানান রোগ বালাই বাতাসে ছড়িয়ে পরে, অর্থাৎ ভিন্ন অর্থে ভাইরাস। তারপরে আছে ফর্মালিনের ছড়াছড়ি । এই সব মিলিয়ে দেশের মানুষের শরীরের রেজিস্ট্যান্স পাওয়া সত্যি সত্যি একটু বেশিই বলে প্রতীয়মান হয় ।

তাছাড়াও আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষের শরীরে শিশুকাল থেকেই নানান ধরনের প্রতিরোধক টিকা দেওয়া থাকে। সেটাও শরীরের আলাদা একটা রেজিস্ট্যান্স অবশ্যই । অর্থাৎ আমাদের শরীরে নানানভাবে একটা ক্রস রেজিস্ট্যান্স বরাবরই আছে, যা কিনা এই করোনাকে একটু হলেও দমিয়ে রাখতে সাহায্য করবে নিশ্চিত ।  তেলাপোকা/ ছাড়পোকা / মশা/ মাছি/ পিঁপড়ে/ ইদুর/ চিকা/  টিকটিকি/  বোল্লা/ চেল্লা এই জাতীয় নানান কিছুর সাথে আমাদের নিত্যদিনের  বসবাস । এই সব কিছু থেকেই আমাদের শরীরে আলাদা প্রটেক্ট ক্ষমতা বা রেজিস্ট্যান্স এমনিতেই আছে। এতটা ভয়ের কিছুই নাই । তবে যেহেতু করোনা একটা নতুন ভাইরাস, এটার বর্তমান পর্যন্ত কোনো প্রতিশোধক নাই। সুতরাং করোনা  সমন্ধে বর্তমানে যে প্রক্রিয়াগুলো বিশ্ব হেল্থ অরগানাইজেশন থেকে দেওয়া আছে, সেটা মেনে চলতে পারলেই আমরা সর্বোচ্চ নিরাপদ থাকতে পারবো। বাজারে যত কথা চালু আছে, সেগুলোকে একেবারেই পাশে রেখে, আপাতত দুরুত্ব বজায় রাখা আর হাতধোয়া এই দুটো বিষয় সর্ব উত্তম পদ্ধতি । আসুন সবাই নিজেকে করোনা থেকে মুক্তি রাখার চেষ্টা করি। নিজে মুক্ত তো দশের মুক্তি ।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.